ঢাকা | বঙ্গাব্দ

৯০ শতাংশ ওষুধই কিনতে বাইরে, কী বলছে কর্তৃপক্ষ?

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Apr 9, 2026 ইং
৯০ শতাংশ ওষুধই কিনতে বাইরে, কী বলছে কর্তৃপক্ষ? ছবির ক্যাপশন: ৯০ শতাংশ ওষুধই কিনতে বাইরে, কী বলছে কর্তৃপক্ষ?
ad728

ওষুধ সংকট কাটিয়ে উঠতে পারছে না যশোর জেনারেল হাসপাতাল। সরকারি এই হাসপাতালে চাহিদার তুলনায় ওষুধের বরাদ্দ মাত্র ১১ শতাংশ। ফলে রোগীদের প্রেসক্রিপশনের প্রায় ৯০ শতাংশ ওষুধই কিনতে হচ্ছে বাইরে থেকে। কর্তৃপক্ষের দাবি, নিয়মিত বরাদ্দ বৃদ্ধির জন্য চিঠি দিলেও এখনো কার্যকর কোনো প্রতিকার মিলছে না।

২৫০ শয্যাবিশিষ্ট এ হাসপাতালটি শুধু যশোর নয়, পার্শ্ববর্তী ঝিনাইদহ, নড়াইল ও মাগুরার লাখো মানুষের শেষ ভরসা। কিন্তু সেই ভরসার কেন্দ্রেই এখন ওষুধ সংকট তীব্র আকার ধারণ করেছে।

সরকারি তথ্য অনুযায়ী, হাসপাতালে আউটডোর ও ইনডোর মিলিয়ে বছরে প্রায় ৬৯ কোটি টাকার ওষুধের চাহিদা রয়েছে। এর বিপরীতে বরাদ্দ মিলছে মাত্র ৮ কোটি টাকার মতো। ফলে সরকারি হাসপাতালে বিনামূল্যে ওষুধ পাওয়ার কথা থাকলেও বাস্তবে রোগীদের হাতে ধরিয়ে দেওয়া হচ্ছে বাইরের ওষুধের দোকানের লম্বা তালিকা। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়ছেন অসচ্ছল রোগী ও তাদের স্বজনরা।

রোগী মনোয়ার হোসেন বলেন, “গরিব মানুষ সরকারি হাসপাতালে এসেছি সুবিধার জন্য। কিন্তু এখানে সকাল ও রাতে দুটো বড়ি ছাড়া কোনো ওষুধ দেয় না, সব কিনে আনতে হয়।”

রোগীর স্বজন জালাল উদ্দিনের অভিযোগ, “সরকারিভাবে কোনো ওষুধ পাচ্ছি না। প্রেসক্রিপশন ধরিয়ে দিয়ে বাইরে থেকে কিনতে বলছে। কিছু ওষুধ যদি হাসপাতাল থেকে দিত, তাহলে আমাদের উপকার হতো।”

আরেক স্বজন হায়দার আলী বলেন, “ফ্রি ওষুধ দেয়ার কথা থাকলেও সব বাইরে থেকে কিনতে হচ্ছে। টেস্টও বেশিরভাগ বাইরে করতে হচ্ছে।”

সেবাগ্রহীতা আনোয়ার বেগম বলেন, “আমরা গরিব মানুষ সরকারি হাসপাতালে আসি সহায়তার আশায়। কিন্তু নার্সরা বলছে ওষুধ নেই, বাইরে থেকে কিনতে হবে। সব ওষুধ বাইরে থেকেই কিনেছি।”

সাপে কাটার পর ভর্তি হওয়া রোগী জামিল আহমেদ বলেন, “স্যালাইন ছাড়া কোনো ওষুধ পাইনি। সব কিনে আনতে হয়েছে। সরকারি হাসপাতালে ভর্তি হলে যে সুবিধা পাওয়ার কথা, তা যেন ঠিকমতো পাই—এটাই দাবি।”

হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. মো. হুসাইন শাফায়াত জানান, শয্যা সংখ্যা ২৭৮ হলেও গড়ে প্রায় সাড়ে ৬০০ রোগী ভর্তি থাকে। প্রতিদিন আউটডোরে ২,৫০০ থেকে ৩,২০০ রোগী সেবা নেন।

তিনি বলেন, “আউটডোরে ২৭ কোটি এবং ইনডোরে ৪২ কোটি—মোট ৬৯ কোটি টাকার ওষুধের চাহিদা রয়েছে। কিন্তু আমরা পাই মাত্র ৮ কোটি টাকার মতো, যা মোট চাহিদার প্রায় ১১ শতাংশ। ফলে ১০০ টাকার প্রেসক্রিপশনে রোগীদের ৯০ টাকার ওষুধ বাইরে থেকে কিনতে হয়।”

তিনি আরও বলেন, “বরাদ্দ বাড়ানোর জন্য নিয়মিত চিঠি দেওয়া হচ্ছে। কিছু বাড়তি বরাদ্দ পাওয়া গেলেও তা প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল। সরকার যদি এ বিষয়ে নজর দেয়, তাহলে রোগীরা উপকৃত হবেন।”

উল্লেখ্য, যশোর ছাড়াও নড়াইল, মাগুরা ও ঝিনাইদহ জেলার রোগীরাও নিয়মিত এই হাসপাতাল থেকে চিকিৎসাসেবা নিয়ে থাকেন।


নিউজটি পোস্ট করেছেন : জাতীয় দৈনিক মুক্ত কণ্ঠস্বর

কমেন্ট বক্স