ঢাকা | বঙ্গাব্দ

আড়াই মাসে দেশের পর্যটনকেন্দ্রে পঁচিশ প্রাণহানি

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Oct 23, 2026 ইং
আড়াই মাসে দেশের পর্যটনকেন্দ্রে পঁচিশ প্রাণহানি ছবির ক্যাপশন:
ad728

নিজস্ব প্রতিবেদক মুক্ত কণ্ঠস্বর

চলতি বছরের গত আড়াই মাসের ব্যবধানে দেশের বিভিন্ন দর্শনীয় স্থানে ভ্রমণ করতে গিয়ে মোট পঁচিশ জন পর্যটক মর্মান্তিক মৃত্যুর শিকার হয়েছেন। এই ধরনের বিপজ্জনক পরিস্থিতির কারণে অবকাশযাপন কেন্দ্রগুলোর সার্বিক নিরাপত্তা নিয়ে তীব্র প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

দক্ষিণ উপকূলীয় অঞ্চল কক্সবাজারের উখিয়া উপজেলার ইনানী এলাকায় গত ১৭ অক্টোবর ভোরে টুপটুপ নামের একটি আবাসিক প্রতিষ্ঠানে আকস্মিক অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। এই মারাত্মক দুর্ঘটনায় শিশু ও নারীসহ মোট দশজন ভ্রমণপিপাসু মানুষ প্রাণ হারান।

সমুদ্রসৈকত সংলগ্ন এই অঞ্চলটিতে দুই সহস্রাধিক বাণিজ্যিক আবাসন রয়েছে। এর মধ্যে শুধু শহর ও সংলগ্ন এলাকায় ছয় শর বেশি এমন প্রতিষ্ঠান রয়েছে যেগুলোর কোনো বৈধ অনুমোদন নেই।

সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের দেওয়া তথ্য বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, পুরো জেলায় মাত্র একশো পনেরোটি প্রতিষ্ঠানের অগ্নিনিরাপত্তা সনদ রয়েছে। অন্যদিকে পরিবেশগত ছাড়পত্র সংগ্রহ করেছে মাত্র চুচল্লিশটি প্রতিষ্ঠান। বাকি সব কটি স্থাপনা অবৈধ হিসেবে পরিচালিত হচ্ছে।

অগ্নিকাণ্ডে নিহত পর্যটক ফারিহা কবিরের বাবা জিয়াদুল কবির ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান যে, তদারককারী সরকারি বিভাগগুলোর নিষ্ক্রিয়তার জন্যই মানুষের জীবন ঝরে পড়ছে। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, অবৈধ রিসোর্ট চালুর পাশাপাশি ফিটনেসবিহীন ঝুঁকিপূর্ণ মোটরযানও চলাচল করছে।

কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের প্রধান জসিম উদ্দিন জানিয়েছেন যে, বেআইনিভাবে গড়ে ওঠা দেড় শতাধিক স্থাপনাকে ইতোমধ্যে নোটিশ পাঠানো হয়েছে। তাছাড়া আরও যেসব প্রতিষ্ঠান রয়েছে, সেগুলোর একটি সঠিক তালিকা প্রণয়নের কাজ চলছে।

এই বিপর্যয়ের পরের দিনই ঢাকা থেকে সাতজন তরুণ বন্ধু বান্দরবানে অবকাশ যাপনে যান। পাহাড়ি সৌন্দর্য উপভোগ শেষে গত বুধবার তারা সমুদ্রের টানে কক্সবাজারে এসে হিমছড়ির প্যাঁচারদ্বীপ এলাকায় একটি আবাসে ওঠেন।

সৈকতে নেমে আনন্দের সময় কাটানোর মুহূর্তে তাদের মধ্যে দুজন সাগরের পানিতে ভেসে যান। একই সময়ে চট্টগ্রাম থেকে বেড়াতে আসা আরও দুজন পর্যটকেরও সলিলসমাধি ঘটে।

সর্বশেষ গত বৃহস্পতিবার আরও একজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। সব মিলিয়ে এই একক ঘটনায় পাঁচজন তরুণের জীবনপ্রদীপ নিভে গেছে, যাঁদের মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও চাকুরিজীবী রয়েছেন।

অন্যদিকে শারদীয় ছুটির সময়ে হাজারো মানুষ বান্দরবান ও সাজেকে ভ্রমণ করতে গিয়ে বিপাকে পড়েন। গত বুধবার সাজেক সড়কে অনির্দিষ্টকালের অবরোধের ডাক দেয় স্থানীয় দুটি সংগঠন।

ওই একই দিনে সাজেক ত্যাগ করার জন্য পর্যটকদের প্রতি নির্দেশ দেওয়া হয়। ফলে সেখানে প্রায় তিন হাজার ভ্রমণকারী আটকা পড়েন।

আটকাপড়া ব্যক্তিদের নিরাপদে সরিয়ে আনার প্রচেষ্টার সময় অবরোধকারীদের সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর গোলাগুলির ঘটনা ঘটে। এমন আতঙ্কজনক পরিস্থিতিতে পর্যটকরা চরম আতঙ্ক নিয়ে ঘরে ফিরেছেন।

পাহাড়ের এই ভীতিকর পরিবেশের বাইরে সড়ক দুর্ঘটনা এবং স্থানীয় পরিবহন সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম্যেও পর্যটকদের অবর্ণনীয় দুর্ভোগ পোহাতে হয়। গত ৫ অক্টোবর বান্দরবানের থানচির তিন্দুতে একটি পর্যটকবাহী গাড়ি খাদে পড়ে দুজন মারা যান এবং পাঁচজন আহত হন।

এর পূর্বে গত ২৭ সেপ্টেম্বর কক্সবাজারের মেরিন ড্রাইভে আরেকটি গাড়ি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে গাছের সঙ্গে ধাক্কা খেয়ে এক পর্যটক নিহত হন। তাছাড়া গত ২৪ আগস্ট সিলেটের জাফলং যাওয়ার পথে বাস ও সিএনজির মুখোমুখি সংঘর্ষে প্রাণ হারান একজন।

এর আগে পহেলা আগস্ট দরিয়ানগর পয়েন্টে আকাশে ওড়ার সময়ে সমুদ্রে পড়ে শৌভিক রায় নামের এক ব্যক্তির মৃত্যু হয়। এই ঘটনাটি তখন ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করলে বিপজ্জনক ওই বিনোদন সাময়িকভাবে নিষিদ্ধ করা হয়।

এছাড়াও ২৬ আগস্ট ও ১৮ সেপ্টেম্বর লাবণী ও সুগন্ধা পয়েন্টে সমুদ্রের জলে ডুবে আরও তিনজনের মৃত্যু ঘটে। অন্যদিকে ৭ আগস্ট সুনামগঞ্জের টাঙ্গুয়ার হাওরে এবং ১৫ আগস্ট সিলেটের সাদাপাথরে পানিতে ডুবে দুজন মারা যান।

পর্যটন এলাকাগুলোতে তদারকির অভাব, বিপজ্জনক স্থাপনা, প্রশাসনের উদাসীনতা ও পর্যটকদের অপরিপক্বতাকে দায়ী করেছেন রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের প্রধান নির্বাহী সাইদুর রহমান। তিনি উল্লেখ করেন যে, বহু স্থাপনায় অগ্নি নির্বাপণ ও জরুরি উদ্ধারকাজের কোনো উপযুক্ত ব্যবস্থা নেই।

সাইদুর রহমান আরও যোগ করেন যে, সাঁতার না জানা সত্ত্বেও অনেকে গভীর জলে নামছেন এবং অনেক স্থানে পর্যাপ্ত জীবন রক্ষাকারী উপকরণেরও মারাত্মক ঘাটতি রয়েছে। পর্যটন অঞ্চলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নীতিনির্ধারণী মহলে সঠিক কর্মপন্থা অবলম্বনের আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

সূত্র: আজকের পত্রিকা


নিউজটি পোস্ট করেছেন : জাতীয় দৈনিক মুক্ত কণ্ঠস্বর

কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
নতুন গানে মডেল ও নৃত্যশিল্পী অর্থী আহমেদের পারফরম্যান্স

নতুন গানে মডেল ও নৃত্যশিল্পী অর্থী আহমেদের পারফরম্যান্স