ঢাকা | বঙ্গাব্দ

আইএমএফের প্রাক্কলন: প্রবৃদ্ধি নামতে পারে ৩.২ শতাংশে

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Oct 28, 2026 ইং
আইএমএফের প্রাক্কলন: প্রবৃদ্ধি নামতে পারে ৩.২ শতাংশে ছবির ক্যাপশন:
ad728

নিজস্ব প্রতিবেদক মুক্ত কণ্ঠস্বর

আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংস্থার নতুন অর্থনৈতিক প্রাক্কলন বাংলাদেশের আর্থিক খাতের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে গভীর দুশ্চিন্তা তৈরি করেছে। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের অক্টোবর ২০২৬ সালের সাম্প্রতিক গবেষণা প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে যে, আসন্ন ২০২৬-২৭ অর্থবছরে দেশের মোট দেশজ উৎপাদনের প্রবৃদ্ধি মাত্র ৩ দশমিক ২ শতাংশে নেমে যেতে পারে। এমনকি পরবর্তী অর্থবছরে এই হার আরও হ্রাস পেয়ে ২ দশমিক ২ শতাংশে ঠেকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এরপর দীর্ঘমেয়াদে পরিস্থিতির সামান্য উন্নতি হলেও ২০৩০-৩১ অর্থবছরের মধ্যে তা বড়জোর ৩ শতাংশের কাছাকাছি পৌঁছাতে পারে। অন্যদিকে, বিশ্বব্যাংকের প্রাক্কলন অনুযায়ী প্রবৃদ্ধি হতে পারে ৩ দশমিক ৪ শতাংশ এবং এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের হিসাবে এই হার ৪ শতাংশের ঘরে থাকতে পারে। অথচ দেশের নীতি নির্ধারক ও সরকারের পক্ষ থেকে ৬ দশমিক ৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জনের উচ্চাভিলাষী লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। একই সাথে, আলোচ্য অর্থবছরে গড় মূল্যস্ফীতির হার ১০ দশমিক ৯ শতাংশে উন্নীত হতে পারে বলে আইএমএফ সতর্ক করেছে, যেখানে সরকারের কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৭ দশমিক ৫ শতাংশের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখা।

এই সমস্ত পূর্বাভাস ও প্রাক্কলনগুলোকে চূড়ান্ত অবধারিত পরিণতি হিসেবে দেখার সুযোগ নেই, কিংবা সরকারের নির্ধারিত লক্ষ্য পুরোপুরি অর্জিত হবে না—এমন কথাও এগুলো নিশ্চিত করে বলছে না। তবে দেশের সামগ্রিক অর্থনীতি বর্তমানে যে চ্যালেঞ্জিং গতিপথে পরিচালিত হচ্ছে, তাতে অতি দ্রুত ঘুরে দাঁড়ানো বা সংকট কাটিয়ে ওঠা যে বেশ দুরূহ হবে, এই মূল্যায়নই জোরালোভাবে উঠে আসছে এসব সতর্কবার্তায়। প্রবৃদ্ধির হার তলানিতে ঠেকায় এবং মূল্যস্ফীতির চাপ মাত্রাতিরিক্ত হওয়ায় সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার মান নিম্নমুখী হয়েছে, যার সাথে যুক্ত হয়েছে স্থবির বেসরকারি বিনিয়োগের চিত্র। নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি না হওয়ায় সামগ্রিক অর্থনৈতিক কার্যক্রমে একধরনের স্থবিরতা বা মন্দাবস্থা বিরাজ করছে।

এই ধরনের নাজুক পরিস্থিতির পেছনে আন্তর্জাতিক অঙ্গনের নানা ঘটনা এবং অভ্যন্তরীণ কাঠামোগত দুর্বলতা উভয় দিকই সমানভাবে দায়ী। মধ্যপ্রাচ্যে চলমান ভূরাজনৈতিক সংঘাত, জ্বালানি তেলের আন্তর্জাতিক বাজারমূল্য বৃদ্ধি এবং বৈশ্বিক সরবরাহ শৃঙ্খলে বড় ধরনের বাধার সৃষ্টি হওয়া আমদানি ব্যয়, পরিবহন খরচ ও দেশীয় উৎপাদন ব্যয়কে বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। যেহেতু বাংলাদেশের জ্বালানি চাহিদার বিশাল অংশই আমদানির ওপর নির্ভরশীল, তাই বৈশ্বিক এসব ধাক্কার নেতিবাচক প্রভাব এখানে তুলনামূলকভাবে অনেক বেশি অনুভূত হচ্ছে। এ ছাড়া বৈশ্বিক বাজারে দেশীয় পণ্যের চাহিদা হ্রাস পাওয়া এবং বিশ্ববাণিজ্যের সামগ্রিক অনিশ্চয়তা দেশের উৎপাদনমুখী কারখানাগুলোকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করছে। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল বিশ্ব অর্থনীতির প্রধান ঝুঁকি হিসেবে যুদ্ধবিগ্রহ, বাণিজ্য বিরোধ এবং সরকারি কাঠামোগত আর্থিক দুর্বলতাকেই চিহ্নিত করেছে।

অন্যদিকে, বাংলাদেশের অর্থনীতির অন্তর্নিহিত দীর্ঘমেয়াদী সমস্যাগুলো মূলত অভ্যন্তরীণ নীতি ও ব্যবস্থাপনার সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। দেশে সার্বিক বিনিয়োগের হার হ্রাসের পাশাপাশি ব্যবসার পরিচালন ব্যয় এবং ঋণের উচ্চ সুদহার নতুন উদ্যোগের ক্ষেত্রে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। নীতিমালার দীর্ঘসূত্রিতা ও অনিশ্চয়তা বিনিয়োগকারী মহলের আস্থা মারাত্মকভাবে নাড়া দিয়েছে, যার ফলে বেসরকারি খাতের উদ্যোক্তারা নতুন মূলধন বিনিয়োগ থেকে নিজেদের গুটিয়ে নিচ্ছেন। এর সাথে যোগ হয়েছে দীর্ঘস্থায়ী জ্বালানি সংকট, ব্যাংক খাতের অভ্যন্তরীণ ভঙ্গুরতা, আশঙ্কাজনক হারে কর আদায়ের ঘাটতি এবং সরকারি মেগা প্রকল্প বাস্তবায়নের নানা দুর্বলতা। ব্যবসায়িক অপারেশনের অনুকূল পরিবেশ থাকা সত্ত্বেও যদি নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ না মেলে, সহজে প্রাতিষ্ঠানিক ঋণ না পাওয়া যায় কিংবা নিয়মনীতি ও প্রবিধান ঘনঘন পরিবর্তনের আশঙ্কা থাকে, তবে উদ্যোক্তা সমাজ নতুন ঝুঁকি নিতে বরাবরই পিছপা হন।

বর্তমান সংকট মোকাবেলার অংশ হিসেবে বর্তমান প্রশাসন আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের সাথে নতুন একটি ঋণ প্যাকেজ নিয়ে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে। এই সম্ভাব্য ঋণ সহায়তার চুক্তির সাথে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ আর্থিক খাতে কাঠামোগত সংস্কার সম্পন্ন করার সুনির্দিষ্ট কিছু শর্ত যুক্ত থাকার কথা রয়েছে। তবে অর্থনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, আইএমএফের পক্ষ থেকে কোনো ঋণ সহায়তা পাওয়া যাক বা না যাক, সরকারের উচিত নিজস্ব তাগিদেই অতি দ্রুত এই প্রয়োজনীয় সংস্কারগুলো বাস্তবায়ন করা। বহিরাগত শক্তির চাপিয়ে দেওয়া শর্ত বাস্তবায়নের চেয়ে স্বউদ্যোগে দেশের স্বার্থে সংস্কার কাজ পরিচালনা করলে সেই প্রক্রিয়ার ওপর প্রকৃত রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মালিকানা বজায় থাকে।

দেশের ব্যাংক খাতের দীর্ঘস্থায়ী অসুস্থতাও সামগ্রিক অর্থনীতিকে একটি স্থায়ী স্থবিরতার মুখে আটকে রেখেছে। পর্যাপ্ত তদারকির অভাবে বিতরণকৃত ঋণের একটি বড় অংশই যথাসময়ে আদায় হচ্ছে না এবং ব্যাংক ব্যবস্থাপনার সামগ্রিক মানও অত্যন্ত দুর্বল পর্যায়ে রয়েছে। এর ফলে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো সাধারণ আমানতকারীদের কষ্টার্জিত অর্থ উৎপাদনশীল ও লাভজনক খাতে ঋণ হিসেবে বিতরণ করতে পারছে না। বিপরীত দিকে, পুঞ্জীভূত ঋণের বোঝা অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যাওয়া কিংবা ব্যবসায়িক আয় কমে যাওয়ার কারণে বহু প্রতিষ্ঠানই নতুন করে বিনিয়োগের জন্য ব্যাংক ঋণ লাভে ব্যর্থ হচ্ছে। ব্যবসার এই দুর্বলতা যেমন ব্যাংক খাতের খেলাপি ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়, তেমনি ব্যাংকিং খাতের সংকট আবার পুরো ব্যবসাবাণিজ্যকে আরও বেশি পঙ্গু করে তোলে। কোন কোন ঋণ ক্যাটাগরি সত্যিকার অর্থে আদায় করা সম্ভব এবং কোনগুলো চিরতরে খেলাপি হয়ে গেছে তা পরিষ্কার না করে কেবল নতুন অর্থায়ন দিয়ে এই দুষ্টচক্রের সমাধান সম্ভব নয়।

কম প্রবৃদ্ধির এই কঠোর অর্থনৈতিক চাপ দেশের প্রান্তিক ও সাধারণ মানুষ সবচেয়ে বেশি হাড়ে হাড়ে টের পাচ্ছে। বিশ্বব্যাংকের প্রকাশিত হিসাব অনুযায়ী, আগের অর্থবছরের তুলনায় ২০২৫-২৬ অর্থবছরে প্রায় ২১ লাখ মানুষ নতুন করে চরম দারিদ্র্যসীমার নিচে নীত হয়েছে। নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজারমূল্য লাগামহীনভাবে বেড়ে যাওয়ায় সীমিত মজুরি দিয়ে মানুষ আগের মতো জীবনযাত্রার ব্যয় মেটাতে পারছে না। কর্মসংস্থানের বাজার সংকোচনশীল হওয়ায় খেটে খাওয়া মানুষের পক্ষে নিজেদের আয় বৃদ্ধি করাও কঠিন হয়ে পড়েছে। যদিও প্রবাসী আয় বা রেমিট্যান্স দেশের পরিবারগুলোকে কিছুটা স্বস্তি দিচ্ছে এবং বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভে অবদান রাখছে, তবুও তা নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টিকারী বড় বিনিয়োগ ও বাণিজ্যিক উদ্যোগের কোনো বিকল্প হতে পারে না।

সরকারের নিজস্ব রাজস্ব আয় আশঙ্কাজনকভাবে কম থাকায় যেকোনো বড় ধরনের অর্থনৈতিক সংকট মোকাবেলা করার সামর্থ্য ও ক্ষমতাও দিন দিন সীমিত হয়ে পড়ছে। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর হালনাগাদ তথ্য অনুযায়ী, আলোচ্য ২০২৬-২৭ অর্থবছরে জিডিপির মাত্র ৮ দশমিক ৫ শতাংশ সমপরিমাণ রাজস্ব আদায় হতে পারে বলে প্রাক্কলন করা হয়েছে। কর এবং অন্যান্য উৎস থেকে সরকারের অভ্যন্তরীণ আয় কম হলে জনসেবা প্রদান, মানসম্মত অবকাঠামো নির্মাণ এবং দরিদ্র ও দুস্থ পরিবারগুলোকে সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনীর আওতায় সহায়তা দেওয়ার মতো পর্যাপ্ত অর্থ কোষাগারে থাকে না। এমনকি রাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ ও বৈদেশিক ঋণের সুদ পরিশোধ করতেই সরকারি আয়ের সিংহভাগ অর্থ ব্যয় হয়ে যাচ্ছে।

এই বহুমুখী সংকটময় পরিস্থিতি থেকে সফলভাবে উত্তরণ ঘটাতে হলে সরকারকে এখনই সুনির্দিষ্ট কিছু অগ্রাধিকারমূলক কর্মপন্থা নির্ধারণ ও বাস্তবায়ন করতে হবে। সবার প্রথমে ব্যাংকিং খাতের দীর্ঘদিনের অনিয়ম দূর করে কঠোর শৃঙ্খলা ও জবাবদিহি ফিরিয়ে আনার কোনো বিকল্প নেই। ব্যাংক খাতের মূল দায়িত্ব হলো সাধারণ আমানতকারীদের গচ্ছিত অর্থের সর্বোচ্চ নিরাপত্তা বিধান করা এবং তা সৎ ও সম্ভাবনাময় ব্যবসায়িক উদ্যোগে ঋণ হিসেবে বিনিয়োগ করা। বাংলাদেশ ব্যাংকের উচিত প্রতিটি বাণিজ্যিক ব্যাংকের পোর্টফোলিও নিবিড়ভাবে অডিট করে দেখা যে কোন ব্যাংকের ঋণ ঠিক কতখানি ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে।

তুলনামূলকভাবে দুর্বল ও তারল্য সংকটে ভোগা ব্যাংকগুলোকে সুনির্দিষ্ট সময়সীমা বেঁধে দিয়ে তাদের সব গোপন লোকসান ব্যালেন্স শিটে হিসাবভুক্ত করতে হবে, বকেয়া ঋণ পুনরুদ্ধারে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে এবং নিজস্ব মূলধনের ঘাটতি পূরণের বাস্তবসম্মত পরিকল্পনা জমা দিতে হবে। স্বচ্ছ ও নিখুঁত শর্ত কিংবা ঘুরে দাঁড়ানোর বিশ্বাসযোগ্য কোনো রূপরেখা ছাড়া শুধুমাত্র করদাতাদের কষ্টার্জিত অর্থের অর্থে কোনো ব্যাংক বা করপোরেট প্রতিষ্ঠানকে কৃত্রিমভাবে টিকিয়ে রাখা নীতিগতভাবে সম্পূর্ণ অনুচিত।

অতিরিক্ত ঋণের চাপে জর্জরিত অথচ পর্যাপ্ত উৎপাদন ক্ষমতা ও ব্যবসা চালিয়ে যাওয়ার ন্যূনতম সক্ষমতা রয়েছে এমন বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে তাদের পুঞ্জীভূত ঋণ পরিশোধ এবং ব্যবসা পুনরুদ্ধারের জন্য স্বচ্ছ ও সময়াবদ্ধ কর্মপরিকল্পনা প্রণয়নের সুযোগ দিতে হবে।

দ্বিতীয়ত, মূল্যস্ফীতির ঊর্ধ্বগতি কার্যকরভাবে নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি দেশের সামগ্রিক ব্যবসা-বাণিজ্য ও শিল্পোৎপাদন কার্যক্রম সচল রাখার দিকে সর্বোচ্চ নজর দিতে হবে। সরকারকে যেকোনো মূল্যে অনুৎপাদনশীল ও কম প্রয়োজনীয় সরকারি ব্যয় কঠোরহাতে কমাতে হবে এবং বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে অতিরিক্ত ঋণ নেওয়ার প্রবণতা থেকে পুরোপুরি বিরত থাকতে হবে। ব্যাংক ঋণের সুদের হার এবং সার্বিক মুদ্রানীতি এমন একটি সুষম কাঠামোর আওতায় পরিচালনা করতে হবে যাতে বাজারে মূল্যস্ফীতি ক্রমান্বয়ে হ্রাস পায়। করজালের পরিধি আরও প্রসারিত করে নতুন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে এর আওতায় আনতে হবে, অপ্রয়োজনীয় ও অযৌক্তিক কর ছাড়ের সংস্কৃতি পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে পর্যালোচনা করতে হবে এবং আধুনিক ডিজিটাল ডেটাবেজ ব্যবহার করে ব্যাপকভিত্তিক কর ফাঁকি রোধ করতে হবে।

তৃতীয়ত, সরকারি কোষাগারের অর্থে বাস্তবায়িত বড় বড় অবকাঠামো প্রকল্পগুলো থেকে দীর্ঘমেয়াদী অর্থনৈতিক ও সামাজিক সুফল নিশ্চিত করার তাগিদ রয়েছে। যথাযথ জমি অধিগ্রহণ, নিখুঁত ডিজাইন প্রণয়ন, পর্যাপ্ত অর্থের সংস্থান এবং সুনির্দিষ্ট দরপত্র প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার পরেই কেবল নতুন কোনো প্রকল্প হাতে নেওয়া উচিত। প্রকল্প শুরুর প্রাক্কালে এর সুনির্দিষ্ট ব্যয় প্রাক্কলন, কাঙ্ক্ষিত অর্থনৈতিক লাভ এবং সংশ্লিষ্ট প্রকল্পের প্রকৃত প্রয়োজনীয়তা কঠোরভাবে যাচাই-বাছাই করা বাধ্যতামূলক। প্রতিটি মেগা প্রকল্পের নির্মাণ ব্যয়, কাজের ভৌত অগ্রগতি এবং নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা জনসমক্ষে প্রকাশ করতে হবে। নির্মিত রাস্তাঘাট, সেতু বা বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণের জন্য বাজেটে পর্যাপ্ত অর্থ বরাদ্দ রাখতে হবে। প্রকল্প বাস্তবায়নে কালক্ষেপণ হলে, ভুল বা অপরিকল্পিত উপায়ে প্রকল্প নির্বাচিত হলে কিংবা সাধারণ মানুষের যাতায়াত, জ্বালানি ও মৌলিক সেবা না বাড়লে কেবল বিপুল পরিমাণ অর্থ ঢেলে কখনোই টেকসই প্রবৃদ্ধি অর্জন সম্ভব নয়।

পরিশেষে, বিনিয়োগকারীদের হারিয়ে যাওয়া আস্থা ফিরিয়ে আনতে হলে নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি সরবরাহ এবং স্থিতিশীল ও দীর্ঘমেয়াদী অর্থনৈতিক নীতি অত্যন্ত জরুরি। সৌরবিদ্যুৎ খাতের মতো নবায়নযোগ্য জ্বালানি প্রকল্পে মোট কত ব্যয় হবে এবং তা কবে নাগাদ আলোর মুখ দেখবে, সে বিষয়ে স্পষ্ট তথ্য জনসমক্ষে প্রকাশ করা উচিত। সব বিদ্যুৎ ক্রয় চুক্তি স্বচ্ছভাবে উন্মুক্ত করা প্রয়োজন। বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলো অলস বসে থেকে কোনো বিদ্যুৎ উৎপাদন না করলেও কেবল ক্যাপাসিটি চার্জ বাবদ রাষ্ট্রের কোষাগার থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ পাওয়ার যে সংস্কৃতি চালু রয়েছে, সেই ব্যয় কাঠামো অবিলম্বে পুনর্বিবেচনা করা দরকার। দেশীয় গ্যাস অনুসন্ধানের কার্যক্রম ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি করতে হবে, বিদ্যুৎ সঞ্চালন নেটওয়ার্কের আধুনিকায়ন করতে হবে এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানি জাতীয় গ্রিডের সাথে নির্বিঘ্নে সংযুক্ত করতে হবে।

ব্যাংক খাতের দুর্নীতি, খেলাপি ঋণের সংকট, ক্রমবর্ধমান জ্বালানি ব্যয়, অপ্রতুল সরকারি রাজস্ব এবং দুর্বল বেসরকারি বিনিয়োগের প্রতিটি সমস্যাই একে অন্যের সাথে গভীরভাবে সম্পৃক্ত। তাই এই বহুমাত্রিক সংকটগুলো এককভাবে নয়, বরং সমন্বিতভাবে দেশের অভ্যন্তরীণ উৎস ও সদিচ্ছা থেকেই কাঠামোগত সংস্কারের মাধ্যমে সমাধান করতে হবে।

সূত্র: জাতীয় দৈনিক আমার সকাল টিম।


নিউজটি পোস্ট করেছেন : জাতীয় দৈনিক মুক্ত কণ্ঠস্বর

কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
ইউপি নির্বাচনে তৃণমূলকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হবে: সরোয়

ইউপি নির্বাচনে তৃণমূলকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হবে: সরোয়