ঢাকা | বঙ্গাব্দ

সামনে পরীক্ষা, এর মধ্যেই সাবলেট ছাড়তে বাধ্য হলেন আনিয়া

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Nov 1, 2026 ইং
সামনে পরীক্ষা, এর মধ্যেই সাবলেট ছাড়তে বাধ্য হলেন আনিয়া ছবির ক্যাপশন:
ad728

নিজস্ব প্রতিবেদক মুক্ত কণ্ঠস্বর

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের থিয়েটার ও পরিবেশনা কলা বিভাগের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী আনিয়া আক্তার গত প্রায় দুই বছর ধরে রাজধানীর আজিমপুর সরকারি কলোনিতে সাবলেট হিসেবে বসবাস করছিলেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক হলে আসন বরাদ্দ না পাওয়ায় তিনি এই পথ বেছে নিতে বাধ্য হয়েছিলেন। সম্প্রতি সরকারি আবাসন থেকে সাবলেট ও ভাড়াটেদের অবিলম্বে সরিয়ে দেওয়ার কঠোর নির্দেশ জারি করা হয়। ঠিক এই পরিস্থিতির মধ্যেই নাটকীয় ও আকস্মিক এক নোটিশে তাঁকে চরম অনিশ্চয়তার মুখে বাসা ছাড়তে হয়েছে, যেখানে তাঁর সেমিস্টার ফাইনাল পরীক্ষা একেবারেই দোরগোড়ায় কড়া নাড়ছে। নতুন একটি বাসস্থান সন্ধান করা, সমস্ত মালামাল অন্যত্র সরিয়ে নেওয়া এবং আসন্ন পরীক্ষার জন্য একাডেমিক প্রস্তুতি নেওয়া—এই ত্রিমুখী চাপে সম্পূর্ণ দিশাহারা হয়ে পড়েছেন এই তরুণী শিক্ষার্থী।

গত বৃহস্পতিবার আনিয়াকে প্রথম আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয় যে সরকারি ফ্ল্যাটগুলোর ভাড়াটেদের দ্রুত খালি করে দেওয়ার নির্দেশ এসেছে। তখন তিনি তাঁর নিয়মিত নাটকের মহড়ায় ব্যস্ত ছিলেন। এর পরদিন শুক্রবার রাতে ফ্ল্যাটের মূল বরাদ্দপ্রাপ্ত ব্যক্তি বা বাড়িওয়ালা তাঁকে পরিষ্কার জানিয়ে দেন যে আসন্ন ৩১ অক্টোবরের মধ্যেই যেকোনো মূল্যে বাসাটি ফাঁকা করতে হবে। এত অল্প সময়ের মধ্যে এত ভারী জিনিসপত্র তিনি কীভাবে অন্যত্র স্থানান্তর করবেন কিংবা কোথায় গিয়ে আশ্রয় নেবেন, সেই তীব্র উদ্বেগের কথা তিনি বাড়িওয়ালাকে জানিয়েছিলেন। কিন্তু তাতে কোনো লাভ হয়নি এবং বাড়িওয়ালার পক্ষ থেকে কোনো ধরনের ন্যূনতম সহযোগিতাও তিনি পাননি বলে জানান আনিয়া।

আনিয়া আক্তার গণমাধ্যমকে বিস্তারিত জানিয়ে বলেন, আগামী ২ নভেম্বর অর্থাৎ সোমবার থেকেই তাঁর সেমিস্টার ফাইনাল পরীক্ষা শুরু হতে যাচ্ছে। এমতাবস্থায় তিনি কখন নিজের গোছগাছ সম্পন্ন করবেন, কীভাবে জিনিসপত্র সরাবেন কিংবা শেষ পর্যন্ত কোথায় গিয়ে উঠবেন—এই বিষয়গুলো তুলে ধরার পর বাড়িওয়ালার স্ত্রী তাঁকে সাফ জানিয়ে দেন যে তাঁদের আসলে এখন আর কিছুই করার নেই। তাঁরা কড়াভাবে জানান যে যদি কলোনিতে সাবলেট রাখার বিষয়টি কারও নজরে পড়ে যায়, তবে তাঁদের বরাদ্দকৃত বাসাটি বাতিল হয়ে যেতে পারে এবং বাড়ির কর্তার চাকরি নিয়েও বড় ধরনের মারাত্মক সমস্যা তৈরি হতে পারে।

গত শনিবার সরেজমিন দেখা যায় যে আজিমপুর সরকারি কলোনির বিভিন্ন ফ্ল্যাটে সাবলেটে আশ্রিত শিক্ষার্থীরা আকস্মিকভাবে তাঁদের মালামাল গুটিয়ে বাসা ছেড়ে চলে যাচ্ছেন। সংশ্লিষ্ট সরকারি আবাসন পরিদপ্তরের কড়া নির্দেশনা অনুযায়ী, নির্দিষ্ট ৩১ অক্টোবরের পরেও যদি কোনো সরকারি ফ্ল্যাটে সাবলেট বা অবৈধ ভাড়াটের উপস্থিতি পাওয়া যায়, তবে সেই ফ্ল্যাটের মূল বরাদ্দপ্রাপ্ত সরকারি চাকরিজীবীর বাসা বরাদ্দ সরাসরি বাতিলসহ কঠোর শাস্তিমূলক ও আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এই আকস্মিক নির্দেশনার ফলে অনেক সাধারণ শিক্ষার্থীই নতুন কোনো নিরাপদ বাসস্থান খুঁজে না পেয়ে চরম বিপদের মুখে পড়েছেন।

মাসের একেবারে শুরুতেই আনিয়া নিয়মমাফিক তাঁর বাসাভাড়া অগ্রিম পরিশোধ করেছিলেন, অথচ এর বিপরীতে তাঁকে কলোনি ছাড়ার জন্য কার্যত মাত্র এক দিনের মতো অপ্রতুল সময় দেওয়া হলো। ঢাকায় সম্পূর্ণ একা বসবাসকারী এই শিক্ষার্থীর ঘরে প্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের পরিমাণও ছিল বেশ পর্যাপ্ত। যেহেতু তিনি পরিবেশনা কলা বিভাগের একজন শিক্ষার্থী, তাই পড়াশোনা ও প্র্যাক্টিক্যালের কাজের খাতিরে তাঁর কক্ষে নাটকের বিভিন্ন ভারী সরঞ্জাম ও প্রপস ছিল, যা সলজ্জে ও সতর্কতার সঙ্গে সরাতে হয়েছে। এই বিষয়ে তিনি জানান যে তিনি জীবনে কখনো ট্রাক বা পিকআপ ভ্যান ম্যানেজ করার কাজটি করেননি এবং কীভাবে তা করতে হয় সে সম্পর্কেও তাঁর কোনো ধারণা ছিল না। এরপরও তিনি সারা রাত নির্ঘুম কাটিয়ে তিন থেকে চারটি অনলাইন অ্যাপে চেষ্টা চালিয়েও শেষ পর্যন্ত কোনো ট্রাক বা যানবাহন জোগাড় করতে পারেননি।

পরের দিন সবকিছু কোনোমতে গুটিয়ে শনিবার দুপুর দুইটা পর্যন্ত তিনি এক প্রকার অপেক্ষা করলেও নিজের জিনিসপত্রগুলো কোথায় নিয়ে রাখবেন সেই অনিশ্চয়তা তখনও কাটেনি। কলোনি কর্তৃপক্ষ থেকে একবারে সব জিনিসপত্র তাৎক্ষণিকভাবে সরিয়ে নিতে বলা হয়েছিল, অথচ এমন হঠাৎ পরিস্থিতিতে আকস্মিক কোনো সাহায্যকারী পাওয়াও ছিল অত্যন্ত দুরূহ ব্যাপার। শেষ পর্যন্ত নিরুপায় হয়ে তিনি তাঁর সমস্ত জিনিসপত্র একজন বিশ্বস্ত বন্ধুর বাসায় পাঠিয়ে রাখেন। আর নিজে এসে ওঠেন মোহাম্মদপুরে বসবাসকারী তাঁর এক নিকটাত্মীয়ের বাসায়। এই আকস্মিক ও হুট করে জিনিসপত্র স্থানান্তরের ঝামেলার কারণে তাঁকে বড় অঙ্কের আর্থিক খরচ বহন করতে হয়েছে। যেহেতু নিজে কোনো ধরনের উপার্জন করেন না, তাই এই অতিরিক্ত খরচের চাপ সরাসরি তাঁর পরিবারের ওপর গিয়ে পড়েছে।

আনিয়ার কাছে এই মুহূর্তে সবচেয়ে বড় উদ্বেগের মূল বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে তাঁর আসন্ন পরীক্ষা। আগামী সোমবার থেকে তাঁর সেমিস্টার ফাইনাল পরীক্ষা শুরু হতে যাচ্ছে এবং আগামী ১৫ ডিসেম্বর পর্যন্ত তাঁর একটি টানা ও অত্যন্ত ব্যস্ত পরীক্ষার সূচি রয়েছে। এই সীমিত সময়ের মধ্যে নতুন একটি বাসা খুঁজে বের করা, সেই বাসায় মালামাল বদলানো এবং তার পাশাপাশি মূল পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়া—এই সমস্ত কাজ একসঙ্গে একা সামলানো তাঁর পক্ষে অসম্ভব হয়ে পড়েছে।

তিনি বর্তমানে যে আত্মীয়ের বাসায় আশ্রয় নিয়েছেন, সেখানে তাঁর থাকার নির্দিষ্ট জায়গাটি মূলত একটি ডাইনিংরুম। সেই নির্ধারিত স্থানে পড়াশোনার জন্য কোনো ধরনের আলো বা মাথার ওপর ফ্যানের পর্যাপ্ত ব্যবস্থা নেই। নতুন এই অচেনা জায়গায় ঘরটি নিজের মতো ব্যবহার উপযোগী করে তুলতে তাঁকে প্রায় সারা রাত জেগে পরিশ্রম করতে হয়েছে। ছোট শিশুসহ ওই পরিবারটির মোট পাঁচজন সদস্য এই বাসাবাড়িতে একসঙ্গে বসবাস করেন। ফলে সেখানে নিজের মতো নিরিবিলি পরিবেশে মনোযোগ দিয়ে পড়াশোনা করার বিন্দুমাত্র সুযোগ বা পরিবেশ নেই বললেই চলে।

গভীর আক্ষেপ প্রকাশ করে আনিয়া বলেন, আগামীকালই তাঁর জীবনের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা, অথচ এই মুহূর্তে তিনি কি নতুন বাসা খুঁজতে বের হবেন নাকি পরীক্ষার পড়ার টেবিলে বসবেন, তা কিছুতেই ঠিক করতে পারছেন না। তিনি জানান যে তিনি তাঁর সেই বন্ধুকে অনুরোধ করেছিলেন ১৫ ডিসেম্বর পর্যন্ত তাঁর জিনিসপত্রগুলো সেখানে রাখতে দেওয়া যায় কি না, কিন্তু সেই বন্ধুরও নিজস্ব কিছু পারিবারিক সীমাবদ্ধতা ও ঘরোয়া সমস্যা রয়েছে। ফলে সেই বন্ধুর বাসায়ও দীর্ঘদিন নিরাপদে থাকার কোনো সুনির্দিষ্ট নিশ্চয়তা তিনি পাচ্ছেন না।

আজিমপুর সরকারি কলোনিতে অবস্থানের পেছনের মূল সুবিধাগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বড় বিষয় ছিল এখানকার কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসের অত্যন্ত কাছাকাছি এর অবস্থান। অনেক সময় আনিয়ার ডিপার্টমেন্টের নাটকের মহড়া বা প্র্যাক্টিক্যাল শেষ হতে রাত প্রায় ১২টা বেজে যায়। এত গভীর রাতে মোহাম্মদপুর থেকে একা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে যাতায়াত করা একজন নারীর জন্য কতটা ঝুঁকিপূর্ণ ও ভয়ের বিষয়, তা নিয়ে তিনি চরম উৎকণ্ঠার মধ্যে রয়েছেন। আনিয়া প্রশ্ন তুলে বলেন, রাত বারোটায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস থেকে একা মোহাম্মদপুরে যাতায়াত করা একজন নারী শিক্ষার্থীর নিরাপত্তার বিষয়টিও তো সংশ্লিষ্টদের গভীরভাবে বিবেচনা করতে হবে।

আনিয়ার আর্থিক হিসাব অনুযায়ী, মোহাম্মদপুর থেকে প্রতিদিন বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে রিকশায় যাতায়াত করতেই কেবল তাঁর প্রায় চারশো টাকার মতো খরচ হয়ে যায়। এর সঙ্গে তাঁর দৈনন্দিন খাওয়ার খরচ তো রয়েছেই। এই আকস্মিক আবাসন পরিবর্তনের ফলে তিনি কেবল তাঁর মাথার ওপর নিরাপদ ছাদই হারাননি, বরং তাঁর দৈনন্দিন যাতায়াত ও জীবনযাত্রার খরচও বহুগুণ বেড়ে গেছে।

ছাত্রী হোস্টেলগুলোকে বিকল্প ব্যবস্থা হিসেবে বিবেচনা করার সুযোগ থাকলেও সেখানে বাড়তি খরচের বিষয়টির কারণে সাধারণ শিক্ষার্থীর পক্ষে সেখানে ওঠাও বেশ কঠিন। তাঁর সুনির্দিষ্ট ভাষ্য অনুযায়ী, সাধারণত এই ধরনের হোস্টেলগুলোর একেকটি কক্ষে একসঙ্গে তিন থেকে চারটি পর্যন্ত বিছানা পাতা থাকে। সেই বিছানার সঙ্গেই সংযুক্ত ছোট টেবিলে বসে কচ্ছপ গতিতে পড়াশোনা করতে হয়। শুধু একটি মাথা গোঁজার ঠাঁই বা থাকার জায়গার জন্য প্রতি মাসে দশ থেকে পনেরো হাজার টাকা খরচ করে ফেলা একজন সাধারণ শিক্ষার্থীর পক্ষে আদৌ সম্ভব নয়।

আনিয়ার বাস্তবসম্মত মূল্যায়ন হলো, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় আবাসিক হলে পর্যাপ্ত আসন না পাওয়ার কারণে বহু সাধারণ শিক্ষার্থীকে বাধ্য হয়েই ক্যাম্পাসের আশপাশের এলাকায় সাবলেট নিয়ে থাকতে হয়। বিশেষ করে নারী শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে ক্যাম্পাস থেকে দূরে একা বসবাস করা শারীরিক ও মানসিকভাবে অত্যন্ত কঠিন। কিন্তু অন্য কোনো ভালো বিকল্প না থাকায় তাঁদের অনেকে বাধ্য হয়েই অত্যন্ত অস্বাস্থ্যকর, স্যাঁতসেঁতে ও অস্বস্তিকর পরিবেশের মধ্যে বসবাস করতে বাধ্য হন।

আজিমপুর কলোনিতে সাবলেটে থাকাকালীন সময়েও তাঁর পরিবারের কোনো সদস্য বা অভিভাবকের সঙ্গে দেখা করার ক্ষেত্রে নানা ধরনের কড়াকড়ি ও সীমাবদ্ধতা ছিল। শরীয়তপুর জেলা থেকে তাঁর বাবা কষ্ট করে নিজ হাতে রান্না করা খাবার নিয়ে কলোনিতে এলেও তাঁকে সোজা মেয়ের কক্ষে নিয়ে যাওয়ার কোনো অনুমতি পর্যন্ত দেওয়া হতো না বলে আনিয়া ক্ষোভ প্রকাশ করেন। এমনকি রান্নাঘর ও ফ্রিজ ব্যবহারের ক্ষেত্রেও ফ্ল্যাটের মূল বাসিন্দাদের পক্ষ থেকে চরম অসহযোগিতার মুখোমুখি হতে হতো বলে তিনি অভিযোগ করেন। এতসব ঝামেলার পরও সার্বিক দিক বিবেচনা করে কলোনির এই অবস্থানকে তিনি তুলনামূলকভাবে বেশ নিরাপদ বলেই মনে করতেন। অথচ এখন সেই শেষ আশ্রয়টুকুও হারিয়ে তাঁকে একসঙ্গে পরীক্ষা, অতিরিক্ত খরচ এবং ব্যক্তিগত নিরাপত্তা—এই ত্রিমুখী দুশ্চিন্তা একযোগে সামাল দিতে হচ্ছে।

আনিয়ার এই বাস্তব অভিজ্ঞতা থেকে খুব সহজেই প্রতীয়মান হয় যে আবাসনসংকট কেবল মাথার ওপর একটি ছাদ বা সামান্য জায়গার অভাব নয়; এটি মূলত একজন শিক্ষার্থীর উচ্চশিক্ষা চালিয়ে যাওয়া, মানসিক সুস্থতা বজায় রাখা, পরিবারের আর্থিক সামর্থ্য এবং ব্যক্তিগত নিরাপত্তার সঙ্গে সরাসরি গভীরভাবে সম্পৃক্ত। সরকারি আবাসনে ভাড়া দেওয়ার কড়া নিয়ম কঠোরভাবে বাস্তবায়নের পাশাপাশি এই সমস্ত আবাসনহীন সাধারণ শিক্ষার্থীদের জন্য সুনির্দিষ্ট বিকল্প কোনো ব্যবস্থা করা কতটা জরুরি, আনিয়ার এই করুণ পরিস্থিতি সেই জোরালো প্রশ্নটিই আজ সবার সামনে বড় করে তুলে ধরেছে।

এদিকে এই ঘটনার পর থেকে আজিমপুরের সাধারণ ছাত্রী হোস্টেলগুলোতেও নতুন করে খালি আসনের সন্ধান করতে শুরু করেছেন বিপাকে পড়া শিক্ষার্থীরা। সরকারি আবাসিক কলোনিতে দীর্ঘদিন সাবলেটে আশ্রিত থাকা ছাত্রীদের হঠাৎ বাসা ছাড়ার বাধ্যতামূলক নির্দেশ দেওয়ার পর থেকেই এলাকার বিভিন্ন হোস্টেলে তাঁদের উপচে পড়া ভিড় ও আসন খোঁজার প্রবণতা লক্ষণীয় মাত্রায় বৃদ্ধি পেয়েছে।

আজিমপুর এলাকায় প্রাতিষ্ঠানিক ও দাপ্তরিক কোনো নির্দিষ্ট নাম না থাকলেও ‘মুগ্ধ ছাত্রী হোস্টেল’ নামে স্থানীয়ভাবে পরিচিত এমন একটি ছাত্রী নিবাস পরিচালনা করেন মুক্তা নামের এক নারী উদ্যোক্তা। তিনি প্রথম আলোর এই প্রতিবেদককে জানান যে, অতীতে ছাত্রীরা মূলত তাঁদের এই বাণিজ্যিক হোস্টেলগুলোতেই সাবলীলভাবে বসবাস করতেন। কিন্তু পরবর্তীতে আজিমপুরে নতুন সরকারি বহুতল কলোনি গড়ে ওঠার পর সেখানকার মূল বাসিন্দারা বাড়তি আয়ের আশায় তাঁদের ফ্ল্যাট সাবলেট ও ভাড়া দিতে শুরু করেন। এরপর গত তিন থেকে চার বছরের দীর্ঘ সময়ে হাজার হাজার ছাত্রী হোস্টেলের বন্দিদশা ছেড়ে ওই কলোনির ফ্ল্যাটগুলোতে সাবলেট হিসেবে দলবেঁধে গিয়ে উঠতে শুরু করেন।

হোস্টেল পরিচালক মুক্তা জানান যে, গত ১৭ অক্টোবর মাননীয় প্রধানমন্ত্রী সশরীরে কলোনি এলাকা পরিদর্শন করেন। এর ঠিক পর থেকেই মূলত কলোনিতে বসবাসরত ছাত্রীদের সেখান থেকে বাসা ছেড়ে চলে যাওয়ার মৌখিক নোটিশ বা নির্দেশ আসার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছিল। পরিশেষে গত বৃহস্পতিবার নির্দিষ্ট সরকারি প্রজ্ঞাপন জারির পর থেকেই ওই ছাত্রীরা বাধ্য হয়ে আবার হাড়ভাঙা পরিশ্রমে হোস্টেলগুলোতে এসে নিরাপদ আসনের সন্ধান শুরু করেছেন। তবে বিশেষ করে গতকাল থেকে তাঁদের এই হোস্টেলগুলোতে এসে নতুন করে ওঠার সংখ্যা নাটকীয়ভাবে অনেকটাই বৃদ্ধি পেয়েছে।

সাধারণ ছাত্রীরা হঠাৎ এভাবে কলোনিতে দলবেঁধে চলে যাওয়ায় এই এলাকার হোস্টেল ব্যবসা পরিচালনার সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিরাও বড় ধরনের বড় আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন বলে ক্ষোভ প্রকাশ করেন মুক্তা। তাঁর সুনির্দিষ্ট দাবি অনুযায়ী, এই ছাত্রী হোস্টেল ব্যবসায় তাঁর নিজস্ব প্রায় এক কোটি টাকার বিশাল বিনিয়োগ ছিল। কিন্তু পর্যাপ্ত ছাত্রী না পাওয়ার কারণে তাঁকে বাধ্য হয়ে তাঁর সম্পূর্ণ ব্যবসাটি ব্যাপকভাবে সংকুচিত করতে হয়েছে। অতীতে যেখানে তাঁর মোট পঁচিশটি ভবনে এই হোস্টেলের কার্যক্রম সফলভাবে পরিচালিত হতো, তা বর্তমানে নাটকীয়ভাবে কমে এসে মাত্র দশটি ফ্ল্যাটে এসে ঠেকেছে। সব মিলিয়ে তাঁর এই ব্যবসায় প্রায় পঞ্চাশ লাখ টাকার মতো নিট লোকসান হয়েছে বলে তিনি তীব্র দাবি করেন।

সূত্র: জাতীয় দৈনিক আমার সকাল টিম।


নিউজটি পোস্ট করেছেন : জাতীয় দৈনিক মুক্ত কণ্ঠস্বর

কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
তারেক রহমানের শীর্ষ বৈঠকে শক্তিশালী কূটনৈতিক প্রতিনিধিদল

তারেক রহমানের শীর্ষ বৈঠকে শক্তিশালী কূটনৈতিক প্রতিনিধিদল