ঢাকা | বঙ্গাব্দ

আগস্টে ক্রেডিট কার্ডে লেনদেন বেড়ে ৪,০৮৯ কোটি টাকা, ডিজিটাল লেনদেনের দিকে ঝোঁক বাড়ছে

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Oct 21, 2026 ইং
আগস্টে ক্রেডিট কার্ডে লেনদেন বেড়ে ৪,০৮৯ কোটি টাকা, ডিজিটাল লেনদেনের দিকে ঝোঁক বাড়ছে ছবির ক্যাপশন:
ad728

নিজস্ব প্রতিবেদক মুক্ত কণ্ঠস্বর

বাংলাদেশ ব্যাংকের সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে প্রকাশ পেয়েছে যে দেশে ক্রেডিট কার্ডের ব্যবহার ক্রমান্বয়ে বৃদ্ধি পাচ্ছে। গত আগস্ট মাসে দেশের ভেতরে ও বাইরে ক্রেডিট কার্ডের মাধ্যমে মোট ৪ হাজার ৮৯ কোটি টাকার আর্থিক লেনদেন সম্পন্ন হয়েছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, নগদ মুদ্রার ওপর নির্ভরতা কমিয়ে মানুষ এখন ডিজিটাল মাধ্যমের দিকে ঝুঁকছে এবং এর ফলে ক্রেডিট, ডেবিট ও প্রিপেইড কার্ডের পরিধি ও ব্যবহার উভয়ই সম্প্রসারিত হচ্ছে।

গত বছরের আগস্ট মাসের তুলনায় চলতি বছরের একই সময়ে ক্রেডিট কার্ডের লেনদেন উল্লেখযোগ্য পরিমাণে বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০২৫ সালের আগস্টে যেখানে মোট লেনদেনের পরিমাণ ছিল ৩ হাজার ১৪৪ কোটি টাকা, সেখানে সদ্য সমাপ্ত আগস্টে তা ৯৪৫ কোটি টাকা বা ৩০ দশমিক শূন্য ৩ শতাংশ বেড়ে দাঁড়ায় ৪ হাজার ৮৯ কোটি টাকায়। তবে বার্ষিক প্রবৃদ্ধি ঘটলেও ঠিক আগের মাস অর্থাৎ জুলাইয়ের তুলনামূলক বিশ্লেषণে আগস্ট মাসে সামগ্রিক লেনদেন ৫ দশমিক ৪৪ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে বলে জানিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের হিসাব অনুযায়ী, আগস্ট মাসে দেশের অভ্যন্তরে ক্রেডিট কার্ডের মাধ্যমে সবচেয়ে বেশি ব্যয় হয়েছে বিভিন্ন ডিপার্টমেন্ট স্টোর বা বিপণিবিতানগুলোতে। এ খাতে সর্বমোট ১ হাজার ৯৬৯ কোটি টাকা খরচ করা হয়েছে, যা দেশের মোট অভ্যন্তরীণ লেনদেনের প্রায় ৪৮ দশমিক ১৪ শতাংশ। এর আগে জুলাই মাসে বিপণিবিতানগুলোতে ২ হাজার ১৭৬ কোটি টাকার লেনদেন হয়েছিল, যা তখনকার মোট লেনদেনের ৫০ দশমিক ৩১ শতাংশ ছিল।

বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিসংখ্যানে আরও প্রকাশ পেয়েছে যে আগস্টে দেশের ভেতরে ক্রেডিট কার্ডে সংঘটিত মোট ব্যয়ের বড় একটি অংশ অর্থাৎ ৯৩ দশমিক ৩৭ শতাংশই খরচ হয়েছে নানা ধরনের পণ্য ও সেবা ক্রয়ের পেছনে। এর বিপরীতে এটিএম বা অন্যান্য মাধ্যম থেকে নগদ টাকা উত্তোলনের হার ছিল মাত্র ৬ দশমিক ৪৩ শতাংশ। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মূল্যায়ন অনুযায়ী, দৈনন্দিন ব্যবহারের নিত্যপণ্য কেনাকাটা, ব্যাংকগুলোর আকর্ষণীয় প্রচারমূলক সুবিধা এবং শপিং মলগুলোতে কার্ডের মাধ্যমে পেমেন্ট গ্রহণের সুযোগ ব্যাপকহারে বৃদ্ধি পাওয়ার কারণেই এই খাতে কার্ডের ব্যবহার সবচেয়ে বেশি হচ্ছে।

দেশের সীমানা পেরিয়ে বিদেশেও কার্ডের মাধ্যমে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা খরচ করেছেন বাংলাদেশি নাগরিকেরা। আগস্ট মাসে দেশের বিভিন্ন ব্যাংক থেকে ইস্যুকৃত ক্রেডিট, ডেবিট এবং প্রিপেইড কার্ড ব্যবহার করে বিদেশ বিভুঁইয়ে প্রায় ৯৮৭ কোটি টাকার লেনদেন করেছেন তারা। এর মধ্যে এককভাবে শুধু ক্রেডিট কার্ডের মাধ্যমেই খরচ হয়েছে ৫০৫ কোটি টাকা, যেখানে ডেবিট কার্ডে ৪২২ কোটি এবং প্রিপেইড কার্ডের মাধ্যমে ব্যয় হয়েছে ৬০ কোটি টাকা।

বিদেশ ভ্রমণের সময় বা অনলাইন কেনাকাটায় ক্রেডিট কার্ড ব্যবহার করে বাংলাদেশিরা সবচেয়ে বেশি অর্থ ব্যয় করেছেন যুক্তরাষ্ট্রে। প্রাপ্ত তথ্য বলছে, বিদেশি ক্রেডিট কার্ডে হওয়া মোট ব্যয়ের প্রায় ১৭ দশমিক ১৬ শতাংশই হয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে। আমেরিকার পর দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ১০ দশমিক ৮৬ শতাংশ ব্যয় হয়েছে থাইল্যান্ডে, ৯ দশমিক ৭৫ শতাংশ যুক্তরাজ্যে এবং ৯ দশমিক ১২ শতাংশ খরচ হয়েছে প্রতিবেশী দেশ ভারতে।

অন্যদিকে, বৈদেশিক নাগরিকদের ক্ষেত্রে বিপরীত চিত্রও দেখা গেছে, যেখানে বিদেশি ব্যাংকগুলোর ইস্যু করা কার্ড বাংলাদেশে ব্যবহার করে আগস্ট মাসে ২৪৯ কোটি টাকার লেনদেন হয়েছে। এই অংকটি জুলাই মাসের ২৩৪ কোটি টাকার তুলনায় ৬ দশমিক ২৭ শতাংশ বেশি। অর্থাৎ দেশি ও বিদেশি উভয় পরিমণ্ডলেই কার্ডভিত্তিক লেনদেনের বহুমুখী বিস্তার ঘট চলেছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ হালনাগাদ তথ্য থেকে জানা যায়, আগস্ট মাসের শেষ নাগাদ দেশের মোট ৪৭টি তফসিলি ব্যাংক এবং একটি আর্থিক প্রতিষ্ঠানের অনুমোদিত ক্রেডিট কার্ডের সর্বমোট ঋণসীমা ছিল ৪৩ হাজার ১০৮ কোটি টাকা। এর বিপরীতে কার্ডধারীদের মোট বকেয়া ঋণের পরিমাণ দাঁড়ায় ১৪ হাজার ৪৮২ কোটি টাকায়, যা ব্যাংক খাতের সামগ্রিক ঋণ ব্যবস্থাপনার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

সবশেষে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের দীর্ঘমেয়াদি পরিসংখ্যানে দেখা যায়, ২০২১ সালের সেপ্টেম্বর মাস থেকে শুরু করে ২০২৬ সালের আগস্ট মাস পর্যন্ত এই পাঁচ বছরের ব্যবধানে দেশে ইস্যুকৃত ডেবিট, ক্রেডিট ও প্রিপেইড কার্ডের সংখ্যা বেড়েছে শতকরা ৯৬ ভাগ। একই সঙ্গে উল্লিখিত এই সময়ে দেশের কার্ডভিত্তিক লেনদেনের মোট আর্থিক পরিমাণও বৃদ্ধি পেয়েছে শতকরা ১০৩ ভাগ, যা দেশের ডিজিটাল অর্থনীতির শক্তিশালী অগ্রগতির ইঙ্গিত দেয়।


নিউজটি পোস্ট করেছেন : জাতীয় দৈনিক মুক্ত কণ্ঠস্বর

কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
যমুনা সেতুতে ৩২ ঘণ্টায় সাড়ে ৩ কোটি টাকার টোল আদায়

যমুনা সেতুতে ৩২ ঘণ্টায় সাড়ে ৩ কোটি টাকার টোল আদায়