মোঃ কাইয়ুম মিয়া, মির্জাপুর (টাঙ্গাইল) প্রতিনিধি:
সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী সকাল ৯টা থেকে অফিস কার্যক্রম শুরু হওয়ার কথা থাকলেও টাঙ্গাইলের মির্জাপুর উপজেলায় তা মানছেন না বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা—এমন অভিযোগ উঠেছে। মঙ্গলবার (০৩ মার্চ) সকালে উপজেলার একাধিক সরকারি অফিস পরিদর্শনে গিয়ে এ চিত্র দেখা যায়।
সকাল ৯টা ৫৮ মিনিটে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তার কার্যালয়ে গিয়ে কর্মকর্তা মাহমুদা খাতুনকে অনুপস্থিত পাওয়া যায়। মুঠোফোনে যোগাযোগ করলে তিনি জানান, অফিসের কাজে বাইরে আছেন। তবে নির্ধারিত সময়ে অফিসে উপস্থিত না থাকার বিষয়ে সুনির্দিষ্ট কোনো ব্যাখ্যা না দিয়ে পরে সহকর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ করবেন বলে ফোন কেটে দেন।
একই সময়ে অতিরিক্ত কৃষি কর্মকর্তা হাদিউর রহমানকেও অফিসে পাওয়া যায়নি। কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা জানান, তিনি ছুটিতে আছেন। পরে অফিসের এক কর্মচারী বলেন, তিনি ছুটিতে ছিলেন, আজ অফিস করবেন। এ বিষয়ে যোগাযোগ করলে হাদিউর রহমান বলেন, “ছুটিতে ঢাকা গিয়েছিলাম, বর্তমানে রাস্তায় আছি, অফিসে আসছি।” পরে অফিসে এসে কথা বলবেন বলে জানান তিনি।
উপজেলা শিক্ষা অফিসেও একই চিত্র দেখা যায়। উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা জান্নাতুল ফেরদৌসকে অফিসে পাওয়া যায়নি। একাধিকবার ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করেও সাড়া মেলেনি। অফিস সূত্রে জানা যায়, তিনি আগামী ১২ মার্চ চাকরি থেকে অবসর নেবেন এবং এ সংক্রান্ত কাজে ঢাকায় থাকতে পারেন।
সকাল ১০টা পেরিয়ে গেলেও উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তার উপস্থিতি পাওয়া যায়নি। অফিসের এক কর্মচারী জানান, তিনি এখনো পৌঁছাননি। যোগাযোগ করলে তিনি বলেন, দেওহাটা অফিসের কাজে রয়েছেন। নির্ধারিত সময়ে অনুপস্থিত থাকার বিষয়ে জানতে চাইলে পরে কথা বলবেন বলে জানান।
এদিকে সকাল ১০টা ২২ মিনিট পর্যন্ত উপজেলা সমবায় কর্মকর্তাকেও অফিসে পাওয়া যায়নি। মুঠোফোনে তিনি জানান, রাস্তায় আছেন এবং অফিসে আসছেন। একই দপ্তরের অফিস সহকারী কাম-কম্পিউটার অপারেটর শিপ্রা সরকারের হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর থাকলেও তাকে অফিসে পাওয়া যায়নি। পরে এসে তিনি অসুস্থতার কথা উল্লেখ করেন। তবে কার অনুমতিতে বের হয়েছেন—এ প্রশ্ন এড়িয়ে যান। তার এক সহকর্মী জানান, তিনি পাশের একটি বিদ্যালয়ে গিয়েছিলেন।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সুরাইয়া ইয়াসমিন বলেন, “তাদের মনিটরিং করা আমার দায়িত্ব। প্রয়োজনবোধে সতর্ক করা হবে।” পাশাপাশি তিনি সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি জানানোর পরামর্শ দেন।
স্থানীয়দের দাবি, সরকারি সেবা নিশ্চিত করতে দপ্তরগুলোতে সময়ানুবর্তিতা ও জবাবদিহিতা আরও জোরদার করা প্রয়োজন।
জাতীয় দৈনিক মুক্ত কণ্ঠস্বর