ঢাকা | বঙ্গাব্দ

নীতিনির্ধারণে জনগণের কার্যকর অংশীদারত্ব প্রয়োজন: বক্তারা

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Oct 31, 2026 ইং
নীতিনির্ধারণে জনগণের কার্যকর অংশীদারত্ব প্রয়োজন: বক্তারা ছবির ক্যাপশন:
ad728

নিজস্ব প্রতিবেদক মুক্ত কণ্ঠস্বর

রাষ্ট্রের নীতিনির্ধারণ, সম্পদ বণ্টন এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় সাধারণ মানুষের প্রকৃত অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন বক্তারা। তাঁরা মনে করেন, দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে সরকার কিংবা শাসক বদলালেও দীর্ঘকাল ধরে চলে আসা ক্ষমতার কেন্দ্রীভূত রূপটির মৌলিক কোনো রূপান্তর ঘটেনি। ফলে বারবার কেবল ক্ষমতার হাতবদল ঘটেছে, অথচ এর কোনো গণতান্ত্রিক পুনর্বিন্যাস সাধিত হয়নি।

একটি অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে জেএসডির সাধারণ সম্পাদক শহীদ উদ্দিন মাহমুদ স্বপন এই অভিমত ব্যক্ত করেন। তিনি উল্লেখ করেন, দেশের রাজনৈতিক ধারায় অতীতে বারবার ক্ষমতার চরিত্র অপরিবর্তিত থেকেছে।

শহীদ উদ্দিন মাহমুদ স্বপন আরও যোগ করেন যে, শ্রমজীবী, কর্মজীবী ও পেশাজীবীসহ সমাজের নানা স্তরের মানুষের মেধা, শ্রম, জ্ঞান এবং সৃজনশীলতার মাধ্যমেই মূলত রাষ্ট্র ও সমাজ প্রগতির পথে এগিয়ে চলে। কিন্তু অত্যন্ত পরিতাপের বিষয় হলো, রাষ্ট্রের নীতিনির্ধারণী ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের মঞ্চে তাঁদের যথাযথ কোনো উপস্থিতি বা ভূমিকা থাকে না। দলীয় রাজনীতির কাঠামোগত গণ্ডি পেরিয়ে সমাজের প্রতিটি মানুষের কার্যকর অংশীদারত্ব নিশ্চিত করার ওপর তিনি জোর দেন।

অনুষ্ঠানে দৈনিক দেশ রূপান্তরের সম্পাদক মুস্তাফিজ শফি তাঁর বক্তৃতায় বলেন, বর্তমান সময়ে দেশের শাসনব্যবস্থার রূপান্তর বা রাষ্ট্র কাঠামোর সংস্কার কেবল কোনো একটি নির্দিষ্ট দলের দাবি হিসেবে সীমাবদ্ধ নেই, বরং এটি আজ সামগ্রিক গণদাবিতে রূপ নিয়েছে। তিনি আরও স্মরণ করিয়ে দেন যে, একাত্তরের মহান মুক্তিযুদ্ধ থেকে শুরু করে অতি সাম্প্রতিক ২০২৪ সালের জুলাই মাসের গণ-অভ্যুত্থান পর্যন্ত—কোনো ঐতিহাসিক লড়াইয়েরই মূল স্বপ্ন ও আকাঙ্ক্ষা যথাযথভাবে রক্ষা করা সম্ভব হয়নি। তা সত্ত্বেও সমাজ বদলের এই দীর্ঘ সংগ্রাম এবং নতুন স্বপ্ন দেখার প্রচেষ্টা কোনোভাবেই থামিয়ে রাখা যাবে না।

রাজনৈতিক বিশ্লেষক ড. হেলালুজ্জামান আহমদ তাঁর পর্যালোচনায় বলেন, জাতীয় সংসদের উচ্চকক্ষে যদি সমাজের বিকাশমান শক্তিগুলোর সঠিক প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করা যায়, তবে আইন প্রণয়নের ক্ষেত্রে আরও বড় একটি জনগোষ্ঠীর কণ্ঠস্বর জোরালো হবে। এর মাধ্যমে রাষ্ট্র পরিচালনার মূল কাঠামোতে এক ধরনের কাঙ্ক্ষিত ভারসাম্য প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব বলে তিনি মনে করেন।

আলোচনায় অংশ নিয়ে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক আইনজীবী পরামর্শ দেন যে, শাসনপদ্ধতি এবং পুরো রাষ্ট্রকাঠামো এমনভাবে সাজাতে হবে, যাতে সরাসরি জনগণের অংশগ্রহণ প্রতি মুহূর্তেই না পেলেও অন্তত একটি জনকেন্দ্রিক শাসনপদ্ধতি গড়ে তোলা যায়। ক্ষমতাকে কোনো একজন ব্যক্তির মুঠোয় বন্দि না রেখে তা আরও বিস্তৃত ও বিকেন্দ্রীকরণ করার প্রয়োজনীয়তার কথা তিনি তুলে ধরেন। পাশাপাশি, রাষ্ট্রের তিনটি প্রধান বিভাগের মাঝে ক্ষমতার যথাযথ পৃথক্‌করণ নিশ্চিত করার তাগিদ দিয়ে তিনি সতর্ক করেন যে, সামগ্রিক ক্ষমতা-কাঠামোয় যদি ইতিবাচক পরিবর্তন না আনা হয়, তবে রাষ্ট্র পুনরায় তার পুরোনো অবস্থানে ফিরে যেতে বাধ্য হবে।

সভাপতির ভাষণে তানিয়া রব দ্ব্যর্থহীন কণ্ঠে জুলাই জাতীয় সনদের মূল অঙ্গীকার এবং গণভোটের মাধ্যমে জনগণ যে রায় প্রদান করেছে, তা অবিলম্বে বাস্তবায়নের দাবি জানান। একই সঙ্গে তিনি একটি নতুন সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠনের পাশাপাশি দেশের স্বার্থে জরুরি সব ধরনের সাংবিধানিক ও প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার দ্রুত সম্পন্ন করার জোরালো আহ্বান জানান।

উক্ত গুরুত্বপূর্ণ সভায় জেএসডির শীর্ষস্থানীয় নেতাদের উপস্থিতি লক্ষ করা গেছে। সেখানে দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য মোহাম্মদ সিরাজ মিয়া এবং মোহাম্মদ তৌহিদ হোসেনসহ বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।

সূত্র: আজকের পত্রিকা


নিউজটি পোস্ট করেছেন : জাতীয় দৈনিক মুক্ত কণ্ঠস্বর

কমেন্ট বক্স
দেড় কোটি টাকার অক্সিজেন প্ল্যান্ট বন্ধ থাকায় ঝুঁকি বাড়ছে রোগ

দেড় কোটি টাকার অক্সিজেন প্ল্যান্ট বন্ধ থাকায় ঝুঁকি বাড়ছে রোগ