নিজস্ব প্রতিবেদক মুক্ত কণ্ঠস্বর
প্যারিস শহরের রাজপথে ছাত্রছাত্রীদের শ্রমিক সংগঠনের পক্ষ থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিলের আয়োজন করা হয়েছে। এই প্রতিবাদ কর্মসূচিকে সমর্থন দিয়েছে দেশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ শ্রমিক সংগঠন। তবে কতৃপক্ষ নির্দিষ্ট করে জানিয়েছে যে এই মিছিলটি রাজধানী শহরের কেন্দ্রীয় অংশ দিয়ে চলাচল করতে পারবে না। তা সত্ত্বেও মেগাসিটির পরিচিত কয়েকটি পয়েন্টে নতুন করে ব্যাপক অশান্তি ও অস্থিরতা তৈরি হওয়ার প্রবল আশঙ্কা করা হচ্ছে। এই সম্ভাব্য পরিস্থিতি মোকাবিলা করার জন্য সংশ্লিষ্ট কতৃপক্ষ সব ধরনের প্রস্তুতি গ্রহণ করছে।
শিক্ষার্থী সমাজের হাত ধরে যে প্রতিবাদের সূচনা হয়েছিল, তা ক্রমান্বয়ে একটি বৃহৎ সরকারবিরোধী জনস্রোতে পরিণত হয়েছে। এর স্পষ্ট প্রতিফলন হিসেবে দেখা যাচ্ছে অতীতে আলোড়ন সৃষ্টিকারী ‘ইয়েলো ভেস্ট’ বা হলুদ জ্যাকেট আন্দোলনের আবার মাথাচাড়া দিয়ে ওঠা। সাপ্তাহিক ছুটির দিন শনিবার সমগ্র ফ্রান্সজুড়ে এই পুরোনো আন্দোলনের সমর্থকদেরও রাজপথে বিশাল সংখ্যায় নেমে আসার সম্ভাবনা রয়েছে। রাজনীতিতে বামপন্থী ও ডানপন্থী উভয় মেরুর মানুষের সমর্থন অর্জনকারী এই সামাজিক আন্দোলনটি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাখোঁর শাসনকালের প্রথম ধাপে বড় ধরনের অচলাবস্থা ও জনবিক্ষোভ তৈরি করেছিল।
এই প্রতিবাদী আন্দোলনের সঙ্গে নিবিড়ভাবে যুক্ত একটি বিশেষ ইন্টারনেট ওয়েবসাইটে শনিবারের জন্য পাঁচ শতাধিক বিক্ষোভ প্রদর্শন এবং প্রায় দুই শ আলাদা কর্মসূচির বিস্তারিত তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে। প্রকাশিত ওই তালিকায় স্পষ্টভাবে দেশের শীর্ষ নেতা মাখোঁর পদত্যাগ চেয়ে দাবি উত্থাপন করা হয়েছে। অনলাইনে প্রচারিত কর্মসূচির এই আহ্বানে নির্দিষ্ট দলটি জানিয়েছে যে ১৭ তারিখের সহিংসতার ঘটনা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশের সম্মিলিত কণ্ঠে তারা নিজেদের কণ্ঠ মেলাতে রাজি নয়। একই সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের বিরুদ্ধে আন্দোলনকারীদের ওপর চড়াও হওয়ার গুরুতর অভিযোগ তুলেছে তারা।
গত সপ্তাহের দেশজোড়া সহিংসতার ধাক্কা ও ক্ষত এখনো পুরোপুরি কাটিয়ে উঠতে পারেনি ইউরোপের এই রাষ্ট্রটি। সেই সময়ে উদ্ভূত পরিস্থিতিতে আন্দোলনকারী ও সুযোগসন্ধানীদের তুলনায় কর্তব্যরত নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যের সংখ্যা ছিল অত্যন্ত কম। এই সুযোগে একাধিক বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানে লুটপাটের ঘটনা ঘটে এবং বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। এসব ঘটনার মধ্যে সবচেয়ে বেশি প্রতীকী ও মর্মান্তিক বিষয় ছিল লিমোজ শহরে অবস্থিত ঊনবিংশ শতাব্দীতে নির্মিত ঐতিহাসিক ও অলংকৃত নগর ভবনে অগ্নিসংযোগের ঘটনা।
সূত্র: আজকের পত্রিকা
জাতীয় দৈনিক মুক্ত কণ্ঠস্বর