নিজস্ব প্রতিবেদক মুক্ত কণ্ঠস্বর
পরিবারের বারণ সত্ত্বেও চলতি বছরের মে মাসে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধে অংশ নিতে পাড়ি জমান কুমিল্লার এক তরুণ। তাঁর নাম সাগর। যুদ্ধে যোগ দেওয়ার পর থেকেই পরিবারের সঙ্গে তাঁর সব ধরনের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। দীর্ঘ সময় ধরে ছেলের কোনো সন্ধান না পেয়ে চরম উৎকণ্ঠা ও উদ্বেগের মধ্যে দিনাতিপাত করছিলেন তাঁর স্বজনরা।
গত শনিবার ১৭ অক্টোবর রাশিয়ায় অবস্থানরত সাগরের এক পরিচিত ব্যক্তি তাঁর বোনের মুঠোফোনে একটি বার্তা পাঠান। ওই খুদেবার্তায় জানানো হয় যে সাগর আর বেঁচে নেই। দীর্ঘ চার থেকে পাঁচ মাস ধরে কোনো খোঁজখবর না পাওয়ার পর এই বার্তার মাধ্যমেই পরিবারের সদস্যরা তাঁর মৃত্যুর সংবাদ পান। তবে ঠিক কোন পরিস্থিতিতে, কোথায় কিংবা কীভাবে সাগরের মৃত্যু হয়েছে, সে বিষয়ে এখনো নিশ্চিত হতে পারেনি পরিবার।
নিহত সাগরের বাবা কবির হোসেন জানান, পরিবারের সচ্ছলতা ফেরানোর স্বপ্ন নিয়ে তিনি বিভিন্ন স্থান থেকে ধারদেনা করে ছেলেকে বিদেশে পাঠিয়েছিলেন। গত চার থেকে পাঁচ মাস ধরে ছেলের সঙ্গে তাঁর কোনো ধরনের কথাবার্তা হয়নি। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর এখন তাঁকে শুনতে হচ্ছে যে তাঁর সন্তান আর পৃথিবীতে নেই।
কান্নাজড়িত কণ্ঠে সাগরের বাবা আরও জানান, তিনি নিজেই দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন শারীরিক জটিলতায় ভুগছেন। একসময়ে তিনি সবজি বিক্রি করে সংসার চালাতেন। চরম অনটনের সংসারে ছেলের উপার্জনের আশায় মানুষের কাছ থেকে ঋণ নিয়ে ছেলেকে বিদেশে পাঠিয়েছিলেন। এখন তিনি তাঁর সন্তানের মরদেহটি নিজ দেশে ফিরিয়ে আনতে সরকারের পক্ষ থেকে সর্বাত্মক সহযোগিতা কামনা করছেন।
জাতীয় দৈনিক মুক্ত কণ্ঠস্বর