ঢাকা | বঙ্গাব্দ

শাদাবের সেঞ্চুরিতে নাটকীয় জয়, ফাইনালে পাকিস্তান

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Oct 25, 2026 ইং
শাদাবের সেঞ্চুরিতে নাটকীয় জয়, ফাইনালে পাকিস্তান ছবির ক্যাপশন:
ad728

নিজস্ব প্রতিবেদক মুক্ত কণ্ঠস্বর

পাকিস্তানের লাহোরের ঐতিহাসিক গাদ্দাফি স্টেডিয়ামে ত্রিদেশীয় সিরিজের এক গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে আজ স্বাগতিক দল মাঠে নেমেছিল সম্পূর্ণ ভিন্ন এক রূপ নিয়ে, যেখানে তারা গায়ে জড়িয়েছিল আকর্ষণীয় গোলাপি রঙের জার্সি। এমন একটি চমৎকার ও রোমাঞ্চকর লড়াইয়ে শেষ পর্যন্ত ১ উইকেটের নাটকীয় জয় তুলে নিয়ে ফাইনাল নিশ্চিত করেছে পাকিস্তান দল।

টস ভাগ্য নিজেদের অনুকূলে না পাওয়ায় প্রথমে ফিল্ডিং করার আমন্ত্রণ পায় পাকিস্তান। ম্যাচের শুরুতেই দুর্দান্ত বোলিং নৈপুণ্য দেখিয়ে ইংলিশ ব্যাটিং লাইনআপকে চরম বিপর্যয়ের মুখে ফেলে দেন পেসাররা। প্রথম ৯.১ ওভারের মধ্যেই মাত্র ৫২ রান খরচ করে প্রতিপক্ষের মূল্যবান ৪টি উইকেট তুলে নেন তারা।

প্রাথমিক এই ব্যাটিং ধস থেকে ইংল্যান্ডকে উদ্ধার করার দায়িত্ব নেন স্যাম কারান এবং বেন ডাকেট। দলের বিপদের মুখে এই দুই ব্যাটার পঞ্চম উইকেটে অত্যন্ত দায়িত্বশীল ব্যাটিং করে ১০৫ বলে মূল্যবান ৯৩ রানের একটি জুটি গড়ে তোলেন এবং দলকে প্রাথমিক চাপ থেকে পুরোপুরি মুক্ত করেন।

পঞ্চম উইকেটে প্রায় শত রানের এই জুটি গড়ার পর থেকেই সফরকারী ইংলিশরা নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারাতে শুরু করে। শেষ পর্যন্ত নির্ধারিত ওভারগুলো পুরোপুরি খেলতে না পেরে তারা মাত্র ৪৬.৪ ওভারে সবকটি উইকেট হারিয়ে স্কোরবোর্ডে মোট ২৪১ রান সংগ্রহ করতে সমর্থ হয়।

ইংল্যান্ডের ইনিংসের মূল আকর্ষণ ছিলেন বেন ডাকেট, যিনি অত্যন্ত ধৈর্যের পরিচয় দিয়ে নিজের ওয়ানডে ক্যারিয়ারের পঞ্চম সেঞ্চুরিটি তুলে নেন। তিনি সব মিলিয়ে ১১১টি বল মোকাবিলা করে ১০টি চার ও ২টি ছক্কার সাহায্যে মোট ১০৫ রানের দারুণ এক ইনিংস উপহার দেন।

পাকিস্তানের পক্ষে বল হাতে সবচেয়ে সফল ছিলেন দলের অধিনায়ক শাহিন শাহ আফ্রিদি। তিনি মাত্র ৮.৪ ওভার বোলিং করে ৪৬ রান খরচ করেন এবং অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ৪টি উইকেট শিকার করে প্রতিপক্ষের রান চাকা আটকে রাখেন।

জবাবে লক্ষ্য তাড়ায় নেমে পাকিস্তান দলের ইনিংসের শুরুতেই নাটকীয়তার দেখা মেলে। নিজেদের ওয়ানডে ক্যারিয়ারের প্রথম সেঞ্চুরি অর্জনের ঠিক আগমুহূর্তে একবার রানআউট থেকে বেঁচে যান শাদাব খান, আর এই জীবনপাওয়ার সুযোগটিকে তিনি পরবর্তীতে অত্যন্ত সফলভাবে কাজে লাগান।

ফিল্ডিংয়ের সময় ইংল্যান্ডের খেলোয়াড়রা শাদাবের রানআউটের সহজ সুযোগ হাতছাড়া করার পাশাপাশি বেশ কয়েকটি মিসফিল্ডিংও করেন। এছাড়া নির্ধারিত সময়ে ওভার শেষ করতে না পারার কারণে স্লো ওভার রেটের শাস্তির মুখে পড়ে ইংল্যান্ড, যার ফলে তাদের বাধ্য হয়ে বৃত্তের ভেতরে একজন অতিরিক্ত ফিল্ডার রেখে বোলিং করতে হয়।

প্রতিপক্ষের এমন ভুলত্রুটি এবং ফিল্ডিংয়ের দুর্বলতার পুরো ফায়দা লুটেন শাদাব ও হারিস রউফ। এই দুজন শেষ উইকেটে প্রতিরোধ গড়ে মাত্র ৮০ বলে অবিচ্ছিন্ন ৮৯ রানের দুর্দান্ত এক জুটি গড়েন এবং শেষ পর্যন্ত ৪৭.১ ওভারে ৯ উইকেটে ২৪৩ রান সংগ্রহ করে দলের জয় নিশ্চিত করেন।

চরম চাপের মুখে দাঁড়িয়ে দুর্দান্ত ব্যাটিং প্রদর্শনী উপহার দেওয়ায় শাদাব খান ৯৬ বল খেলে ১৩টি চার ও ৫টি ছক্কার সাহায্যে ১১৩ রান করে অপরাজিত থাকেন। অন্যদিকে, শেষ ওভারে চার মেরে দলের জয় নিশ্চিত করার মুহূর্তটি পূর্ণ করেন রউফ।

ইংলিশদের পক্ষে বোলিং আক্রমণে সবচেয়ে বেশি সফল ছিলেন জেমি ওভারটন, যিনি একাই প্রতিপক্ষের ৩টি উইকেট শিকার করেন। তবে অসাধারণ এই অলরাউন্ড পারফরম্যান্স ও ম্যাচ জেতানো সেঞ্চুরির সুবাদে দিনশেষে ম্যাচসেরার পুরস্কারটি অর্জন করেন শাদাব খান নিজে।

সূত্র: আজকের পত্রিকা


নিউজটি পোস্ট করেছেন : জাতীয় দৈনিক মুক্ত কণ্ঠস্বর

কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
সিদ্ধান্তহীনতা ও রোমান্টিক অলসতায় কাটবে আজকের দিন

সিদ্ধান্তহীনতা ও রোমান্টিক অলসতায় কাটবে আজকের দিন