ঢাকা | বঙ্গাব্দ

পায়ের গুরুতর চোটে ক্যারিয়ারের শঙ্কা কাটিয়ে ব্যালন ডি’অরে এলেনা সাদিকু

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Oct 25, 2026 ইং
পায়ের গুরুতর চোটে ক্যারিয়ারের শঙ্কা কাটিয়ে ব্যালন ডি’অরে এলেনা সাদিকু ছবির ক্যাপশন:
ad728

নিজস্ব প্রতিবেদক মুক্ত কণ্ঠস্বর

মানুষের ভালোবাসার অনুভূতির তীব্রতা নিয়ে নানা মুনির নানা মত রয়েছে। কেউ মনে করেন এ অনুভূতি জীবনে কেবল একবারই আসে, আবার কারও কারও মতে এর পুনরাবৃত্তি ঘটে বারবার। তবে কিছু মানুষের জীবনে প্রাথমিক সেই রোমাঞ্চকর ভালোলাগা এতটাই সর্বনাশী পরিণতি ডেকে আনে যে পরবর্তীতে পুনরায় ঝুঁকি নেওয়ার মতো মানসিক শক্তি অবশিষ্ট থাকে না। সুইডিশ ক্লাব সেল্টিকের বর্তমান কোচ এলেনা সাদিকু অবশ্য ব্যতিক্রমী এক চরিত্রের অধিকারী, যিনি প্রচলিত ধারার বাইরে গিয়ে জীবনের প্রতিটি বাঁক পরিবর্তন করেছেন।

তাঁর সেই আদি ও পরম ভালোবাসা প্রায় পঙ্গু করে দিয়েছিল তাঁকে, কেড়ে নিয়েছিল শারীরিক গঠনের ১০ কেজি ওজন। চিকিৎসালয়ের শয্যায় শুয়ে তাঁকে শুনতে হয়েছিল নির্মম এক সত্য, তাঁর বাঁ পা হয়তো শরীর থেকে চিরতরে বাদ দিতে হতে পারে। যে অঙ্গটি ব্যবহার করে তিনি সবুজ মাঠে জাদুকরি নৈপুণ্য দেখাতেন, সেই পা-ই হয়তো আর আস্ত থাকবে না। অথচ নিয়তির এমন পরিহাস যে, সেই নারীই পুনরায় মজেছেন ফুটবলের প্রেমে, কেবল ভালো লাগার রূপটা গেছে পাল্টে। অতীতে যিনি নিজে মাঠে নেমে বলের জাদুকর হতেন, বর্তমানে তিনি সীমানা রেখার বাইরে দাঁড়িয়ে অন্য খেলোয়াড়দের দিকনির্দেশনা দেন।

প্রথম ভালোলাগায় প্রতারিত বা হোঁচট খাওয়া এই নারী দ্বিতীয় সেই খেলায় এমন দুর্দান্ত সাফল্য অর্জন করেছেন যে বিশ্ব ফুটবলের সবচেয়ে মর্যাদাসম্পন্ন একক পুরস্কারের সংক্ষিপ্ত তালিকায় নিজের নাম লিখিয়েছেন। ৩২ বছর বয়সি এই তরুণী বর্তমানে ব্যালন ডি’অরের বর্ষসেরা নারী কোচের খেতাব পাওয়ার দৌড়ে সেরা কুশীলবদের একজন। নারী ও পুরুষ উভয় ক্যাটাগরির কোচদের বিচার করলে এই সম্মাননা অর্জনকারী তিনি সর্বকনিষ্ঠ ব্যক্তিত্ব। শুধু তাই নয়, বর্তমানের এই নারী প্রশিক্ষকদের মনোনীতদের তালিকায় একমাত্র নারী হিসেবেও জায়গা করে নিয়েছেন তিনি।

এই অর্জনের নেপথ্য কাহিনি জানতে হলে আমাদের ফিরে তাকাতে হবে ২০১৭ সালের মাঝামাঝি সময়ে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নিজের জীবনের প্রায় ধ্বংস হয়ে যাওয়া একটি অধ্যায় নিয়ে দীর্ঘ একটি বার্তা দিয়েছিলেন তিনি। যেখানে লিখেছিলেন, অভিশপ্ত হাঁটুতে তিন বছরের মধ্যে পঞ্চমবারের মতো একই স্থানে সার্জারি সম্পন্ন হলো। এটাই কি তবে সবকিছুর সমাপ্তি? এই প্রশ্ন কেবল ওই খেলাধুলোকে কেন্দ্র করে ছিল না, বরং তা জড়িত ছিল তাঁর নিজস্ব অস্তিত্বের লড়াইয়ের সঙ্গে।

ওই একই অনলাইন পোস্টে তিনি প্রকাশ করেছিলেন, মিনিস্কাস সম্পূর্ণভাবে ছিন্ন হয়ে গেছে এবং এসিএলও মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বড় ধরনের এই আঘাত পাওয়ার পরও তিনি কীভাবে আরও কুড়ি মিনিট অবলীলায় খেলে গেছেন, তা আজ ভাবলে অবাক লাগে। তখন কি আর তাঁর জানা ছিল যে ওই ম্যাচটিই হতে পারে তাঁর খেলোয়াড়ি জীবনের শেষ অধ্যায়। এই খেলাটি তাঁর কাছে সবচেয়ে গভীর অনুভূতির নাম, তাদের পুনরায় সাক্ষাৎ হবেই। সেই দেখা কি খেলোয়াড় হিসেবে, নাকি প্রশিক্ষক কিংবা ধারাভাষ্যকার রূপে, অথবা এজেন্ট কিংবা চিকিৎসক হিসেবে? কে জানে! তবে তিনি কোনোভাবেই মাঠ ছাড়ার পাত্রী নন।

নয় বছর পেরিয়ে যাওয়ার পর তখনকার ওই প্রতিজ্ঞাগুলো পর্যালোচনা করলে মনে হয়, মানুষ হয়তো অনেক সময় নিজের অনাগত ভবিষ্যৎ নিজে অঙ্কন করে রাখে, কেবল সেই মুহূর্তে তা অনুধাবন করতে পারে না। অবশ্য এই কোচের জীবনযাত্রা শুরু থেকেই খুব একটা মসৃণ বা সহজ ছিল না। গত শতাব্দীর নব্বইয়ের দশকের শুরুর দিকে সাবেক যুগোস্লাভিয়ায় যুদ্ধের দাবানল ছড়িয়ে পড়েছিল। সেই সহিংসতা থেকে জীবন বাঁচাতে কসোভো ছেড়ে জার্মানির মাটিতে গিয়ে शरण নিয়েছিলেন তাঁর মাতা-পিতা।

সেখানেই জন্ম হয়েছিল এই কসোভো-আলবেনিয়ান বংশোদ্ভূত ক্রীড়াবিদের। পরবর্তীতে তাঁর পরিবার নিজেদের জন্মভূমিতে ফিরে গেলেও যুদ্ধ আবারও তাদের ঘরছাড়া করে এবং তাদের নতুন গন্তব্য হয় সুইডেন। তখন তাঁর বয়স ছিল মোটে সাত বছর। বাল্যকালের সেই চরম অনিশ্চয়তার দিনগুলোতে একটি ফুটবলই হয়ে উঠেছিল তাঁর সবচেয়ে বিশ্বস্ত সঙ্গী। নিজ বাড়ির আঙিনায় ভাইয়ের সঙ্গে খেলতে খেলতে কখন যে ওই বলটির প্রতি অন্ধ ভালোবাসা জন্ম নেয়, তা তিনি নিজেও টের পাননি। খেলাধুলা তাঁর কাছে হয়ে ওঠে গভীর আবেগ, নিখাদ ভালোবাসা, নিরাপদ আশ্রয় এবং তাঁর গোটা পৃথিবী।

যুদ্ধ মানুষের কাছ থেকে মাথাগোঁজার ঠাঁই কেড়ে নিতে পারে, কেড়ে নিতে পারে দুরন্ত শৈশবও; কিন্তু মানুষের সুপ্ত স্বপ্ন কেড়ে নেওয়ার সাধ্য কার আছে? মাত্র তেরো বছর বয়সে তিনি দৃঢ়প্রতিজ্ঞ হন যে বড় হয়ে একজন পেশাদার ফুটবলারই হবেন। এর ঠিক দুই বছর পর তিনি সুযোগ পান বিখ্যাত মালমোর ফুটবল একাডেমিতে। এই যাত্রার সূচনা হয়েছিল আক্রমণভাগের খেলোয়াড় হিসেবে, যেখানে তাঁর মূল দায়িত্ব ছিল প্রতিপক্ষের জালে বল পাঠানো। কিন্তু প্রশিক্ষকরা দ্রুতই উপলব্ধি করেন যে এই তরুণী কেবল গোল করতে পারদর্শী নন, বরং তিনি অন্য সবার চেয়ে মাঠে খেলাটি একটু দ্রুত অনুধাবন করতে পারেন।

প্রতিপক্ষ দল পরবর্তী সময়ে কী করতে পারে, তা তিনি যেন আগেই টের পেয়ে যেতেন। এই দূরদর্শিতার কারণে তাঁকে নামিয়ে আনা হয় মাঝমাঠে। এই পজিশনে খেলা প্রতিযোগীদের অনেকটা বিচক্ষণ দাবাড়ুর মতো মানসিকতার অধিকারী হতে হয়। কেবল নিজের বর্তমান চাল সম্পর্কে জানলে চলদুর না, প্রতিপক্ষের পরবর্তী কয়েকটি পদক্ষেপের নিখুঁত পরিকল্পনাও মাথায় রাখতে হয়। এই বিরল প্রতিভার গুণাবলি তাঁর ভেতরে প্রাকৃতিকভাবেই বিদ্যমান ছিল।

খেলার মাঠের বাইরে তিনি ছিলেন অত্যন্ত প্রাণোচ্ছ্বল, হাস্যোজ্জ্বল ও রসিকতাসম্পন্ন এক তরুণী; অথচ মাঠে পা রাখলেই তাঁর মাঝে আসত সম্পূর্ণ ভিন্ন এক রূপ। সেখানে তিনি থাকতেন শান্ত, ধীরস্থির ও অত্যন্ত পরিণত মানসিকতার। নেতৃত্ব দেওয়ার সহজাত ক্ষমতা যেন তাঁর রক্তে মিশে ছিল। মাত্র তেরো বছর বয়সে হ্যামারবি ক্লাবের অধিনায়ক হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করাটাই তাঁর এই অনন্য যোগ্যতার সবচেয়ে বড় প্রমাণ। কিন্তু নিয়তি তাঁর জীবনের জন্য সম্পূর্ণ ভিন্ন এক চিত্রনাট্য লিখে রেখেছিল।

মাত্র উনিশ বছর বয়সে তিনি প্রথমবারের মতো নিজের বাঁ হাঁটুর অ্যান্টেরিয়র ক্রুসিয়েট লিগামেন্ট বা এসিএলে মারাত্মক আঘাত পান। পেশাদার খেলোয়াড়দের কাছে এই ধরনের আঘাত এক ত্রাসের নাম। একবার এই লিগামেন্ট ছিঁড়ে গেলে বহু প্রফেসনালের ক্যারিয়ার চিরতরে অনিশ্চিত হয়ে পড়ে। তাঁর ওই নির্দিষ্ট হাঁটুতেই এই মারাত্মক ক্ষতি হয়েছে মোট তিনবার, আর খেলোয়াড়ি জীবনজুড়ে তাঁকে অস্ত্রোপচারের টেবিলে যেতে হয়েছে মোট তেরো বার।

বিশ্বখ্যাত সংবাদমাধ্যম ইএসপিএনকে নিজের শারীরিক এই জখমের বর্ণনা দিতে গিয়ে তিনি এমনভাবে কথাগুলো বলেছিলেন, যেন তিনি নিজের শরীরের ভেতরে একটি চলমান হাসপাতালের পূর্ণাঙ্গ ইতিহাস বয়ে বেড়াচ্ছেন। খেলোয়াড় হিসেবে নিজের বাঁ পায়ে তাঁকে মোট ১৩টি সার্জারির মুখোমুখি হতে হয়েছে। এসিএল ছাড়াও তাঁর পা সম্পূর্ণ পুনর্গঠন করতে হয়েছে। চিকিৎসা বিজ্ঞানের ভাষায় যে জখমের কথাই উল্লেখ করা হোক না কেন—এলসিএল কিংবা এমসিএল—সব ধরনের জটিলতাই তাঁর শরীরে বাসা বেঁধেছিল।

খ্রিস্টীয় ২০১৪ সালে তাঁর বাঁ হাঁটুর এসিএল, মিডিয়াল কোলাটারাল লিগামেন্ট, ল্যাটারাল কোলাটারাল লিগামেন্ট এবং মিনিস্কাস একযোগে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এই মাত্রার ভয়াবহ চোট পাওয়ার পর সাধারণ কোনো খেলোয়াড়ের পক্ষে সবুজ গালিচায় ফেরার কথা কল্পনাতেও আনতে ভয় পাওয়ার কথা। কিন্তু তিনি তো আর দশজন সাধারণ মানুষের মতো সহজে হার মানার পাত্রী ছিলেন না।

পরের বছরের জুলাই মাসে মাঠে প্রত্যাবর্তন করেই প্রথম ম্যাচে তিনি দুর্দান্ত এক হ্যাটট্রিক উপহার দেন। এসকিলস্টুনা ইউনাইটেডের তৎকালীন কোচিং প্যানেল তখন মনে মনে ভাবতে শুরু করেছিলেন যে এই প্রতিভাবান তরুণীকে হয়তো এবার পূর্ণোদ্যমে অনুশীলনে ফিরিয়ে আনা সম্ভব হবে। খেলাধুলা বুঝি আবারও তাঁর জীবনে সুখের হাসি হয়ে ফিরে আসছে। কিন্তু দুই বেলা অনুশীলনের চাপ নিতে গিয়ে তাঁর সেই সংবেদনশীল হাঁটুতে আবারও লিগামেন্ট ছিঁড়ে যায় এবং পার্শ্ববর্তী লিগামেন্টও ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

এবার তাঁর জঙ্ঘাস্থির একটি নির্দিষ্ট অংশ অস্ত্রোপচার করে কেটে বাদ দিতে বাধ্য হন চিকিৎসকরা। পায়ের হাড়গুলোকে সঠিক অবস্থানে ধরে রাখার জন্য কৃত্রিমভাবে চারটি স্ক্রু বা ধাতব পেরেক বসানো হয়। প্রথমবার যখন লিগামেন্ট পুনর্গঠন করা হয়েছিল, তখন নিজের শরীরের হ্যামস্ট্রিংয়ের টিস্যু ব্যবহার করা হয়েছিল। কিন্তু দ্বিতীয় দফায় প্রয়োজন পড়ে ক্যাডাভার গ্রাফট, অর্থাৎ মৃত ব্যক্তির দেহ থেকে সংগৃহীত টিস্যুর। চিকিৎসকরা তখন আর তাঁকে কোনো ধরনের আশার বাণী শোনানোর মতো অবস্থায় ছিলেন না।

দ্য টাইমস পত্রিকাকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি জানিয়েছিলেন যে চিকিৎসকরা তাঁকে পরিষ্কার ভাষায় বলেছিলেন, তাঁর উচিত খেলাধুলোকে চিরতরে বিদায় জানানো, যাতে তিনি অন্তত একটি স্বাভাবিক জীবনযাপন করতে পারেন। যে তরুণীর কাছে এই খেলাধুলাই ছিল ধ্যানজ্ঞান ও অস্তিত্বের একমাত্র অর্থ, তাঁর কাছে এই ধরনের পরামর্শ কতটা নির্মম মনে হতে পারে, তা একবার কল্পনা করা যায় কি?

তবে গভীর প্রেমে মগ্ন কোনো মানুষ কি কখনো প্রথাগত যুক্তি বা পরামর্শের ধার ধারে? চিকিৎসকদের সমস্ত নিষেধাজ্ঞা ও উপদেশকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে দীর্ঘ আঠারো মাস পর তিনি ফের মাঠে ফিরে আসেন। কিন্তু সে বছরের গ্রীষ্মকালেই তৃতীয়বারের মতো তাঁর সেই দুর্ভাগা হাঁটুর লিগামেন্ট ও মিনিস্কাস ছিন্ন হয়ে যায়। তবে এবার যা ঘটেছিল, তাকে নিছক দুর্ভাগ্য বলে এড়িয়ে যাওয়া কোনোভাবেই সম্ভব নয়।

সার্জারির পরের দিন নিজের বন্ধুবান্ধব ও ভাইদের সঙ্গে বসে একটি ফুটবল ম্যাচ উপভোগ করছিলেন তিনি। হঠাৎ করেই তাঁর হাঁটুতে শুরু হয় তীব্র ও অসহ্য এক যন্ত্রণা। তাঁর অনুভূতি হচ্ছিল কেউ যেন তীক্ষ্ণ ছুরি দিয়ে একের পর এক আঘাত হানছে ওই স্থানে। বিন্দুমাত্র বিলম্ব না করে তাঁকে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়, যেখানে পর্যাপ্ত মরফিন প্রয়োগ করেও সেই যন্ত্রণার উপশম করা সম্ভব হয়নি।

চিকিৎসকরা তাঁর হাঁটুর তরল অংশ সংগ্রহ করে পরীক্ষা করেন এবং সেই পরীক্ষার ফল দেখে তাঁদের উদ্বেগের মাত্রা বহুগুণ বেড়ে যায়। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, সেটি ছিল সিআরপি টেস্ট, যা মূলত শরীরের ভেতরের সংক্রমণের মাত্রা নির্দেশ করে থাকে। নিয়মানুযায়ী এই পরীক্ষার মান সাতের নিচে থাকার কথা থাকলেও তাঁর ক্ষেত্রে তা অতিক্রম করেছিল সাড়ে চার শ মাত্রা। মাত্র দুই সপ্তাহের দীর্ঘ ব্যবধানে তাঁকে মোট সাতটি জটিল অস্ত্রোপচারের মধ্য দিয়ে যেতে হয়। এই পরিস্থিতি দ্রুত সেপসিসে রূপ নিয়ে পুরো রক্তপ্রবাহের মধ্যে সংক্রমণ ছড়িয়ে দিয়েছিল।

মাত্র চৌদ্দ দিনের মধ্যে সাতটি বড় ধরনের সার্জারি! তৃতীয় অস্ত্রোপচারের পরবর্তী সময়ে যে মারাত্মক সংক্রমণ দেখা দিয়েছিল, তা এমন এক পর্যায়ে গিয়ে ঠেকেছিল যে সপ্তম দফার অপারেশনের সময় চিকিৎসকরা স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছিলেন, এবারও যদি অবস্থার উন্নতি না ঘটে, তবে তাঁর পা কেটে বাদ দেওয়া ছাড়া আর কোনো বিকল্প থাকবে না।

এই তীব্র সংক্রমণের সঙ্গে যুক্ত হয়েছিল প্রচণ্ড জ্বর, যার ফলে তাঁর শরীর থেকে খসে পড়েছিল প্রায় ১০ কেজি ওজন। কিছুদিন আগেও যিনি সবুজ মাঠে প্রজাপতির মতো হেলায় ছুটে বেড়াতেন, তিনি তখন হাসপাতালের শয্যায় প্রায় মৃতপ্রায় এক মানবী। জীবনের সেই চরম ক্রান্তিলগ্নে প্রতিটি রাতের অন্ধকারে কেবল একটি কথাই ঘুরপাক খেত তাঁর মাথার ভেতর।

সূত্র: জাতীয় দৈনিক আমার সকাল টিম।


নিউজটি পোস্ট করেছেন : জাতীয় দৈনিক মুক্ত কণ্ঠস্বর

কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
প্রবাসীদের মেলবন্ধনে মাঠে গড়াচ্ছে এক্সপ্যাট ওয়ার্ল্ড কাপ

প্রবাসীদের মেলবন্ধনে মাঠে গড়াচ্ছে এক্সপ্যাট ওয়ার্ল্ড কাপ