নিজস্ব প্রতিবেদক মুক্ত কণ্ঠস্বর
পদ্মায় ও যমুনায় মা ইলিশ সংরক্ষণের সরকারি নিষেধাজ্ঞা শেষ হলেও জেলেদের জালে কাঙ্ক্ষিত মাছ ধরা পড়ছে না। নদীতে পর্যাপ্ত ইলিশের দেখা না পাওয়ায় চরম হতাশার মুখে পড়েছেন স্থানীয় মৎস্যজীবীরা।
নদীতে ইলিশের আকাল দেখা দেওয়ার সুনির্দিষ্ট কারণগুলো তুলে ধরেছেন জেলে আব্দুর রাজ্জাক। তাঁর মতে, নদীর তলদেশ ভরাট হয়ে নাব্য সংকট তৈরি হওয়া, অসংখ্য ডুবোচর জেগে ওঠা, ভাটি অঞ্চলে বাঁধ নির্মাণ এবং যত্রতত্র কারেন্ট জালের ব্যবহারই এর জন্য দায়ী।
আব্দুর রাজ্জাক আরও ব্যাখ্যা করেন যে, ইলিশ মূলত গভীর জলের একটি প্রজাতি। প্রজনন প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে ডিম ছাড়ার তাগিদে এগুলো এই নদ-নদীতে প্রবেশ করলেও নদীর গভীরতা মারাত্মকভাবে হ্রাস পাওয়ায় মাছগুলো আর আগের মতো সচ্ছন্দে আসছে না।
এছাড়া ভাটির দিকের বাঁধগুলো এবং নদীর বিভিন্ন পয়েন্টে পেতে রাখা কারেন্ট জালের কারণে মাছগুলোর অবাধ ও স্বাভাবিক বিচরণ মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত হচ্ছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
শিবালয় উপজেলার সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা সাথী রানী নিয়োগী একই ধরনের সমস্যার কথা নিশ্চিত করে জানান, নদীগুলোর তলদেশে ডুবোচর সৃষ্টি, নাব্য হারিয়ে ফেলা, জাল দিয়ে পথ আটকে রাখা এবং পানি দূষণসহ বহুবিধ প্রতিকূলতার কারণেই মূলত এবার পদ্মা ও যমুনাসহ বিভিন্ন নদ-নদীতে ইলিশের এমন স্বল্প উপস্থিতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, ইলিশ গভীর জলের মাছ হওয়ায় স্বাভাবিক চলাচল পছন্দ করে। এর গতির পথে যদি কোনো ধরনের বাধা তৈরি হয়, তবে মাছগুলো আর সামনের দিকে অগ্রসর না হয়ে উল্টো পথ ধরে ফিরে যায়। আর এই জটিলতার জন্যই কাঙ্ক্ষিত পরিমাণে ইলিশ শিকার করা সম্ভব হচ্ছে না।
এদিকে নদীমুখো জেলেদের সরকারি সহযোগিতার দিকটি তুলে ধরে মৎস্য কর্মকর্তা সাথী রানী নিয়োগী জানান, মা ইলিশ সুরক্ষার অভিযান শুরুর পর থেকেই প্রশাসন থেকে সহায়তা প্রদান করা হয়েছে।
এর অংশ হিসেবে কেবল শিবালয় উপজেলার তালিকাভুক্ত মোট ২ হাজার ৪৭৩ জন নিবন্ধিত জেলেকে ভিজিএফ কর্মসূচির আওতায় ২৫ কেজি করে চাল সহায়তা দেওয়া হয়েছে।
তিনি বিস্তারিত জানিয়ে বলেন, এই বিশেষ বরাদ্দের আওতায় উপজেলার জেলেদের মাঝে সবমিলিয়ে মোট ৬১ দশমিক ৮২৫ মেট্রিক টন চাল সফলভাবে বিতরণ সম্পন্ন করা হয়েছে।
সূত্র: আজকের পত্রিকা
জাতীয় দৈনিক মুক্ত কণ্ঠস্বর