ঢাকা | বঙ্গাব্দ

বিমানবন্দর-গাজীপুর মেগা প্রকল্পে চরম ভোগান্তি ও প্রাণহানি

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Oct 23, 2026 ইং
বিমানবন্দর-গাজীপুর মেগা প্রকল্পে চরম ভোগান্তি ও প্রাণহানি ছবির ক্যাপশন:
ad728

নিজস্ব প্রতিবেদক মুক্ত কণ্ঠস্বর

সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর, সেতু বিভাগ এবং স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর এই বিশাল অবকাঠামোটি বাস্তবায়নের দায়িত্ব পালন করেছে। এর নির্মাণকাজের চুক্তি পায় তিনটি আলাদা চীনা প্রতিষ্ঠান। এছাড়া এই গণপরিবহন ব্যবস্থাটি পরিচালনার উদ্দেশ্যে ২০১৩ সালে ঢাকা বাস র‌্যাপিড ট্রানজিট পিএলসি প্রতিষ্ঠা করা হয়।

কোনো রকম পূর্ণাঙ্গ সমীক্ষা সম্পন্ন না করেই এবং সঠিক নকশা তৈরি না করেই এই উদ্যোগের কাজ শুরু করায় একদম শুরু থেকেই বিভিন্ন ধরনের জটিলতা মাথাচাড়া দিয়ে ওঠে। বৃষ্টির পানি নিষ্কাশনের কোনো ধরনের পয়োনিষ্কাশনব্যবস্থা প্রকল্পের নকশায় রাখা হয়নি। এমনকি বিভিন্ন সেবা প্রদানকারী সংস্থার আন্ডারগ্রাউন্ড লাইন স্থানান্তরের বিষয়েও কোনো ধরনের পূর্বপ্রস্তুতি বা পরিকল্পনা ছিল না।

তৈরি চলাকালীন এই ব্যস্ততম মহাসড়কে সাধারণ ও বিকল্প যানবাহন চলাচলের জন্য কোনো রকম সুব্যবস্থা রাখা হয়নি। সেখানে ছিল না পর্যাপ্ত সড়কবাতি কিংবা পথচারীদের চলাচলের জন্য ফুটপাত। কাজের ধীরগতি, জমি অধিগ্রহণ সংক্রান্ত জটিলতা এবং বারবার নকশা পরিবর্তনের কারণে নির্ধারিত সময়ের দীর্ঘ কাল পরে ২০১৮ সালে মাঠপর্যায়ে বড় আকারে এর নির্মাণকাজ শুরু করা সম্ভব হয়।

দীর্ঘ চৌদ্দ বছর ধরে চলা এই অগোছালো নির্মাণকাজের ফলে সড়কের ঠিক মাঝখানে সিমেন্টের ভারী প্রতিবন্ধক ও লোহার বেড়া বসানো হয়। এর ফলে রাস্তাটি অত্যন্ত সরু হয়ে যায় এবং বিমানবন্দর থেকে গাজীপুর রুটে যাতায়াতকারী প্রতিদিনের লাখ লাখ সাধারণ মানুষ ও পোশাকশিল্পের শ্রমিকেরা চরম ধুলাবালি ও দীর্ঘস্থায়ী তীব্র যানজটের শিকার হতে থাকেন।

সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের চরম উদাসীনতা এবং ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের মারাত্মক দায়িত্বহীনতার কারণে এই মেগা প্রকল্পে একাধিক প্রাণঘাতী দুর্ঘটনা সংঘটিত হয়েছে বলে গুরুতর অভিযোগ রয়েছে। কাজ চলার সময় ক্রেন উল্টে গিয়ে এবং ভারী লঞ্চিং গার্ডার ভেঙে পড়ে নিরাপত্তারক্ষী জিয়াউর রহমানসহ অন্তত সাতজন অসহায় পথচারী ও নির্মাণশ্রমিক প্রাণ হারান।

মূল পরিকল্পনা অনুযায়ী ২০১৬ সালের মধ্যে সমস্ত কাজ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও তা সম্ভব হয়নি। ফলে বাধ্য হয়ে এই প্রকল্পের মেয়াদ বাড়িয়ে ২০২২ সালের জুন পর্যন্ত করা হয়। সেই সময় এই কাজের প্রাক্কলিত ব্যয় পুনরায় নির্ধারণ করে ৪ হাজার ২৬৮ কোটি ৩২ লাখ টাকায় উন্নীত করা হয়, যা প্রকল্পের মূল খরচের দ্বিগুণের চেয়েও বেশি।

পরবর্তীতে ২০২৫ সালে এসে এই প্রকল্পের মেয়াদ সরাসরি ২০২৯ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত দীর্ঘায়িত করার এবং এর মোট ব্যয় বাড়িয়ে ৬ হাজার ৫৯৭ কোটি টাকায় নিয়ে যাওয়ার একটি নতুন প্রস্তাব পেশ করা হয়। অবশেষে ওই বছরের গত ২৭ জুলাই অনুষ্ঠিত একনেক সভায় এই বর্ধিত ব্যয় ও মেয়াদের প্রস্তাবটি সম্পূর্ণভাবে বাতিল করে দেওয়া হয়।

রাজধানীর বিমানবন্দর থেকে শুরু করে গাজীপুর পর্যন্ত সমগ্র সড়কের ঠিক মধ্যবর্তী স্থানে মোট ১৫টি আধুনিক স্টেশন অবকাঠামো নির্মাণ করা হয়েছে। তবে দুঃখজনক হলেও সত্য যে, এখন পর্যন্ত একটি স্টেশনেরও নির্মাণকাজ পুরোপুরি সম্পন্ন করা সম্ভব হয়নি।

যাত্রীদের নিরাপদে রাস্তা পারাপার ও ওঠানামার জন্য বেশ কয়েকটি নতুন পদচারী সেতু নির্মাণ করা হয়েছে, যেখানে আধুনিক চলন্ত সিঁড়ি ও লিফট সংযোজনের কথা ছিল। বর্তমানে এসব মূল্যবান স্থাপনা কোনো কাজেই ব্যবহার করা যাচ্ছে না এবং অযত্ন-অবহেলায় কোথাও যন্ত্রপাতিতে জং ধরে গেছে আবার কোথাও বিভিন্ন অবকাঠামো ভেঙে পড়তে শুরু করেছে।


নিউজটি পোস্ট করেছেন : জাতীয় দৈনিক মুক্ত কণ্ঠস্বর

কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদার মুন্সিপুর সীমান্তে অভিযান চালিয়ে ছয়টি

চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদার মুন্সিপুর সীমান্তে অভিযান চালিয়ে ছয়টি