ঢাকা | বঙ্গাব্দ

পার্লামেন্টের প্রথম দিনেই স্পিকারকে সরাতে চায় নেতানিয়াহু বিরোধীরা

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Oct 30, 2026 ইং
পার্লামেন্টের প্রথম দিনেই স্পিকারকে সরাতে চায় নেতানিয়াহু বিরোধীরা ছবির ক্যাপশন:
ad728

নিজস্ব প্রতিবেদক মুক্ত কণ্ঠস্বর

ইসরায়েলের সদ্য সমাপ্ত জাতীয় নির্বাচনের পর থেকেই রাজনৈতিক অঙ্গনে তীব্র তোড়জোড় শুরু হয়েছে। দেশটির প্রধানমন্ত্রী এবং লিকুদ পার্টির প্রধান বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বীরা নতুন পার্লামেন্টের কার্যক্রম শুরুর দিনই বর্তমান স্পিকার আমির ওহানাকে অপসারণ করার পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে। বিশেষ করে নেতানিয়াহু বিরোধীদের এই বিশেষ জোটে ইসরায়েলের আরব জনগোষ্ঠীর প্রতিনিধি দলগুলোও সম্পৃক্ত রয়েছে এবং এই বিষয়ে তাদের মধ্যে ইতোমধ্যে একটি পারস্পরিক বোঝাপড়াও চূড়ান্ত হয়েছে।

গত মঙ্গলবার ইসরায়েলে এই জাতীয় নির্বাচন সম্পন্ন হয়েছে। নির্বাচন কমিশনের প্রকাশিত চূড়ান্ত ফলাফল অনুযায়ী, ১২০ আসন বিশিষ্ট পার্লামেন্টে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর নেতৃত্বাধীন উগ্র ডানপন্থী রাজনৈতিক জোট মাত্র ৫৩টি আসন অর্জন করতে সক্ষম হয়েছে। অপরদিকে, দেশটির সাবেক সেনাপ্রধান গাদি আইজেনকটের নেতৃত্বে গড়ে ওঠা বিরোধী জোট লাভ করেছে মোটে ৪৮টি আসন। এছাড়া, আরব দলগুলোর জোট জয়েন্ট লিস্ট এবং রাআম দল যৌথভাবে ১৯টি আসনে বিজয় লাভ করেছে।

ইসরায়েলের আইনসভা বা নেসেটে এককভাবে বা জোটগতভাবে সরকার গঠন করতে হলে কোনো পক্ষকেই ন্যূনতম ৬১টি আসন নিশ্চিত করতে হয়। সেই হিসেবে বিচার করলে দেখা যায়, নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বী কোনো দল কিংবা জোটই সরকার গঠনের জন্য ম্যাজিক ফিগার হিসেবে পরিচিত এই প্রয়োজনীয় সংখ্যক আসন অর্জন করতে পারেনি। তা সত্ত্বেও, গাদি আইজেনকটের বিরোধী জোট যদি তাদের এই আসন সংখ্যার সাথে জয়েন্ট লিস্ট কিংবা রাআমের মতো আরব দলগুলোকে যুক্ত করতে পারে, তবে তারা অনায়াসেই সরকার গঠন করার মতো প্রয়োজনীয় সংখ্যাগোরিস্তা অর্জন করতে পারবে।

বর্তমানে সরকার গঠন প্রক্রিয়া চূড়ান্ত করার লক্ষ্যে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলগুলোর ভেতর দফায় দফায় দরকষাকষি ও হিসাব-নিকাশ চলমান রয়েছে। এই পরিস্থিতিতে গত শুক্রবার সংবাদমাধ্যম চ্যানেল ১২-এর একটি বিশেষ টকশো অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে ডেমোক্র্যাটস দলের শীর্ষ নেতা ইয়ার গোলান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি মন্তব্য করেন। তিনি পরিষ্কার জানিয়ে দেন যে, নেসেটের আইনপ্রণেতাদের আনুষ্ঠানিক শপথ গ্রহণের পরপরই তাদের সর্বাগ্রে এবং প্রথম কাজ হবে বর্তমান স্পিকারকে বরখাস্ত করে নতুন স্পিকার নির্বাচন করা।

ইয়ার গোলানের ঘোষণা অনুযায়ী, স্পিকার অপসারণের পর পরই পার্লামেন্টের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও প্রভাবশালী বিভিন্ন স্থায়ী কমিটির প্রধানদের পদে নতুন মুখ নিয়োগ দেওয়া হবে। আগামী ১০ নভেম্বর ইসরায়েলের নতুন পার্লামেন্টের উদ্বোধনী অধিবেশন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। সরকার গঠন নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে নানা নাটকীয়তা ও আলোচনা অব্যাহত থাকলেও, পূর্বনির্ধারিত ওই নির্দিষ্ট দিনেই নবনির্বাচিত আইনপ্রণেতাদের নিজ নিজ পদে শপথ নিতে হবে।

আসন্ন আগামী ১০ নভেম্বর পার্লামেন্টের উদ্বোধনী দিনে শপথগ্রহণ পর্ব শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলো—যেমন ইয়াশার, বি’ইয়াচাদ, ডেমোক্র্যাটস, ইসরায়েল বেইতেনু এবং আরব দল জয়েন্ট লিস্ট ও রাআম—একত্রিত হয়ে শক্ত অবস্থান নিলে খুব সহজেই স্পিকারকে পদচ্যুত করতে সমর্থ হবে।

পদচ্যুত হতে যাওয়া বর্তমান স্পিকার আমির ওহানা ক্ষমতাসীন লিকুদ দলের একজন শীর্ষস্থানীয় নেতা এবং প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর অত্যন্ত ঘনিষ্ট ব্যক্তি হিসেবে পরিচিত। প্রখ্যাত রাজনৈতিক বিশ্লেষক বারাক সেরি সংবাদমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন যে, আমির ওহানাকে স্পিকারের পদ থেকে সরিয়ে দেওয়ার বিষয়ে বিরোধী শিবিরগুলোর মধ্যে ইতিমধ্যে পূর্ণাঙ্গ সমঝোতা হয়ে গেছে। তবে বিরোধী জোটের পক্ষ থেকে নতুন স্পিকার হিসেবে শেষ পর্যন্ত কাকে মনোনীত বা দায়িত্ব দেওয়া হতে পারে, সে বিষয়ে বারাক সেরি সুনির্দিষ্ট কোনো তথ্য প্রকাশ করেননি। যদিও বিভিন্ন গণমাধ্যমের প্রকাশিত প্রতিবেদনে সম্ভাব্য নতুন স্পিকার হিসেবে দেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইয়ার লাপিদের নাম অত্যন্ত জোরালোভাবে আলোচিত হচ্ছে এবং তাকেই এই পদে বসানো হতে পারে বলে গুঞ্জন রয়েছে।

সূত্র: জাতীয় দৈনিক আমার সকাল টিম।


নিউজটি পোস্ট করেছেন : জাতীয় দৈনিক মুক্ত কণ্ঠস্বর

কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
অন্তর্বাস পরে অ্যাকশন দৃশ্যের চাপে রাধিকা আপ্তে

অন্তর্বাস পরে অ্যাকশন দৃশ্যের চাপে রাধিকা আপ্তে