নিজস্ব প্রতিবেদক মুক্ত কণ্ঠস্বর
মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলায় অভিনব কৌশলে চলছে টমেটো চাষ। স্থানীয় কৃষকরা গ্রাফটিং পদ্ধতি ও মালচিং পেপারের সংমিশ্রণ ঘটিয়ে এই সবজি উৎপাদন করছেন, যার মাধ্যমে সারা বছরই টমেটোর ফলন পাওয়া সম্ভব বলে আশা করা হচ্ছে।
এলাকার চাষিদের ভাষ্য অনুযায়ী, কৃষকেরা নিজেদের উদ্যোগে লাখ লাখ টাকা ব্যয় করে গ্রাফটিং চারা প্রস্তুত করেন এবং পরবর্তীতে তা বিভিন্ন অঞ্চলে বিক্রি করে থাকেন। বিশেষ কায়দায় তৈরি এই চারাগুলো সরাসরি মালচিং পেপারের ওপর রোপণ করা হয়। হিসাব কষে দেখা গেছে, মাত্র ৩০ শতক জমিতে এই পদ্ধতিতে টমেটো চাষ করতে সব মিলিয়ে ৩ থেকে ৪ লাখ টাকার মতো খরচ হয়ে থাকে।
বর্তমানে কমলগঞ্জের কয়েকজন কৃষক সম্মিলিতভাবে প্রায় ৪ থেকে ৫ একর জমিতে এই বিশেষ পদ্ধতিতে টমেটো চাষাবাদ করছেন। এই কর্মযজ্ঞে প্রতিটি টমেটো ক্ষেতে নিয়মিতভাবে প্রতিদিন গড়ে ৬ থেকে ৭ জন শ্রমিক মাঠে কাজ করে থাকেন। চাষিদের জোরালো অভিমত হলো, যদি গ্রাফটিং পদ্ধতির মাধ্যমে এই অঞ্চলে ব্যাপকভাবে টমেটোর চাষ সম্প্রসারিত করা যায়, তবে গ্রীষ্মকালেও বাজারে এই সবজির সরবরাহ একেবারে স্বাভাবিক রাখা সম্ভব হবে।
গ্রীষ্মকালে এই জাতের টমেটো চাষ করতে উৎপাদনের খরচ খানিকটা বেশি পড়ে বটে, তবে এর বিপরীতে বাজারে বেশ ভালো দামও পাওয়া যায় বলে জানিয়েছেন স্থানীয় কৃষকেরা। এই সুবাদে তাঁরা মৌসুমের একদম শুরুর দিকে পাইকারি বাজারে প্রতি কেজি টমেটো ১০০ টাকা দরে বিক্রি করতে সক্ষম হয়েছেন। তবে বর্তমানে বাজারভেদে সেই একই টমেটো প্রতি কেজি ৫০ থেকে ৬০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।
এদিকে সফলতার পাশাপাশি কিছু চ্যালেঞ্জের কথাও জানিয়েছেন চাষিরা। তাঁদের ভাষ্যমতে, গ্রাফটিং পদ্ধতিতে কৃষকদের বড় একটি অংশ সফলতা পেলেও, দুর্ভাগ্যবশত কয়েকজনের ক্ষেতের টমেটোগাছ ফল ধরার ঠিক আগমুহূর্তে পোকার আক্রমণে শুকিয়ে মারা যাচ্ছে। কৃষকদের অভিযোগ, ফসলের এমন বিপদের দিনেও তাঁরা স্থানীয় কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে কাঙ্ক্ষিত কোনো ধরনের সহযোগিতা বা সহায়তা পাননি।
অন্যদিকে, জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর থেকে প্রাপ্ত সুনির্দিষ্ট তথ্য অনুযায়ী, পুরো মৌলভীবাজার জেলাজুড়ে প্রায় ২১ হেক্টর জমিতে গ্রীষ্মকালীন টমেটোর চাষ হয়ে থাকে। এই গ্রীষ্মকালীন চাষে প্রতি হেক্টরে গড়ে প্রায় ৩০ টন পর্যন্ত ফলন পাওয়া যায়। পাশাপাশি শীতকালীন সময়ে জেলায় আরও ১ হাজার ২২১ হেক্টর জমিতে টমেটো চাষ করা হয়, যেখানে প্রতি হেক্টরে গড়ে ৩০ থেকে ৩৫ টন পর্যন্ত ফলন অর্জিত হয়ে থাকে।
সূত্র: আজকের পত্রিকা
জাতীয় দৈনিক মুক্ত কণ্ঠস্বর