ঢাকা | বঙ্গাব্দ

গাজীপুরে মাদ্রাসায় শিশু শিক্ষার্থী ধর্ষণ, শিক্ষকসহ আটক ২

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Oct 23, 2026 ইং
গাজীপুরে মাদ্রাসায় শিশু শিক্ষার্থী ধর্ষণ, শিক্ষকসহ আটক ২ ছবির ক্যাপশন:
ad728

নিজস্ব প্রতিবেদক মুক্ত কণ্ঠস্বর

গাজীপুর জেলার একটি আবাসিক কওমি মাদ্রাসার ভেতর আট বছর বয়সি তৃতীয় শ্রেণির এক শিশুকে জোরপূর্বক ধর্ষণের গুরুতর অভিযোগ পাওয়া গেছে। এই পৈশাচিক ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার অপরাধে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী অভিযান চালিয়ে এক শিক্ষকসহ মোট দুজনকে আটক করেছে। গত বৃহস্পতিবার গভীর রাতে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে তাঁদের পাকড়াও করা হয়।

যাঁদের পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে, তাঁদের মধ্যে একজন হলেন ওই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক অলিউল্লাহ ইসলাম (২৩)। অপর গ্রেপ্তারকৃত ব্যক্তি হলেন মোহাম্মদ মিজান (৩৮), যিনি ওই মাদ্রাসার প্রশাসনিক ও পরিচলনা কার্যক্রমের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে যুক্ত রয়েছেন। এই বর্বরোচিত ঘটনার পর ভুক্তভোগী কোমলমতি শিশুটির মা বাদি হয়ে তিনজনকে অভিযুক্ত করে থানায় একটি সুনির্দিষ্ট মামলা দায়ের করেছেন। উক্ত মামলার আরেক এজাহারনামীয় পলাতক অভিযুক্ত ব্যক্তি হলেন আব্দুল কুদ্দুস শেখ (৪৫)।

পুলিশ ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ভুক্তভোগী শিশুটি ওই মাদ্রাসার আবাসিক হলে থেকে নিয়মিত লেখাপড়া করত এবং সে স্থানীয় একটি ক্লাসের শিক্ষার্থী ছিল। গত ৭ অক্টোবর বিকালের দিকে শিশুটির মাতা তাকে মাদ্রাসার আবাসিক প্রাঙ্গণে রেখে আসেন। এরপর গত ১৩ অক্টোবর দুপুরের দিকে শিশুটি দুপুরের খাবার খাওয়ার উদ্দেশ্যে নিজ বাড়িতে আসে। এ সময় পরিবারের লোকজন তাকে গোসল করাতে গেলে তার ওপর চলা নির্যাতনের ভয়াবহ বিষয়টি বুঝতে পারেন।

মামলার নথি থেকে আরও জানা যায়, গত ১০ অক্টোবর গভীর রাতে আনুমানিক একটা বাজে মাদ্রাসার ঘুমে আচ্ছন্ন থাকা অবস্থায় শিশুটিকে ঘুম থেকে ডেকে তোলেন অভিযুক্ত শিক্ষক। এরপর তাকে বিভিন্ন ধরনের ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং নানাবিধ প্রলোভন দেখানো হয়। পরবর্তীতে মাদ্রাসার ভেতর অবস্থিত স্টোররুমে জোরপূর্বক নিয়ে গিয়ে গত ১১ অক্টোবর রাত দেড়টার দিকে এবং ১২ অক্টোবর রাত তিনটার দিকে পুনরায় শিশুটিকে ধর্ষণ করা হয়। এই পাশবিক ঘটনার কথা কাউকে প্রকাশ করলে তাকে বেধড়ক প্রহার করা হবে বলে নানাভাবে হুমকি দেওয়া হয়েছিল।

এদিকে শিশুটির মা অভিযোগ করেছেন যে, পুরো ঘটনার বিবরণ শোনার পর তিনি দ্রুত মাদ্রাসায় ছুটে যান এবং সেখানকার পরিচালনা পর্ষদের কাছে বিচারপ্রার্থী হন। কিন্তু অভিযুক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে কোনো ধরনের শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ না করে উল্টো পুরো ঘটনাটি ধামাচাপা দেওয়ার অপচেষ্টা চালান মোহাম্মদ মিজান ও আব্দুল কুদ্দুস শেখ। এমনকি ঘটনার পর অভিযুক্ত শিক্ষক অলিউল্লাহকে অত্যন্ত সুকৌশলে ওই প্রতিষ্ঠান থেকে নিরাপদ দূরত্বে সরিয়ে দেওয়া হয়।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী মামলা দায়েরের সত্যতা নিশ্চিত করে জানিয়েছে যে, গত শুক্রবার সকালে গ্রেপ্তারকৃত দুই অভিযুক্তকে কঠোর নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে প্রেরণ করা হয়েছে। বাকি পলাতক আসামিকে গ্রেপ্তারের জন্য পুলিশের পক্ষ থেকে জোর প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।


নিউজটি পোস্ট করেছেন : জাতীয় দৈনিক মুক্ত কণ্ঠস্বর

কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
নাটোরে এক ঘণ্টায় শিয়ালের কামড়ে আহত ১১, আতঙ্ক

নাটোরে এক ঘণ্টায় শিয়ালের কামড়ে আহত ১১, আতঙ্ক