ঢাকা | বঙ্গাব্দ

রাজধানীর রামকৃষ্ণ মঠে ছয় বছরের ইজ্জাকে নিয়ে কুমারীপূজা সম্পন্ন

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Oct 19, 2026 ইং
রাজধানীর রামকৃষ্ণ মঠে ছয় বছরের ইজ্জাকে নিয়ে কুমারীপূজা সম্পন্ন ছবির ক্যাপশন:
ad728

নিজস্ব প্রতিবেদক মুক্ত কণ্ঠস্বর

রাজধানীর ঢাকা রামকৃষ্ণ মঠ ও মিশনে সোমবার মহা অষ্টমীর পবিত্র তিথিতে ঐতিহ্যবাহী কুমারীপূজা সম্পন্ন হয়েছে। সকাল সাড়ে ৯টায় মহা অষ্টমীর বিহিতপূজার মাধ্যমে দিনের কর্মসূচির সূচনা ঘটে এবং পরবর্তীতে ঢাক, কাঁসর, ঘণ্টা ও ভক্তদের উলুধ্বনির মাধ্যমে কুমারীপূজার মূল আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়। এ বছর দেবী দুর্গার জীবন্ত প্রতিরূপ হিসেবে ছয় বছর বয়সী ইজ্জা চক্রবর্তীকে আসনে বসিয়ে পূজা করা হয়, যার শাস্ত্রীয় নাম উমা।

সকাল ৯টা ৫০ মিনিটে অত্যন্ত সুশৃঙ্খলভাবে ইজ্জাকে মূল পূজামঞ্চে নিয়ে এসে অধিষ্ঠিত করা হয়। এরপর পুরোহিতের মন্ত্রপাঠ ও নানা ধর্মীয় বিধান পালনের মধ্য দিয়ে পূজার কার্যক্রম চলতে থাকে এবং সকাল সাড়ে ১০টায় এই পূজার সমাপ্তি ঘটে।

নির্ধারিত সময়ের অনেক আগেই রাজধানীসহ বিভিন্ন এলাকা থেকে ভক্তরা ঢাকা রামকৃষ্ণ মঠ ও মিশনে সমবেত হন। কুমারী দেবীর এক ঝলক দেখার জন্য সব বয়সের মানুষের মধ্যে প্রবল আগ্রহ লক্ষ্য করা যায় এবং অনেকে তাদের মুঠোফোনে ছোট্ট ইজ্জার ছবি ও ভিডিও ধারণ করেন।

পূজার গম্ভীর পরিবেশের মধ্যেও শিশু ইজ্জা বেশ প্রাণোচ্ছল ও আনন্দিত ছিল। ঢাকের বাদ্যের তালে তালে তার হাতে থাকা দুটি পদ্মফুল নাড়াচাড়া করে খেলা করার দৃশ্য এবং তার সাবলীল হাসি উপস্থিত ভক্তদের গভীরভাবে বিমোহিত করে।

পূজা সমাপ্তির পর ঢাকা রামকৃষ্ণ মঠ ও মিশনের অধ্যক্ষ শ্রীমৎ স্বামী পূর্ণাত্মানন্দজী মহারাজ উপস্থিত ভক্তদের উদ্দেশে কুমারী দেবীর পরিচয় এবং এই বিশেষ পূজার ধর্মীয় তাৎপর্য ব্যাখ্যা করেন। তিনি জানান যে ইজ্জা চক্রবর্তী আইডিয়াল হাইস্কুল অ্যান্ড কলেজের ছাত্রী এবং তার বয়স ছয় বছর, আর শাস্ত্রীয় নিয়ম অনুযায়ী এই বয়সের কুমারীর নাম উমা।

স্বামী পূর্ণাত্মানন্দজী মহারাজ তাঁর বক্তব্যে উল্লেখ করেন যে, শুদ্ধাত্মা কুমারীর ভেতরে আধ্যাশক্তির সবচেয়ে বেশি প্রকাশ ঘটে থাকে। এই ধর্মীয় বিশ্বাসের ওপর ভিত্তি করেই মূলত দুর্গাপূজার সময় কুমারীকে স্বয়ং দেবী জ্ঞান করে পূজা করা হয়ে থাকে, যা দুর্গাপূজার একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও আবশ্যিক অংশ।

কুমারীপূজার ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট তুলে ধরে তিনি জানান যে, ১৯০১ সালে কলকাতার বেলুড় মঠে প্রথম দুর্গাপূজার সময় স্বামী বিবেকানন্দ নিজ হাতে এই পূজার প্রচলন করেছিলেন এবং সেবার মোট নয়জন কুমারীর পূজা হয়েছিল। স্বামী বিবেকানন্দ কেবল ব্রাহ্মণ কন্যাই নন, বরং অব্রাহ্মণ এমনকি অহিন্দু কন্যাকেও আধ্যাশক্তির প্রতীক হিসেবে পূজা করেছিলেন বলে তিনি স্মরণ করেন।

সনাতন ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী, কুমারী কন্যার মাঝে মা দুর্গার পবিত্রতা ও শক্তি কল্পনা করে তাঁকে মাতৃজ্ঞানে শ্রদ্ধা জানানোর রেওয়াজ রয়েছে। এই আচারের মাধ্যমে কেবল ঈশ্বরের উপাসনা করা হয় না, বরং মানববন্দনা ও নারীর মর্যাদা প্রতিষ্ঠার বার্তাও জোরালোভাবে প্রচার করা হয় এবং শাস্ত্রে এক থেকে ষোলো বছর বয়সি কন্যাকে পূজার বিধান রয়েছে যেখানে বয়সভেদে নাম পরিবর্তিত হয়।

পরিবার নিয়ে রায়েরবাজার থেকে আগত অমিত রায় তাঁর স্ত্রী সুমতি রায় ও মেয়ে নিতু রায়কে সঙ্গে নিয়ে এই পূজা দেখতে এসেছিলেন। তিনি সংবাদমাধ্যমকে জানান যে, কুমারীপূজা নিছক কোনো ধর্মীয় আচার নয়, বরং এটি মাতৃশক্তি, পবিত্রতা এবং নারীর প্রতি সুগভীর শ্রদ্ধা জানানোর এক অনন্য মাধ্যম। তাঁর মতে, এই পূজার মাধ্যমে নারীর সম্মান, শক্তি ও মানবতার প্রতি শ্রদ্ধাবোধ আরও সুদৃঢ় হয়।

ঢাকা রামকৃষ্ণ মঠ ও মিশনে প্রতি বছরই মহাসমারোহে মহা অষ্টমীর দিন কুমারীপূজা উদযাপিত হয়ে থাকে। ভক্তদের কাছে এই দেবীর দর্শন ও আরাধনা অত্যন্ত বিশেষ এবং আধ্যাত্মিক তাৎপর্য বহন করে।

কুমারীপূজার আনুষ্ঠানিকতা শেষ হওয়ার পর মঠে অন্যান্য ধর্মীয় কার্যক্রম নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী চলতে থাকে। এর পরপরই সেখানে সন্ধিপূজা শুরু হয় এবং দুপুরে মঠ প্রাঙ্গণের বেলতলায় সমবেত ভক্তদের মাঝে পুণ্য প্রসাদ বিতরণ করা হয়।


নিউজটি পোস্ট করেছেন : জাতীয় দৈনিক মুক্ত কণ্ঠস্বর

কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
ফের বাড়ল স্বর্ণের দাম, দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ

ফের বাড়ল স্বর্ণের দাম, দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ