নিজস্ব প্রতিবেদক মুক্ত কণ্ঠস্বর
বাবা-মায়ের ওপর নির্যাতনের রেশ কাটতে না কাটতেই এবার এক প্রতিবেশিনী বিধবাকে মারধর করার অভিযোগ উঠেছে মোজাম্মেল হক সোহেল নামের এক যুবদল নেতার বিরুদ্ধে। এহেন গুরুতর অভিযোগ ওঠার পর দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের দায়ে তাঁকে সংগঠন থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। ভুক্তভোগী ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নানা ধরনের অপকর্মের সঙ্গে জড়িয়ে পড়ার ফলেই তাঁর বিরুদ্ধে এই কঠোর সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়।
তবে নিজের বিরুদ্ধে আনীত এসব অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছেন অভিযুক্ত মোজাম্মেল হক সোহেল। গণমাধ্যমের সঙ্গে আলাপকালে তিনি দাবি করেন যে তিনি মূলত একটি প্রভাবশালী প্রতিপক্ষ মহলের গভীর ষড়যন্ত্রের শিকার হয়েছেন। তাঁর ভাষ্যমতে, এর আগেও প্রতিপক্ষরা বিভিন্নভাবে তাঁকে মিথ্যা মামলায় ফাঁসানোর অপচেষ্টা চালিয়েছিল এবং বর্তমান পরিস্থিতিও তারই ধারাবাহিকতা মাত্র।
নিজের বাবা-মাকে মারধরের পুরোনো অভিযোগ প্রসঙ্গে সোহেল বলেন যে তিনি তাঁর বাবা-মায়ের একমাত্র সন্তান। জমি নিজেদের নামে লিখে নেওয়ার উদ্দেশ্যে তাঁদের গায়ে হাত তোলার কোনো প্রশ্নই ওঠে না, কারণ তাঁদের সমস্ত সম্পত্তির মালিক তো তিনিই। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে তাঁর বাবা বর্তমানে ক্যানসারে আক্রান্ত হয়ে অত্যন্ত অসুস্থ অবস্থায় আছেন এবং তাঁকে নিয়মিত কেমোথেরাপি নিতে হচ্ছে।
অসুস্থতার কারণে তাঁর বাবা-মা হয়তো না বুঝে কিছু মন্তব্য বা কথা বলে ফেলেছেন, যা প্রতিপক্ষ সুযোগ বুঝে বাড়িয়ে প্রচার করেছে বলে তাঁর ধারণা। প্রতিবেশি নারী অর্চনা রানী দাসকে মারধর করার ঘটনার বিষয়ে সোহেল ভিন্ন এক প্রেক্ষাপট তুলে ধরেন। তাঁর দাবি অনুযায়ী, প্রায় সাত বছর আগে অর্চনা রানীর ভাবির কাছে তিনি ব্যক্তিগতভাবে এক লাখ টাকা ধার দিয়েছিলেন।
সেই পাওনা টাকা ফেরত না দেওয়াকে কেন্দ্র করেই মূলত অর্চনা রানীর সঙ্গে তাঁর কথা কাটাকাটি ও তর্কবিতর্ক হয়েছিল। পরবর্তী সময়ে প্রতিপক্ষের লোকজন ওই নারীকে নানাভাবে প্ররোচিত করে স্থানীয় সংসদ সদস্যের কাছে নিয়ে যান এবং তাঁর বিরুদ্ধে মারধরের একটি মিথ্যা ও বানোয়াট অভিযোগ উপস্থাপন করান। শেষ পর্যন্ত এসবের জেরে দল থেকে বহিষ্কারের মুখে পড়েন এই যুবদল নেতা।
জাতীয় দৈনিক মুক্ত কণ্ঠস্বর