নিজস্ব প্রতিবেদক মুক্ত কণ্ঠস্বর
গত বছরের ১৪ অক্টোবর মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের (ডিএনসি) একটি বিশেষ দল অভিযান চালিয়ে জুয়েলকে তাঁর বালুবাগান ও বেলেপুকুরের বাসভবন থেকে আটক করে। ওই অভিযানে তাঁর হেফাজত থেকে ৯৫০ গ্রাম হেরোইন এবং ইয়াবা উদ্ধার করা হয়েছিল। গ্রেপ্তারের মাত্র ২৮ দিনের ব্যবধানে তিনি জামিন লাভ করে কারাগার থেকে মুক্তি পান।
স্থানীয় বাসিন্দাদের জোরালো অভিযোগ রয়েছে যে, চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৩ আসনের সেসময়ের সংসদ সদস্য আব্দুল ওদুদের রাজনৈতিক প্রভাবেই জুয়েল এত দ্রুত জামিন পেয়েছিলেন। জেল থেকে ছাড়া পাওয়ার পর জুয়েল সরাসরি সেই সংসদ সদস্যের বাসায় উপস্থিত হন এবং সাবেক সংসদ সদস্য তাঁকে ফুলের মালা দিয়ে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান। সেই সময়ে ইন্টারনেটে ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ছবি ব্যাপকভাবে ভাইরাল হয়েছিল, যেখানে পুরো ঘটনার দৃশ্য পরিষ্কার দেখা গিয়েছিল।
চলতি বছরের ১২ অক্টোবর চাঁপাইনবাবগঞ্জের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালত একটি মাদক মামলায় জুয়েল রানাকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দেন। আদালতের এই রায়ের পর থেকেই তিনি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নজর এড়িয়ে আত্মগোপনে চলে যান এবং পলাতক জীবনযাপন করতে থাকেন।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সূত্রে জানা যায়, গত মার্চ মাসে সৌদি আরবে পবিত্র ওমরাহ পালন সম্পন্ন করার পর তিনি মধ্যপ্রাচ্যের আরও তিনটি ভিন্ন দেশ ভ্রমণ করেন। দীর্ঘ সময় বিদেশে কাটিয়ে দেশে ফেরার পর গত ২২ সেপ্টেম্বর রাজশাহী মহানগরের লক্ষ্মীপুর এলাকা থেকে তাঁকে পুলিশ গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়।
এদিকে স্থানীয় বিভিন্ন তথ্যসূত্রের বরাতে জানা গেছে, জুয়েল বর্তমানে কারাগারে আটক থাকলেও তাঁর সহযোগীরা উচ্চ আদালত থেকে তাঁকে দ্রুত জামিনে মুক্ত করার জন্য নানা ধরনের তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছেন।
অনুসন্ধানে আরও জানা যায়, জুয়েলের গড়া বিশাল মাদক কারবারের নেটওয়ার্ক আজও পুরোপুরি সক্রিয় রয়েছে। মূল অভিযুক্ত কারাগারে বন্দি থাকার কারণে বর্তমানে তাঁর পরিবারের সদস্যরা এই অপরাধ সিন্ডিকেটের সমস্ত কার্যক্রম ও দায়িত্ব নিজের কাঁধে তুলে নিয়ে পরিচালনা করছেন।
সূত্র: আজকের পত্রিকা
জাতীয় দৈনিক মুক্ত কণ্ঠস্বর