ঢাকা | বঙ্গাব্দ

সাহিত্যের ক্যানভাসে রূপক ও জীবনের মেটাফোর

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Nov 7, 2026 ইং
সাহিত্যের ক্যানভাসে রূপক ও জীবনের মেটাফোর ছবির ক্যাপশন:
ad728

নিজস্ব প্রতিবেদক মুক্ত কণ্ঠস্বর

কথাসাহিত্যিক আখতারুজ্জামান ইলিয়াস নিজের জীবনকালে একটা নিখাদ মুক্তির গল্প ও যুদ্ধের সাহিত্য লিখে যাওয়ার গভীর বাসনা লালন করেছিলেন। সেই অমর উপন্যাস তিনি শেষমেশ সম্পন্ন করতে না পারলেও, বাংলা কথাসাহিত্যের ইতিহাসে তাঁর সেই অসমাপ্ত আকুতি এক চিরন্তন শূন্যতা ও দীর্ঘশ্বাসের জন্ম দিয়েছে। অন্যদিকে তরুণ হিমেলের প্রবল ইচ্ছা ছিল বরেণ্য এই লেখকের জীবন ও সৃষ্টি নিয়ে একটি পূর্ণাঙ্গ সিনেমা নির্মাণ করার। আর্টফিল্ম বানানোর এই প্রচেষ্টায় তার খ্যাতি ও স্বীকৃতি পাওয়ার পথও সহজ হতে পারত। আর একাত্তরের রণাঙ্গনে সবকিছু হারানো সাজ্জাদ আলী নিজের ব্রত হিসেবে বেছে নিয়েছিল সারা দেশের শহীদদের একটি নিখুঁত তালিকা তৈরি করার মহৎ কাজ। কিন্তু বাস্তব দুনিয়ায় মানুষের এত সব সুন্দর চাওয়া বা আকাঙ্ক্ষা কি শেষ পর্যন্ত পূর্ণতার মুখ দেখে?

এই সমস্ত চরিত্রকে অদ্ভুত এক খোঁয়ারি বা ঘোরের মাঝে ফেলে দেয় তমিজের বাপ, কাৎলাহার বিলের ধারের প্রাচীন পাকুড়গাছ কিংবা পীর আয়েত আলি শাহের পরিবারের সেই পীর। তা ছাড়া হিমেলের প্রয়াত বাবা অথবা উপন্যাসের অন্যান্য চরিত্রও এই জালে জড়িয়ে পড়ে। কথাসাহিত্যিক আখতারুজ্জামান ইলিয়াসের জীবনে হঠাৎ করেই মারণব্যাধি ক্যানসার আক্রমণ করে বসল। 'খোয়াবনামা' উপন্যাসের স্বপ্ন দেখতে দেখতে কখন যে তাঁর শরীরের একটি পা কেটে বাদ দিতে হলো, তিনি তা ঠিকমতো টের পর্যন্ত পেলেন না। অন্যায়ের কাছে সর্বদা আপসহীন এই মানুষটিকে একপর্যায়ে একটি পুরস্কারের অর্থমূল্য মাথা পেতে গ্রহণ করতে হয়েছিল, যা তিনি আসলে নিজ ইচ্ছায় চাননি। শেষ পর্যন্ত মরণব্যাধির কাছে তাঁকে বাধ্যতামূলকভাবে নতি স্বীকার করতে হলো।

শহীদদের তালিকা তৈরির মহৎ উদ্দেশ্যে সাজ্জাদ আলী নিজের নববধূর দেখা মিষ্টি স্বপ্নগুলোতে অবলীলায় পানি ঢেলে দিয়েছিল। এক মরীচিকার পেছনে প্রায় অর্ধশূণ্য বছর ছুটে বেড়ানো এই মানুষটি নিজের স্ত্রী ও সন্তানের প্রতি একবারের জন্যও একটু মায়া-মমতা দেখানোর ফুরসত পায়নি। নিজে পীরবাড়ির সন্তান হওয়া সত্ত্বেও তার পূর্বপুরুষের মাজার এবং একান্ত কিছু অমূল্য জিনিসপত্র দখল করে নিয়েছিল তারই বন্ধু দুলাল। শেষ পর্যন্ত সেই দুলালকেও নিয়তির কোনো এক নির্মম শক্তির কাছে নতি স্বীকার করতে হয়েছিল। হিমেলের জীবনে প্রধানত দুটি জিনিস চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করেছে, যার একটি হলো তার বাবা আর অন্যটি তার সুদূরপ্রসারী একটা স্বপ্ন। ডিমেনশিয়ায় আক্রান্ত অসুস্থ বাবাকে একাকী ঘরের কোণে ফেলে রেখে সে চষে বেড়িয়েছে এমন সব দুর্গম এলাকা, যেখানে অতীতে ছুটেছিল মঞ্জু।

মঞ্জুর মনের ভেতর তীব্র বাসনা ছিল মুক্তিযুদ্ধের অবিকল একটা গল্প ফুটিয়ে তোলার, আর হিমেলের স্বপ্ন ছিল সেই মঞ্জুকে বা ইলিয়াসকে কেন্দ্র করে রূপালি পর্দায় সিনেমা নির্মাণ করা। নিকেতন থেকে সুদূর মহাস্থানগড় পর্যন্ত এক দিনের ব্যবধানে চষে বেড়াতেও তার শারীরিক কোনো ক্লান্তি আসত না। কিন্তু জীবনের শেষ মুহূর্তে যখন তার সামনে 'ইটস ইউর কল' বা চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় এসে হাজির হলো, তখন সে কেন নিজের সেই সাধের স্বপ্নকে চিরতরে মাটিচাপা দিয়ে দিল? ত্রিশ লাখ শহীদের প্রাণের বিনিময়ে অর্জিত এই দেশে সাজ্জাদ আলীর সদ্যবিবাহিতা স্ত্রী নাসিমার স্বপ্ন কেন তবে সফল হবে না? কী এমন বাধ্যবাধকতা ছিল যার কারণে এই অভাগী নারীকে ভুল বা পাপের পথ বেছে নিতে হলো?

যে মহান লক্ষ্য ও সুদূরপ্রসারী স্বপ্নের পেছনে সাজ্জাদ এক যুগ ধরে অবিরাম ছুটে চলেছে, তার কি আদৌ কোনো সন্তোষজনক শেষ পরিণতি আছে? উপন্যাসের পটভূমিতে একদিকে যেমন পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী বন্দুকের নলের মুখে নির্বিচারে মানুষ হত্যা করছে, অন্যদিকে ঠিক তখনই ভোরের প্রথম ফোটা কমলা রঙের মিষ্টি আলোয় চারপাশ মুগ্ধ হয়ে উঠছে। উপন্যাসে ব্যবহার করা এই রূপক বা মেটাফোরগুলো সত্যিই অসাধারণ ও মননশীল। আবার অন্যদিকে দেশভাগের করুণ ট্র্যাজেডির সঙ্গে কথাসাহিত্যিক ইলিয়াসের কেটে বাদ দেওয়া পা হারানোর বেদনাকে মেলানো হয়েছে। এই গভীর মেটাফোরগুলো পাঠকের চিন্তার খোরাক জোগাতে বাধ্য করে এবং মনের ভেতরে নানা প্রশ্নের উদ্রেক ঘটায়।

পুরো উপন্যাসজুড়ে লেখক ছোট-বড় অসংখ্য প্রতীকী মেটাফোর অত্যন্ত সুনিপুণভাবে ছড়িয়ে রেখেছেন। বিশেষ করে আখতারুজ্জামান ইলিয়াসের সঙ্গে প্রখ্যাত কথাসাহিত্যিক মহাশ্বেতা দেবীর সাক্ষাতের দৃশ্যটি এক অদ্ভুত ও মায়াবী পরিবেশ তৈরি করে। সেই সাক্ষাৎকারে এক অদ্ভুত সুন্দর মোহময়ী আবেশের সৃষ্টি হয়েছিল যা পাঠককে এক অন্য ভুবনে নিয়ে যায়। কার ব্যক্তিগত বা পারিবারিক জীবনে দুঃখ-কষ্টের অভাব রয়েছে? কিন্তু আমরা নিজেদের মনের ভেতরকার সেই জমাট বাঁধা কষ্টগুলোকে চাপা হাসির চাদরে ঢেকে রেখে কাউকে বুঝতে দিই না। লেখকের নিজস্ব ভাষায় যেমন বলা হয়েছে, বেঁচে থাকাটা অনেকটা তেমনই, সারা জীবন শুধু ঝাঁকি লাগে এবং মনে হয় এখনই বুঝি পড়ে যাব, কিন্তু কেবল সেই আশঙ্কায় তো আর গতির ট্রাক থামিয়ে দেওয়া যায় না।

এই পুরো আখ্যানে অজস্র চেনা-অচেনা সিনেমা, বহু স্বনামধন্য লেখক থেকে শুরু করে পরিচালক ও অভিনেতাদের নাম অত্যন্ত সুচারুভাবে উঠে এসেছে। এর মাঝে এমন একজন বিশিষ্ট লেখকের সরব উপস্থিতি রয়েছে, যাঁর নাম সরাসরি উল্লেখ করা হয়নি। অন্য একটি বইয়ের পর্যালোচনা পড়ে তবেই কেবল এই গভীর রহস্যটা পরিষ্কার বোঝা সম্ভব হয়েছে। অসুবিধায় পড়া মঞ্জু টাইপরাইটারের খটখট শব্দের মাধ্যমে যে সাহিত্যকর্ম লিখে যেতে চেয়েছিলেন, লেখক সুহান রিজওয়ান কি খুব অল্প কথায় সেই সুগভীর গল্পটিই আমাদের সামনে তুলে ধরলেন? কারণ বইটির পাতার পর পাতা উল্টাতে উল্টাতে ঠিক তেমন একটা জোরালো ইঙ্গিতই পাঠক মাত্রেরই গোচরীভূত হয়।

উপন্যাসের শুরুর দিক থেকেই কেন যেন মনে একধরনের অদ্ভুত কৌতূহল জাগছিল এবং পরবর্তী সময়ে গল্পের এক চরিত্রের চিন্তাধারা ঠিক একই প্রশ্ন আমার নিজের মনেও নতুন করে জাগিয়ে তুলল। কলকাতার হাসপাতাল কিংবা ঢাকার ক্লিনিকে মঞ্জুর চিকিৎসা বা পীরের মাজারের সেই অদ্ভুত রহস্যময় মানুষটি, হিমেলের জীবনের নানা বাঁক অত্যন্ত সাবলীল ও ঝরঝরে ভাষায় জীবন্ত হয়ে উঠেছে। এই নিখুঁত বর্ণনা পড়তে পড়তে বারবার মনে হচ্ছিল বইটির পাতা যেন ফুরিয়ে না যায়, উপন্যাসটা যেন এখানেই শেষ না হয়! মঞ্জুর স্ত্রী তুতুল চরিত্রটি যেন অবিকল একটি ফুটফুটে শিউলি ফুলের মতো পবিত্র ও স্নিগ্ধ। এই উপন্যাসটি পড়তে পড়তে বিশেষ করে অক্টোবরের এই মনোরম সময়ে চারপাশজুড়ে এক মিষ্টি সুবাস ও অদ্ভুত সাহিত্যিক আবেশ ছড়িয়ে পড়ে।

সাজ্জাদের নিখুঁত করে তৈরি করা সেই শহীদের তালিকায় সামান্য হলেও কিছু খাদ বা ত্রুটি রয়ে গিয়েছিল, যার বিনিময়ে সে এমন কিছু টিকিয়ে রাখতে চেয়েছিল যা সে বছরের পর বছর নিজ চোখে দেখেও না দেখার ভান করেছে। অন্যের সেই পাপ নিজ চোখে স্পষ্ট দেখার পরেও সে যেন মুখে টিনের চশমা পরে উদাসীন হয়ে বসে ছিল। কিন্তু সে কি শেষ পর্যন্ত নিজের লক্ষ্য হাসিল করতে পেরেছিল? লোহা আর চুম্বকের দুর্নিবার আকর্ষণের মতো হিমেলের ভেতরকার ইলিয়াসপ্রেমের তীব্র মোহ আবেশে জড়িয়ে নিয়েছিল অনীমকে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত ওই যে একটা কাঠামোগত সিস্টেম বা প্রাতিষ্ঠানিক ঘোরাটোপ, যার ভেতরে সবকিছু অসহায়ভাবে বন্দী হয়ে থাকে। প্রকৃতির নিয়মেই এই পৃথিবীতে কিছু পেতে হলে তার বিনিময়ে অবধারিতভাবেই কিছু না কিছু মূল্যবান জিনিস হারাতেই হয়।

'ইটস ইউর কল' বা অন্তিম সিদ্ধান্তের এই বার্তাটি প্রতিটি চরিত্রের ক্ষেত্রেই অত্যন্ত নিখুঁতভাবে প্রযোজ্য। সে হতে পারে সাধারণ পাঠক হিসেবে আমি কিংবা আপনি, হতে পারে অভাগী নাসিমা কিংবা অসুস্থ মঞ্জু, হতে পারে হিমেল অথবা অনীম, সাজ্জাদ কিংবা দুলাল, এমনকি রাজাকার আব্বাস পর্যন্ত। আমাদের স্বাধীন দেশ কিংবা এই বিশাল পৃথিবী, অথবা আমাদের ব্যক্তিগত জীবনের অত্যন্ত ক্ষুদ্র পরিসর—সবকিছুই যেন একটি রঙিন বায়োস্কোপের পর্দার মতো চোখের পলকে নাটকীয়ভাবে পরিবর্তিত হয়ে যায়। সেই পরিবর্তনশীল প্রেক্ষাপটে ইলিয়াস, হিমেল কিংবা সাজ্জাদের ব্যক্তিগত জীবনের এই অভাবনীয় উত্থান-পতন কি খুব একটা অস্বাভাবিক কিছু? ঠিক যেভাবে আমাদের দেশের রাজনীতির ময়দান ক্ষণে ক্ষণে তার রঙ বদলায়, ঠিক সেভাবেই অবলীলায় বদলে যায় আমাদের জাতীয় ইতিহাস।

হিমেল যদি শেষ পর্যন্ত ইলিয়াসকে নিয়ে মনের মতো একটি প্রামাণিক সিনেমা তৈরি করতে পারত, তবে সে হয়তো নিজেকে কখনোই 'ইম্পোস্টার' বা প্রতারক বলে ভাবতে বাধ্য হতো না। সে হয়তো নিজের বাবার কাছে একজন ব্যর্থ সন্তান হিসেবে পরিচিত হতো না কিংবা নিজের সংসারের একজন ব্যর্থ স্বামী হিসেবেও অন্তরে দহন অনুভব করত না। হয়তো আন্তর্জাতিক অঙ্গনের অস্কারের কোনো মর্যাদাপূর্ণ মঞ্চ তাকে সসম্মানে ডেকে নিত। আখতারুজ্জামান ইলিয়াস যদি মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে তাঁর সেই কাঙ্ক্ষিত উপন্যাসটি সম্পূর্ণ লিখে যাওয়ার সুযোগ পেতেন, তবে হয়তো আমাদের দেশের মহান মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসের একটি অকাট্য প্রামাণিক দলিল অক্ষত থেকে যেত। না চাইতেও বাধ্য হয়ে যে রাষ্ট্রীয় পুরস্কার তাঁকে গ্রহণ করতে হয়েছিল এবং ভালো-মন্দের চরম দ্বন্দ্বের মাঝে পড়ে মন্দের ভালো গতির চিকিৎসায় বাধ্য হওয়ার আক্ষেপ হয়তো তাঁর মনে থাকত না।

সাজ্জাদ যদি ভুলত্রুটিহীনভাবে শহীদদের সেই তালিকা সঠিকভাবে সম্পন্ন করতে পারত, তবে হয়তো তার অবহেলিত ময়না পাখিকে দূরে সরিয়ে রাখার কষ্টটা তাকে আরও বেশি করে কুরে কুরে খেত। কিংবা দেশের জন্য কিছু একটা করার যে সুপ্ত অহংকার, তা আরও দৃঢ় হতো। পীরের বিশেষ দোয়া তো বটেই! অসংখ্য রূপক ও মেটাফোরে ভরপুর এই উপন্যাসের শেষ পাতা উল্টে ফেলার পরেও আমি নিজেই এক গভীর খোঁয়ারির ভেতরে আচ্ছন্ন হয়ে আছি। এই ঘোর বা মোহ কবে কাটবে, তা আমার জানা নেই। এই অনন্যসাধারণ বইটি নিয়ে একটানা পাতার পর পাতা লিখে যাওয়া সম্ভব। এর ভেতরের পরাবাস্তব কিছু দৃশ্য এতটাই জীবন্ত যে পাঠক হিসেবে নিজে ঠিক কোন ভুবনে অবস্থান করছি, তা নিয়ে মনের ভেতর একধরনের তীব্র দ্বিধা কাজ করে।

আমার নিজের ব্যক্তিগত পছন্দের একটি বিশেষ শব্দ হলো 'বিষণ্ন সুন্দর'। এই অসাধারণ বইটির উপমা এর চেয়ে সুন্দর আর কী-ই বা হতে পারে, তা আমার জানা নেই। এই উপন্যাসটি যদি আরও অন্তত তিনশো পাতা বড় হতো, তবেও আমি পড়তে পড়তে বিন্দুমাত্র ক্লান্ত বোধ করতাম না। উপন্যাসের প্রতিটি ছত্র যেন টলমল করা নদীর স্বচ্ছ জলের মতো বয়ে চলেছে—এর ভাষার অতুলনীয় গাঁথুনি, নিখুঁত বাক্যবিন্যাস কিংবা অপূর্ব উপমা কোনো জায়গায় লেশমাত্র খাদ নেই। এই উপন্যাসে লেখক মূলত প্রধান তিনিত্রিক চরিত্রের জীবনের দিগ্‌বলয় সাজিয়েছেন, কিন্তু গভীরভাবে লক্ষ করলে দেখা যাবে এর পরিধি অত্যন্ত বহুমুখী ও বিস্তৃত। তুতুল কিংবা নাসিমা অথবা দুলাল, এমনকি একা পাকুড়গাছের নিচে দেখা পাওয়া অনীম, কিংবা সাজ্জাদের বারবার চোখে পড়া সেই রহস্যময় বুড়ো মানুষটি অথবা ডিমেনশিয়ায় আক্রান্ত সেই প্রবীণ রোগী—প্রত্যেকের নিজস্ব দৃষ্টিভঙ্গি থেকেও আমরা এই গল্পকে দেখতে পারি। অথবা শেষ পর্যন্ত একজন সাধারণ পাঠক হিসেবে নিজের অবস্থান থেকেও মূল্যায়ন করতে পারি।

বইটির বাহ্যিক প্রচ্ছদটি একেবারে অন্যরকম ও নান্দনিক ভাবনায় তৈরি। চারপাশের ছোট ছোট বিভিন্ন বইয়ের ভিড়ের মাঝে খোয়াব দেখতে থাকা আখতারুজ্জামান ইলিয়াসের চেনা ছায়া যেন সবার অলক্ষ্যে সবার সত্তার সঙ্গে মিশে একাকার হয়ে গেছে। হিমালয়ের উচ্চতা থেকে উৎপন্ন হওয়া শত শত নদী যেমন শেষ পর্যন্ত এক মোহনায় এসে মিশে যায়, ঠিক তেমনি আমরা সবাই এই গল্পের বিভিন্ন চরিত্রেরা অন্য কারও গভীর খোঁয়ারির মাঝেই যেন হারিয়ে গেছি। এই খোঁয়ারি বা মোহ কেটে যাওয়ার নয়। এই বই আর এই জীবন যেন এক আবর্তময় প্যারাডক্সের মতো, ঘুরেফিরে সেই শুরুর বিন্দু থেকে শুরু করে আবার ঠিক একই সূচনার জায়গায় এসে আমরা সবাই গোল হয়ে জড়ো হচ্ছি। হিমেলের বসার ঘরের ড্রয়িংরুমে টিভিতে অবিরত চলতে থাকা কোনো পুরোনো সিনেমায় মগ্ন থাকা মুগ্ধ দর্শক আসলে আমরা সবাই। হয়তো সিনেমা শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই গভীর আড্ডায় মুখর হয়ে উঠবে মঞ্জু, সাজ্জাদ, হিমেল, হিমেলের প্রয়াত বাবা, সেই পীর কিংবা কাৎলাহার বিল সেঁচে ডাঙায় উঠে আসা তমিজের বাপ।

সূত্র: জাতীয় দৈনিক আমার সকাল টিম।


নিউজটি পোস্ট করেছেন : জাতীয় দৈনিক মুক্ত কণ্ঠস্বর

কমেন্ট বক্স
শাকসু নির্বাচন স্থগিত আদেশের বিরুদ্ধে চেম্বার আদালতে আবেদন

শাকসু নির্বাচন স্থগিত আদেশের বিরুদ্ধে চেম্বার আদালতে আবেদন