নিজস্ব প্রতিবেদক মুক্ত কণ্ঠস্বর
পাকিস্তানের ক্রিকেট দল মাঠে নেমেছে বিশেষ রঙের জার্সি গায়ে জড়িয়ে, যা ক্রীড়াঙ্গনে এক ব্যতিক্রমী উদ্যোগের জন্ম দিয়েছে। শুধু পাকিস্তানি খেলোয়াড়রাই নন, এই মহতী কার্যক্রমে একাত্মতা প্রকাশ করেছেন ইংল্যান্ড দলের সদস্যরাও। এছাড়া মাঠের ম্যাচ কর্মকর্তা এবং ধারাভাষ্যকারেরা সবাই এই সচেতনতামূলক কার্যক্রমে অংশ নিয়েছেন।
এই আয়োজনের মূল লক্ষ্য হলো স্তন ক্যানসারে আক্রান্ত রোগী এবং যারা মারণব্যাধিটিকে জয় করে সুস্থ হয়ে ফিরেছেন, তাদের প্রতি পূর্ণ সংহতি প্রকাশ করা। লড়াইয়ে থাকা মানুষগুলোর পাশে দাঁড়ানোর বার্তা দিতে ম্যাচের স্টাম্পগুলোতেও গোলাপি রঙের ব্যবহার করা হয়েছে।
পুরো স্টেডিয়াম চত্বরজুড়ে পিসিবির পক্ষ থেকে ক্যানসার সচেতনতামূলক গ্রাফিকস ও নানাবিধ প্রচারণার ব্যাপক ব্যবস্থা করা হয়েছে। শুধু ভেন্যুটাই নয়, ম্যাচের শুরু হওয়ার আগে ডিজিটাল মাধ্যমের বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মেও এই বার্তা পৌঁছে দিতে প্রচারণা চালানো হয়েছে।
এই উদ্যোগের পেছনের উদ্দেশ্য ব্যাখ্যা করে পিসিবির বাণিজ্যিক বিভাগের পরিচালক আলী আদনান জাইদি নিজের মতামত ব্যক্ত করেছেন। তিনি জানিয়েছেন যে ক্রিকেট হলো এমন একটি শক্তিশালী মাধ্যম, যা কোটি কোটি মানুষের সঙ্গে সরাসরি সংযোগ স্থাপন করতে পারে।
তিনি আরও যোগ করেন যে খেলার এই বিশাল ও ব্যাপক জনপ্রিয়তাকে কাজে লাগিয়ে তারা স্তন ক্যানসার সম্পর্কে অর্থবহ সচেতনতা বাড়াতে চান। একইসঙ্গে সমাজের সর্বস্তরের মানুষের সম্পৃক্ততা ও অংশগ্রহণ বৃদ্ধি করাই এই কার্যক্রমের প্রধান লক্ষ্য।
ক্রিকেট মাঠে গোলাপি জার্সি পরে স্তন ক্যানসার সচেতনতা বৃদ্ধির এই প্রয়াস অবশ্য বিশ্ব ক্রিকেটে নতুন কোনো ঘটনা নয়। দক্ষিণ আফ্রিকা ক্রিকেট বোর্ড নিয়মিতভাবেই প্রতি বছর জোহানেসবার্গের ওয়ান্ডারার্স স্টেডিয়ামে বর্ণাঢ্য আয়োজনে পিংক ডে ওয়ানডের আয়োজন করে থাকে।
ঐতিহ্যবাহী ওই বিশেষ ম্যাচটিতে স্বাগতিক দক্ষিণ আফ্রিকা দল সবসময় ঐতিহ্যগতভাবে গোলাপি রঙের জার্সি পরেই মাঠে লড়াই করতে নামে। অতীতে দক্ষিণ আফ্রিকা ও পাকিস্তানের মধ্যকার অনুষ্ঠিত সর্বশেষ দুটি পিংক ডে ম্যাচও বেশ স্মরণীয় হয়ে আছে।
২০২৪ সালে অনুষ্ঠিত সেই বিশেষ পিংক ডে ম্যাচে পাকিস্তান দল দুর্দান্ত খেলে ৩৬ রানের ব্যবধানে জয় তুলে নিয়েছিল। অন্যদিকে ২০২১ সালের ম্যাচে ফখর জামান অত্যন্ত আকর্ষণীয় ১৯৩ রানের একটি বিধ্বংসী ইনিংস খেললেও দক্ষিণ আফ্রিকা শেষ পর্যন্ত ১৭ রানের জয় পেয়েছিল।
উল্লেখ্য, গত বছর দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে খেলা টি-টোয়েন্টি আন্তর্জাতিক সিরিজেও পাকিস্তান দল একই রকম গোলাপি দিবসের আয়োজন করেছিল। শুধু পাকিস্তান বা দক্ষিণ আফ্রিকাই নয়, ক্রিকেট বিশ্বে অস্ট্রেলিয়ার মাটিতেও ক্যানসার সচেতনতা বাড়াতে এমন চমৎকার উদ্যোগ রয়েছে।
অস্ট্রেলিয়ার প্রচলিত গ্রীষ্মকালীন ক্রিকেট মৌসুমে প্রতি বছর সিডনি ক্রিকেট গ্রাউন্ডে জমকালো আয়োজনে পিংক টেস্ট অনুষ্ঠিত হয়ে থাকে। ক্যানসার আক্রান্ত অসহায় ব্যক্তিদের সেবায় নিয়োজিত ম্যাকগ্রা ফাউন্ডেশনের প্রতি নিজেদের পূর্ণ সমর্থন জানাতেই এই ম্যাচটি আয়োজন করা হয়।
উল্লেখ্য যে অস্ট্রেলিয়ার সাবেক বিখ্যাত পেসার গ্লেন ম্যাকগ্রা এবং তাঁর সহধর্মিণী জেন ম্যাকগ্রা যৌথভাবে এই দাতব্য সংস্থাটি প্রতিষ্ঠা করেছিলেন।
সূত্র: আজকের পত্রিকা
জাতীয় দৈনিক মুক্ত কণ্ঠস্বর