ঢাকা | বঙ্গাব্দ

বড় প্রতিষ্ঠানেও বাড়ছে অনানুষ্ঠানিক চাকরি, শ্লথ উৎপাদনশীলতা

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Nov 4, 2026 ইং
বড় প্রতিষ্ঠানেও বাড়ছে অনানুষ্ঠানিক চাকরি, শ্লথ উৎপাদনশীলতা ছবির ক্যাপশন:
ad728

নিজস্ব প্রতিবেদক মুক্ত কণ্ঠস্বর

চাকরির বাজারের অনানুষ্ঠানিক রূপটি এখন শুধু ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা কিংবা অতি ছোট কারবারে আটকে নেই। মাঝারি ও বৃহৎ পরিসরের ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানগুলোতেও সব মিলিয়ে প্রায় পঁয়ত্রিশ থেকে চল্লিশ ভাগ চাকরিই অনানুষ্ঠানিক খাতে পড়ে রয়েছে। দক্ষিণ এশিয়ার তিন রাষ্ট্র বাংলাদেশ, ভারত এবং নেপালের বিশাল অংশের অনানুষ্ঠানিক ব্যবসায়ী বা উদ্যোক্তারা জানিয়েছেন যে, কোনো স্থায়ী বা নিরাপদ পেশা না পাওয়ার কারণেই তাঁরা বাধ্য হয়ে নিজেদের মতো উদ্যোগ কিংবা কারবার ফেঁদে বসেছেন। বিশ্বব্যাংকের একটি সাম্প্রতিক পর্যালোচনায় উঠে এসেছে এই তথ্য, যেখানে মূলত সরকারের পরিসংখ্যান বিষয়ক সংস্থার ২০২২ সালের অনানুষ্ঠানিক খাতের ওপর চালানো জরিপটি চুলচেরা বিশ্লেষণ করা হয়েছে।

নিবন্ধিত ও প্রাতিষ্ঠানিক সংস্থাগুলোতেও নতুন চাকরি সৃষ্টির কাঙ্ক্ষিত গতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে না। বর্তমান পরিসংখ্যান বলছে, আমাদের দেশে এই ধরনের কাঠামোগত প্রতিষ্ঠানে নতুন কর্মসংস্থানের প্রসারণ ঘটছে মাত্র দুই দশমিক সাত শতাংশ হারে। অথচ বৈশ্বিক পরিসরে হিসাব করলে দেখা যায় যে, প্রায় বিরাশিটি উদীয়মান অর্থনীতির দেশের ক্ষেত্রে এই বিস্তারের গড় হার দাঁড়িয়েছে পাঁচ দশমিক চার শতাংশে।

চাকরির বাজারের এমন ভঙ্গুর দশার সঙ্গে যুক্ত হয়েছে সামগ্রিক উৎপাদনশীলতার নিম্নমুখী প্রবণতা। আমাদের দেশসহ ভারতের বিভিন্ন বাণিজ্যিক কারখানায় নিয়োজিত শ্রমিকদের মাথাপিছু উৎপাদন বৃদ্ধির হার আন্তর্জাতিক গড়ের তুলনায় বেশ পিছিয়ে রয়েছে। এমনকি হোটেল, পর্যটন ও খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণের মতো সম্ভাবনাময় ক্ষেত্রগুলোতেও কর্মসংস্থান বৃদ্ধির গতি অত্যন্ত শ্লথ। ছোট ও মাঝারি আকারের অনেক প্রতিষ্ঠানই নতুন কর্মী নিয়োগের পরিবর্তে উল্টো কর্মী ছাঁটাই বা জনবল কমানোর পথ বেছে নিয়েছে।

আন্তর্জাতিক ঋণদানকারী সংস্থাটির প্রাক্কলন অনুযায়ী, আগামী একচল্লিশ সালের মধ্যে দেশের মোট জনসংখ্যার চৌদ্দ শতাংশ মানুষ পঞ্চষট্টি বছর বা তদূর্ধ্ব বয়সের কোটায় পৌঁছাবে। এর ফলে বাংলাদেশ খুব শীঘ্রই একটি বার্ধক্যপীড়িত সমাজে রূপান্তরিত হতে চলেছে। প্রতিবেশী অন্যান্য দেশের তুলনায় কিছুটা বেশি সময় অর্থাৎ প্রায় উনিশ বছর সময় হাতে থাকলেও, জনমিতিক এই সুযোগকে সঠিকভাবে কাজে লাগাতে হলে মানবসম্পদ ও কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে অতি দ্রুত বিনিয়োগ বাড়াতে হবে। তুলনা করলে দেখা যায়, ভারতের সামনে এই ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ড বা সুযোগ কাজে লাগানোর মেয়াদ মাত্র আট বছর এবং ভুটানের রয়েছে মোটে পাঁচ বছর।

প্রকাশিত ওই নথিপত্রে আরও ফুটিয়ে তোলা হয়েছে যে, চিকিৎসাসেবার ক্ষেত্রে প্রান্তিক গ্রাম ও নাগরিক অঞ্চলের মধ্যকার ব্যবধান অত্যন্ত তীব্র আকার ধারণ করেছে। দেশের মোট জনগোষ্ঠীর বড় অংশ অর্থাৎ সত্তর শতাংশ মানুষ গ্রামে বসবাস করলেও, চিকিৎসাসংক্রান্ত জনবলের মোটে কুড়ি শতাংশ সেখানে সেবা প্রদান করছেন। শহরাঞ্চলে চিকিৎসকের ঘনত্বের মাত্রা গ্রামের তুলনায় প্রায় আঠারো গুণ বেশি। দীর্ঘমেয়াদি ও অসংক্রামক ব্যাধি ব্যবস্থাপনার প্রয়োজনীয় সব উপকরণের উপস্থিতি রয়েছে দেশের মোটে আঠারো শতাংশ প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রে।

জরুরি ওষুধ ও চিকিৎসা সরঞ্জামের পর্যাপ্ততা নিশ্চিত করা রয়েছে কেবল সাড়ে সাত শতাংশ কেন্দ্রে। উপজেলা পর্যায়ের স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলোর মোটে এক দশমিক ছয় শতাংশে ইনজেকশনের মাধ্যমে ব্যবহারের ইনসুলিন এবং ৩৮ শতাংশ প্রতিষ্ঠানে মেটফরমিন সরবরাহ পাওয়া যায়। এছাড়া হৃদ্‌রোগের সুচিকিৎসার জন্য প্রয়োজনীয় সব উপাদানের প্রাপ্যতা রয়েছে মোটে এক শতাংশের কম হাসপাতালে।

শিক্ষার প্রাথমিক ভিতটিও যথেষ্ট মজবুত নয় বলে প্রতিবেদনে সতর্ক করা হয়েছে। প্রাক্-প্রাথমিক স্তরে শিশু ভর্তির জাতীয় হার মাত্র ছত্রিশ শতাংশ, যেখানে পুরো দক্ষিণ এশীয় অঞ্চলের গড়ের হার ছিল বাষ্পাট্টি শতাংশ। পাশাপাশি, সামাজিক নিরাপত্তাবেষ্টনী খাতে বরাদ্দকৃত অর্থ এই অঞ্চলের রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে রয়েছে। পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশুরা মোট সামাজিক নিরাপত্তা বরাফ বা খরচের মোটে দুই শতাংশ পেয়ে থাকে। অন্যদিকে, বয়স্ক নাগরিকদের জন্য নির্ধারিত সরকারি ভাতার পরিমাণ প্রতি মাসে মাত্র পাঁচশত টাকা, যা গ্রামীণ এলাকার গরিব পরিবারগুলোর গড় মাসিক আয়ের মোটে পাঁচ থেকে আট শতাংশের সমান। নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের উচ্চমূল্যের কারণে এই সামান্য ভাতার প্রকৃত ক্রয়ক্ষমতা আরও হ্রাস পেয়েছে।

যদিও বিগত বছর অর্থাৎ ২০২৩ সালে সর্বজনীন পেনশন স্কিম বা কর্মসূচি চালু করা হয়েছে, তবুও বিশাল এই অনানুষ্ঠানিক খাতের শ্রমিকদের জন্য কোনো উল্লেখযোগ্য বা কার্যকর পেনশন ব্যবস্থার রূপরেখা নেই। অথচ দেশের সিংহভাগ শ্রমজীবী মানুষই এই খাতের ওপর নির্ভরশীল। অপর্যাপ্ত কর রাজস্ব সংগ্রহের কারণে শিক্ষা, স্বাস্থ্য এবং সামাজিক নিরাপত্তা খাতের মতো জনগুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় সরকারি ব্যয় বৃদ্ধি করাও ক্রমশ কঠিন হয়ে দাঁড়াচ্ছে।

এমতাবস্থায় বর্তমান সংকট উত্তরণের সুনির্দিষ্ট কিছু পথ বাতলে দিয়েছে বিশ্বব্যাংক। এর মধ্যে রয়েছে প্রাক-প্রাথমিক শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে সরকারি অর্থ বিনিয়োগ উল্লেখযোগ্যহারে বৃদ্ধি করা, ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের জন্য প্রাতিষ্ঠানিক ঋণ বা অর্থায়ন প্রক্রিয়া সহজলভ্য করা এবং শ্রমজীবীদের কাজের দক্ষতা বৃদ্ধির ওপর জোর দেওয়া। এছাড়া সার্বিক অর্থনীতির স্বার্থে শ্রমবাজারে নারী সমাজের অংশগ্রহণ জোরালো করার ওপরও বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করেছে আন্তর্জাতিক সংস্থাটি।

সূত্র: আজকের পত্রিকা


নিউজটি পোস্ট করেছেন : জাতীয় দৈনিক মুক্ত কণ্ঠস্বর

কমেন্ট বক্স
কুরিয়ার ওয়্যারহাউসে হামলা চালিয়ে ৩১ লাখ টাকার প্রযুক্তিপণ্য

কুরিয়ার ওয়্যারহাউসে হামলা চালিয়ে ৩১ লাখ টাকার প্রযুক্তিপণ্য