নিজস্ব প্রতিবেদক মুক্ত কণ্ঠস্বর
বার্ধক্যজনিত জনমিতির সংকট এবং জনসংখ্যা হ্রাসের তীব্র চ্যালেঞ্জ পার করে এক চমৎকার সামাজিক রূপান্তরের মধ্য দিয়ে গেছে দক্ষিণ কোরিয়ার একটি বিশেষ জনপদ। দ্বীপ অঞ্চলের বাসিন্দাগণ এবং স্থানীয় প্রশাসনের যৌথ প্রচেষ্টায় এই এলাকাটিকে দৃষ্টিনন্দন করে তোলার পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছিল।
এই ঐতিহাসিক রূপরেখা বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে পুরো এলাকায় ৩০ হাজার অ্যাস্টার ফুল লাগানো হয়। একই সঙ্গে ২১ হাজার ৫০০ বর্গমিটার আয়তনের বিশাল এলাকাজুড়ে চাষ করা হয় ল্যাভেন্ডার।
ফুল আর রঙের এই ব্যতিক্রমী আয়োজনের আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি মেলে ২০২১ সালে। ওই বছর জাতিসংঘ পর্যটন সংস্থা এই অঞ্চলটিকে বিশ্বের সেরা পর্যটন গ্রামের মর্যাদা প্রদান করে।
সমুদ্রের নীল জলরাশির সঙ্গে বেগুনির নান্দনিক মিতালিতে এই ভূখণ্ডটি অত্যন্ত শান্ত ও মনোরম পরিবেশ তৈরি করেছে। মানবিক সৃজনশীলতা কীভাবে প্রকৃতির বুকে নতুন এক স্বপ্নের জন্ম দিতে পারে, এই পার্পল আইল্যান্ড তার এক অনুপম উদাহরণ।
বিশ্বজুড়ে এই দ্বীপের খ্যাতি ছড়িয়ে পড়ার পেছনে বড় ভূমিকা রয়েছে বিখ্যাত পপ ব্যান্ড বিটিএস এবং তাদের ভক্তগোষ্ঠী আর্মির। ২০১৬ সালে এই ব্যান্ডের অন্যতম সদস্য কিম তাইহিয়ুং বা ভি সর্বপ্রথম 'বোরাহে' কিংবা 'আই পার্পল ইউ' শব্দটির প্রচলন করেছিলেন।
কোরীয় সংস্কৃতিতে 'বোরা' বা বেগুনি রঙকে পারস্পরিক ভালোবাসা ও আজীবন সম্পর্কের প্রতীক হিসেবে গণ্য করা হয়। বিশ্বব্যাপী সমাদৃত সেই ভালোবাসার নিদর্শনস্বরূপ এই দ্বীপে নির্মাণ করা হয়েছে একটি বিশাল 'আই পার্পল ইউ' ভাস্কর্য।
এছাড়াও এখানে স্থাপন করা হয়েছে ছোট রাজপুত্র এবং একটি শিয়ালের শৈল্পিক ভাস্কর্য সংবলিত চমৎকার একটি স্মারক, যার নাম দেওয়া হয়েছে 'পার্পল মুন'।
ভৌগোলিক অবস্থানের দিক থেকে এই পর্যটন কেন্দ্রটি দক্ষিণ কোরিয়ার দক্ষিণ জোল্লা প্রদেশের সিনান কাউন্টিতে অবস্থিত। দেশটির রাজধানী সিউল থেকে সড়কপথে বাস বা ব্যক্তিগত গাড়িতে করে এখানে পৌঁছাতে প্রায় ছয় ঘণ্টা সময় প্রয়োজন হয়।
ভ্রমণপিপাসুদের জন্য এখানে একটি বিশেষ আকর্ষণ রয়েছে। কোনো পর্যটক যদি সম্পূর্ণ বেগুনি রঙের পোশাক কিংবা এই রঙের কোনো অনুষঙ্গ পরে আসেন, তবে তাকে কোনো প্রবেশমূল্য দিতে হয় না এবং বিনামূল্যে দ্বীপে প্রবেশের সুযোগ পাওয়া যায়।
এখানে বেড়াতে আসা মানুষের সুযোগ-সুবিধার কথা মাথায় রেখে বেশ কিছু ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। পর্যটকদের অবসর যাপন ও বিশ্রামের জন্য ক্যাফে, ঐতিহ্যবাহী খাবার পরিবেশনের রেস্তোরাঁ, সাইকেল ভাড়ায় নেওয়ার সুবিধা এবং ছোট আকারের হোটেল রয়েছে।
সূত্র: আজকের পত্রিকা
জাতীয় দৈনিক মুক্ত কণ্ঠস্বর