নিজস্ব প্রতিবেদক মুক্ত কণ্ঠস্বর
বাংলা সাহিত্য ও চলচ্চিত্রের ইতিহাসে কথাসাহিত্যিক শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের সৃষ্টি করা নারী চরিত্রগুলো অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ ও স্থায়ী আসন দখল করে আছে। রূপালি পর্দায় যখনই এই স্মরণীয় চরিত্রগুলো জীবন্ত হয়ে উঠেছে, তা সবসময়ই দর্শকদের মন গভীরভাবে নাড়া দিতে সক্ষম হয়েছে। এবার এই ধারাবাহিকতায় শরৎচন্দ্রের একটি প্রখ্যাত চরিত্রে অভিনয়ের মাধ্যমে বড় পর্দায় হাজির হতে যাচ্ছেন উদীয়মান চিত্রনায়িকা রাজ রিপা।
প্রখ্যাত এই লেখকের ‘স্বামী’ ছোটগল্পের ছায়া অবলম্বনে একটি নতুন পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র নির্মাণ করছেন পরিচালক দেওয়ান নাজমুল। এই সিনেমার নাম রাখা হয়েছে ‘শিশির ভেজা চোখ’। এই চলচ্চিত্রের কেন্দ্রীয় নারী চরিত্রটিতে অর্থাৎ মূল গল্পের সৌদামিনী রূপেই ক্যামেরার সামনে দাঁড়িয়েছেন রাজ রিপা।
তবে চলচ্চিত্রের চিত্রনাট্যের প্রয়োজনে চরিত্রটির নামে কিছুটা পরিবর্তন এনেছেন নির্মাতা দেওয়ান নাজমুল। মূল গল্পের সৌদামিনী নামটিকে বদলে সিনেমার পর্দায় চরিত্রটির নতুন নাম রাখা হয়েছে মিনী।
শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের মূল ‘স্বামী’ গল্পটিতে মূলত ক্ষণস্থায়ী মোহ এবং গভীর সত্যিকারের ভালোবাসার মধ্যকার মৌলিক তফাত অত্যন্ত সুন্দরভাবে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। শৈশবের অন্ধ আকর্ষণের টানে মূল চরিত্রের নারী সৌদামিনী তার নিজ স্বামী ঘনশ্যামকে ফেলে নরেন্দ্রর সঙ্গে নতুন সংসার গড়ে তুলতে চলে যায়।
কিন্তু ঘর বাঁধার কিছুদিন পরেই তার সেই ভুল ভাঙতে শুরু করে। সে উপলব্ধি করতে পারে যে নরেন্দ্রর প্রতি তার যে তীব্র আকর্ষণ অনুভূত হয়েছিল, তা আসলে কোনো প্রকৃত ভালোবাসা ছিল না, বরং তা ছিল কেবলই একটি সাময়িক মোহমাত্র।
পক্ষান্তরে, তার উপেক্ষিত স্বামী ঘনশ্যামের অপরিসীম ধৈর্য, কোনো প্রত্যাশা ছাড়াই করা নিঃস্বার্থ ত্যাগ এবং তার ক্ষমাশীল উদার মানসিকতাই ছিল একমাত্র প্রকৃত ও খাঁটি ভালোবাসা। এই গভীর আত্মোপলব্ধির মধ্য দিয়েই আবর্তিত হয়েছে পুরো কাহিনীর মূল আবহ।
সূত্র: আজকের পত্রিকা
জাতীয় দৈনিক মুক্ত কণ্ঠস্বর