ঢাকা | বঙ্গাব্দ

মেরুদণ্ড প্রতিস্থাপনে নতুন কৌশল ও স্নায়ু সংযোগ

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Oct 25, 2026 ইং
মেরুদণ্ড প্রতিস্থাপনে নতুন কৌশল ও স্নায়ু সংযোগ ছবির ক্যাপশন:
ad728

নিজস্ব প্রতিবেদক মুক্ত কণ্ঠস্বর

মেরুদণ্ডে গুরুতর আঘাত লাগার পর সবচেয়ে জটিল ও বড় চ্যালেঞ্জটি হলো মস্তিস্ক এবং আঘাতপ্রাপ্ত অংশের নিচের স্নায়ুজাল বা নিউরাল সার্কিটের মধ্যকার ভেঙে যাওয়া যোগাযোগ পুনরায় স্থাপন করা। মানবদেহের মেরুদণ্ডের কোষগুলোর নিজস্ব বিভাজন ক্ষমতা নেই এবং এগুলোর স্বাভাবিক বৃদ্ধিও ঘটে না, ফলে আঘাত পাওয়ার পর এই ক্ষতিগ্রস্ত অংশগুলো আরও দ্রুত ধ্বংসের দিকে এগিয়ে যেতে থাকে। দীর্ঘ সময় ধরে গবেষক রেন, কানাভেরোসহ অনেকেই এমন একটি বিশেষ কৌশল নিয়ে গবেষণা চালিয়ে যাচ্ছেন, যেখানে সদ্য কেটে যাওয়া মেরুদণ্ডের দুই প্রান্তের পৃষ্ঠদেশ একত্র করে সেখানে পিইজি প্রয়োগ করা হয়। এই প্রক্রিয়ার মূল উদ্দেশ্য হলো সংযোগস্থলের স্নায়ুতন্তু বা ফাইবারগুলোকে একসঙ্গে জোড়া দেওয়া, যা অনেকটা শুকনো স্প্যাগেটির টুকরোগুলোকে মাথায়ে মাথায়ে মিলিয়ে রেখে তাদের একে অপরকে স্পর্শ করার আশা করার মতোই।

মস্কোর স্বনামধন্য স্ক্লিফোসোভস্কি ইনস্টিটিউট ফর ইমার্জেন্সি মেডিসিনের বিশেষজ্ঞ মাইকেল লেবেনস্টাইন-গুমোভস্কি অবশ্য সরাসরি এই মানব প্রতিস্থাপন প্রক্রিয়ার সাথে যুক্ত না থাকলেও তিনি পূর্বে শুয়োরের ওপর প্রায় একই ধরনের পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালিয়েছিলেন। এর আগে তিনি বিশিষ্ট সংবাদমাধ্যম নিউ সায়েন্টিস্টকে জানিয়েছিলেন যে, চিকিৎসাবিজ্ঞানে প্রস্তাবিত এই ‘ফিউশন’ বা জোড়া লাগানোর মেথডটি মূলত নতুন কোনো স্নায়ুকোষ তৈরি করা কিংবা ক্ষতস্থান ভেদ করে ফাইবারগুলোকে প্রাকৃতিকভাবে বড় হতে উৎসাহিত করার বদলে বিদ্যমান স্নায়ুগুলোকে সরাসরি একত্রে সংযুক্ত করার আইডিয়ার ওপর প্রতিষ্ঠিত। তত্ত্বগত দিক থেকে বিচার করলে এর পরের ধাপটিতে আসে ‘নিউরোপ্লাস্টিক রিঅর্গানাইজেশন’ বা স্নায়বিক পুনর্গঠন প্রক্রিয়া, যেখানে মানব মস্তিষ্ক এবং মেরুদণ্ড সম্পূর্ণ নতুন সেই সংযোগগুলোর সাথে নিজেদের মানিয়ে নিতে শুরু করে, যেগুলো অতীতে কখনোই একসঙ্গে কাজ করত না।

পূর্বে পরিচালিত এই বিশেষ কৌশলগুলো প্রয়োগ করার ফলে পরীক্ষাগারের ইঁদুর, কুকুর এবং শুয়োরের চলাফেরা করার ক্ষমতার ক্ষেত্রে কিছু দৃশ্যমান উন্নতি লক্ষ্য করা গিয়েছিল। চিকিৎসাবিজ্ঞানের নির্দিষ্ট কিছু প্রটোকলে আবার প্রদাহ বা ইনফ্লেমেশন কমানোর পাশাপাশি স্নায়ুর সামগ্রিক সুস্বাস্থ্য বজায় রাখতে বিশেষ ধরনের ওষুধের ব্যবহার করা হয়, এবং এর পাশাপাশি মেরুদণ্ডের সার্কিটগুলোতে কৃত্রিম উপায়ে বৈদ্যুতিক উদ্দীপনাও সরবরাহ করা হয়ে থাকে। তবে চিকিৎসা বিজ্ঞানের বাস্তবতায় সদ্য কেটে ফেলা কোনো মেরুদণ্ডকে পুনরায় জোড়া লাগানোর কাজের সঙ্গে দীর্ঘ বছর আগের পুরনো কোনো আঘাতের মেরামত করা কিংবা মেরুদণ্ডে কোনো দাতার শরীর থেকে নেওয়া অংশকে সফলভাবে সংহত করা সম্পূর্ণ ভিন্ন দুটি বিষয়।

বিশেষজ্ঞ অ্যান্ড্রুজের মতে, এই ধরনের একটি জটিল প্রতিস্থাপন প্রক্রিয়াকে সত্যিকার অর্থে কার্যকরিভাবে সংযুক্ত করতে হলে অস্ত্রোপচারের সময় সেখানে এমন কিছু নির্দিষ্ট অণুর উপস্থিতি থাকতে হবে যা ক্ষতিগ্রস্ত টিস্যু দ্রুত নিরাময় করতে উৎসাহিত করে। একই সঙ্গে এমন কিছু উপাদানেরও অতিপ্রয়োজন রয়েছে যা মেরুদণ্ডের ভেতরের ও চারপাশের অংশে উপস্থিত এমন সব অণুকে নিষ্ক্রিয় করতে পারে, যেগুলো স্বাভাবিকভাবে স্নায়ু ফাইবারের বৃদ্ধিতে প্রাকৃতিক বাধা হিসেবে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে। এছাড়া দাতা টিস্যু ও গ্রহণকারী রোগীর মেরুদণ্ডের মধ্যকার বৃদ্ধিতে উদ্দীপনা জোগাতে সক্ষম এমন উপাদানেরও জুড়ি মেলা ভার বলে তিনি মন্তব্য করেন। সবশেষে অ্যান্ড্রুজ স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন যে, ‘এমনকি তারপরও, পুনর্জন্ম এবং কার্যক্ষমতা পুরোপুরি ফিরে পাওয়ার সম্ভাবনা আমার ব্যক্তিগত মতে সম্পূর্ণ শূন্য।’

সূত্র: আজকের পত্রিকা


নিউজটি পোস্ট করেছেন : জাতীয় দৈনিক মুক্ত কণ্ঠস্বর

কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
বলিউড অঙ্গনে ত্রাস সৃষ্টিকারী লরেন্স বিষ্ণোই ও তাঁর অপরাধ সা

বলিউড অঙ্গনে ত্রাস সৃষ্টিকারী লরেন্স বিষ্ণোই ও তাঁর অপরাধ সা