নিজস্ব প্রতিবেদক মুক্ত কণ্ঠস্বর
মরক্কো, মাদাগাস্কার, ইন্দোনেশিয়া কিংবা ইউরোপের ইতালি, বেলজিয়াম, পর্তুগাল ও আলবেনিয়ার মতো বিভিন্ন রাষ্ট্রে তরুণ প্রজন্মের পক্ষ থেকে আন্দোলন গড়ে উঠতে দেখা যাচ্ছে। প্রতিটি দেশের সংকট বা সমস্যার প্রেক্ষাপট ভিন্ন হলেও এ ধরনের বিক্ষোভের মূল কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে বৈষম্যমূলক ব্যবস্থা। বৈষম্যের এই চিত্রটির একটি দিক শ্রেণিগত হলেও অপর দিকটি পুরোপুরি প্রজন্মগত।
২০০৮ সালে সংঘটিত বৈশ্বিক অর্থনৈতিক সংকটের পরবর্তী সময় থেকে ইউরোপজুড়ে আয় এবং সম্পদের বৈষম্যের পরিমাণ নাটকীয়ভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। পাশাপাশি, অতীতে যে ইউরোপীয় কল্যাণরাষ্ট্রগুলো অত্যন্ত শক্তিশালী হিসেবে পরিচিত ছিল, বর্তমানে তাদের সেই সামর্থ্যও অনেক হ্রাস পেয়েছে।
দীর্ঘ সময় ধরে চলা ব্যয়সংকোচন নীতির কারণে শিক্ষা খাত, স্বাস্থ্যসেবা এবং সামাজিক সুরক্ষার মতো অতি জরুরি ক্ষেত্রগুলোতে সরকারি বিনিয়োগ মারাত্মকভাবে দুর্বল হয়েছে। এর ফলে সচ্ছল ব্যক্তিরা নিজেদের অর্থে উন্নত সেবা গ্রহণ করতে পারলেও সাধারণ ও অনেক মানুষ প্রয়োজনীয় ন্যূনতম সেবা থেকেও বঞ্চিত হচ্ছেন।
বর্তমান এই হতাশাজনক পরিস্থিতির সবচেয়ে তীব্র নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে তরুণ সমাজের ওপর। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে তহবিলের ঘাটতি, পড়াশোনার ক্ষেত্রে দক্ষতা কমে যাওয়া এবং বিভিন্ন মানসিক স্বাস্থ্যসংক্রান্ত জটিলতা তরুণ প্রজন্মের ভবিষ্যৎকে চরম অনিশ্চয়তার মুখে ঠেলে দিচ্ছে।
আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী মূল্যায়ন কর্মসূচি বা পিসার সর্বশেষ প্রকাশিত ফলাফল থেকেও শিক্ষার্থীদের পঠন ও গণিতে দক্ষতা হ্রাসের উদ্বেগজনক চিত্র স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। শিক্ষাক্ষেত্রে এই অবনতির সম্ভাব্য প্রধান কারণগুলোর মধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের নেতিবাচক প্রভাব এবং বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের অনুপস্থিতির মতো বিষয়গুলোকে চিহ্নিত করা হচ্ছে।
জাতীয় দৈনিক মুক্ত কণ্ঠস্বর