নিজস্ব প্রতিবেদক মুক্ত কণ্ঠস্বর
ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর একটি দলের হাত থেকে নিষিদ্ধঘোষিত সংগঠনের এক ছাত্রনেতাকে জোরপূর্বক ছাড়িয়ে নেওয়ার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় বিএনপি, ছাত্রদল এবং কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের কয়েকজন নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে এই চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটানোর অভিযোগ পাওয়া গেছে।
আজ শুক্রবার সন্ধ্যার দিকে উপজেলার সরিষা ইউনিয়ন পরিষদসংলগ্ন একটি ফুটবল খেলার মাঠের নিকটবর্তী এলাকায় এই অপ্রীতিকর পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়। পুলিশের গ্রপ্তারি অভিযান চলাকালে এই হট্টগোলের ঘটনা ঘটে।
পুলিশের হেফাজত থেকে ছিনিয়ে নেওয়া ওই ছাত্রনেতার নাম রিয়াজুল আলম ওরফে শাহীন। ত্রিশ বছর বয়সী এই ব্যক্তি ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলা ছাত্রলীগের প্রথম যুগ্ম সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্বে রয়েছেন। তাঁর গ্রামের বাড়ি উপজেলার সোহাগী ইউনিয়নের বগাপুতা গ্রামে।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সূত্রে জানা গেছে, অভিযুক্ত রিয়াজুল আলমের বিরুদ্ধে ঈশ্বরগঞ্জ থানায় মোট তিনটি ফৌজদারি মামলা নথিভুক্ত রয়েছে। এর মধ্যে গত ২০২৬ সালের ১২ আগস্ট এবং ২০২৫ সালের ৫ জানুয়ারি সন্ত্রাসবিরোধী আইনে দুটি এবং ২০১৬ সালের ২ আগস্ট মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে একটি মামলা রুজু করা হয়।
স্থানীয় লোকজনের ভাষ্যমতে, শুক্রবার বেলা তিনটার দিকে সরিষা ডেকুয়ারচর দাখিল মাদ্রাসা প্রাঙ্গণে রঙতরঙ্গ সংগঠনের উদ্যোগে বিবাহিত ও অবিবাহিতদের অংশগ্রহণে একটি প্রীতি ফুটবল ম্যাচের আয়োজন করা হয়েছিল। ওই টুর্নামেন্টের উদ্বোধন করেন সরিষা ইউনিয়ন বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক এমদাদুল্লাহ খান জামান। খেলা উপভোগ করার জন্যই সেখানে হাজির হয়েছিলেন ছাত্রলীগ নেতা রিয়াজুল।
পরবর্তীতে সুনির্দিষ্ট গোপন সংবাদের ভিত্তিতে আঠারবাড়ী রায়েরবাজার পুলিশ তদন্তকেন্দ্রের উপপরিদর্শক (এসআই) মোস্তফা মাজহারুল ইসলামের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল সেখানে সাঁড়াশি অভিযান চালায়। পুলিশ রিয়াজুলকে আটক করতে সক্ষম হলে রঙতরঙ্গ সংগঠনের বেশ কয়েকজন সদস্য তাতে প্রবল বাধা সৃষ্টি করেন।
একপর্যায়ে পুলিশের সঙ্গে সেখানে উপস্থিত সাধারণ মানুষ ও নেতাকর্মীদের হাতাহাতি ও ধস্তাধস্তির ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।
এ বিষয়ে ঈশ্বরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাজ্জাদ রোমন জানান, রিয়াজুলের বিরুদ্ধে মাদক ও নাশকতাসহ একাধিক গুরুতর মামলা রয়েছে। তাঁকে গ্রেপ্তার করতে গেলে স্থানীয় বিএনপি এবং কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষণা করা আওয়ামী লীগের কয়েকজন সদস্য পুলিশের কাছ থেকে তাঁকে ছিনিয়ে নিয়ে যান। প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, এই ঘটনায় বিএনপির স্থানীয় নেতা স্বপন ও মিলন এবং নিষিদ্ধ দলের কর্মীরা জড়িত ছিলেন।
তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, ধস্তাধস্তির ঘটনা ঘটলেও পুলিশের কোনো সদস্য এতে আহত হননি। পরিস্থিতির আকস্মিকতায় পুলিশ রিয়াজুলকে হাতকড়া পরানোর পর্যাপ্ত সুযোগ পায়নি। ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ পৌঁছানোর আগেই তাঁকে সরিয়ে নেওয়া হয়। এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত প্রত্যেক ব্যক্তির বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে সরিষা ইউনিয়ন বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক নূর আহাম্মদ ওরফে মিলন মিয়া দাবি করেন, ঘটনার সময় তিনি ঘটনাস্থলে ছিলেন না বরং দূরে একটি চায়ের দোকানে অবস্থান করছিলেন। রাজনৈতিক প্রতিপক্ষরা তাঁকে হেনস্তা করতে উদ্দেশ্যমূলকভাবে তাঁর নাম ছড়াচ্ছে বলে দাবি করেন তিনি।
এদিকে তাঁর বিরুদ্ধে আনীত সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছেন সরিষা ইউনিয়ন ছাত্রদলের সভাপতি হারুন অর রশিদ স্বপন। তিনি বলেন, ব্যক্তিগত শত্রুতার জেরে তাঁকে এই ঘটনায় জড়ানো হচ্ছে। তিনি নাকি উল্টো পুলিশকে বারবার আটক ব্যক্তিকে দ্রুত নিয়ে যাওয়ার অনুরোধ জানিয়েছিলেন।
অন্যদিকে ঘটনার বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানতে চাওয়া হলে আজ রাত সাড়ে দশটার দিকে সরিষা ইউনিয়ন বিএনপির আরেক যুগ্ম আহ্বায়ক এমদাদুল্লাহ খান জামান জানান, তাঁরা বর্তমানে বিষয়টি নিয়ে থানায় অবস্থান করছেন এবং বিস্তারিত পরে জানাবেন। এই কথা বলেই তিনি মুঠোফোনের সংযোগ কেটে দেন।
সূত্র: জাতীয় দৈনিক আমার সকাল টিম।
জাতীয় দৈনিক মুক্ত কণ্ঠস্বর