নিজস্ব প্রতিবেদক মুক্ত কণ্ঠস্বর
শেরপুর ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেলা সদর হাসপাতালে চিকিৎসাসেবা নিতে আসা চার বছর বয়সের এক শিশুর অভিভাবক মো. আব্দুল আলীম জানান, ভোর ছয়টার দিকে তাঁর সন্তানকে কুকুর কামড় দেয়। সকাল সাতটায় হাসপাতালে এসেও বেলা ১১টা পর্যন্ত কোনো টিকা পাননি তিনি। পাশাপাশি আনসার সদস্যরা বারবার তাদের বাইরে বের করে দিচ্ছেন বলেও অভিযোগ করেন এই স্বজন।
একই ধরনের সমস্যার কথা তুলে ধরেন আরেক রোগীর অভিভাবক মো. রোকন। তিনি উল্লেখ করেন, তাঁর মেয়ে বাড়ির সামনে অবস্থান করছিল, তখন একটি কুকুর পেছন দিক থেকে এসে তার পিঠে আঁচড় কাটে। হাসপাতালে এসে টিকা সংগ্রহ করতে দীর্ঘ সময় ধরে অপেক্ষা করতে হচ্ছে বলে জানান তিনি।
কৃষ্ণপুর দড়িপাড়া এলাকার স্থানীয় বাসিন্দা সেকান্দর আলী মন্তব্য করেন, অবিলম্বে ওই কুকুরটিকে চিহ্নিত করে আটক কিংবা নিয়ন্ত্রণ করা না হলে ওই এলাকায় সাধারণ মানুষের চলাচল চরম ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠবে। বিশেষ করে বিদ্যালয়গামী শিশু এবং কৃষিজীবী মানুষ সবচেয়ে বেশি বিপদের মুখে পড়বেন বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি।
অন্যদিকে, হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা মোট ৪৮ জনকে জলাতঙ্কের প্রতিষেধক টিকা দেওয়া হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন হাসপাতালের সহকারী রেজিস্ট্রার ডা. এ কে এম মাহমুদুল হাসান সোহাগ। তিনি জানান, সকাল ৯টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত আঘাতপ্রাপ্ত লোকজনকে প্রাথমিক চিকিৎসা ও টিকা প্রদান করা হয়েছে।
আহতদের মধ্যে তিনজনকে হাসপাতালে ভর্তি করে রাখা হয়েছে এবং বাকিদের প্রাথমিক চিকিৎসা প্রদান শেষে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে বলে জানান এই চিকিৎসক। এছাড়া বর্তমানে হাসপাতালটিতে টিকার যথেষ্ট মজুত রয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
সার্বিক বিষয়ে শেরপুর ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেলা সদর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. সাজ্জাদ হোসেন জানান, হাসপাতালে উপস্থিত সবাইকে সরকারের পক্ষ থেকে সরবরাহ করা টিকা সম্পূর্ণ বিনা মূল্যে প্রদান করা হয়েছে। পর্যাপ্ত জনবলের ঘাটতি থাকার কারণেই মূলত টিকা গ্রহণের জন্য বড় লাইন সৃষ্টি হয়েছিল বলে জানান তিনি। তবে শেষ পর্যন্ত সবাইকে যথাযথভাবে টিকা দেওয়া সম্পন্ন হয়েছে বলে তিনি নিশ্চিত করেন।
সূত্র: আজকের পত্রিকা
জাতীয় দৈনিক মুক্ত কণ্ঠস্বর