নিজস্ব প্রতিবেদক মুক্ত কণ্ঠস্বর
প্রধানমন্ত্রীর বিদায়লগ্নে প্রটোকল লঙ্ঘন করে আপত্তিকর আচরণ করার অভিযোগে রাজশাহীর বিভাগীয় কমিশনার জি এস এম জাফরউল্লাহ (যিনি সংবাদে ইউসুফ আলী নামে আলোচিত)-কে প্রত্যাহার করা হয়েছে। সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে একটি সংক্ষিপ্ত ভিডিও ক্লিপ ছড়িয়ে পড়ে, যেখানে দেখা যায় যে সরকারপ্রধানের প্রস্থানকালে প্রশাসনিক ও পুলিশ বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা সারিবদ্ধ হয়ে অবস্থান করছিলেন। প্রধানমন্ত্রী একে একে সবার সঙ্গে হাত মেলানোর ধারাবাহিকতায় বিভাগীয় কমিশনারের সুনির্দিষ্ট তালের দিকেও হাত বাড়ান।
সেই মুহূর্তটিতে দেখা যায়, বিভাগীয় কমিশনার এক কদম সামনে এগিয়ে গিয়ে করমর্দনরত অবস্থায় তাঁর অপর হাতটি ব্যবহার করে পেছন দিক থেকে প্রধানমন্ত্রীকে স্পর্শ করার অপচেষ্টা চালান। এতে প্রধানমন্ত্রী কিছুটা পিছু হটে যান এবং তাঁকে নির্ধারিত সারিতে অবস্থানের তাগিদ দেন। ফেসবুকের বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে এই ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পর অনেকেই মন্তব্য করেন যে উক্ত কর্মকর্তার এই আচরণটি সম্পূর্ণ অনাকাঙ্ক্ষিত ও শিষ্টাচারবহির্ভূত ছিল।
আজ বুধবার প্রাতঃকালে রাজশাহী মহানগর এনসিপির আহ্বায়ক মোবাশ্বের আলী নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে লেখেন যে নির্ধারিত প্রটোকল অমান্য করে প্রধানমন্ত্রীকে আলিঙ্গন করার অপচেষ্টার পরিণতিতেই রাজশাহীর বিভাগীয় কমিশনারকে ওএসডি করা হয়েছে।
রাজশাহী বিভাগীয় কমিশনার কার্যালয়ের একাধিক বিশ্বস্ত সূত্র নিশ্চিত করেছে যে আজ সকালেই অতিরিক্ত সচিব পদমর্যাদার এই কর্মকর্তাকে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে রিপোর্ট করার নির্দেশ প্রদান করা হয়। এই নির্দেশনার প্রেক্ষিতে তিনি রাতের বেলাতেই নিজস্ব দায়িত্বভার হস্তান্তর করে একটি মোটরযানে চড়ে রাজশাহী ত্যাগ করেন। ওইদিন রাত সাড়ে এগারোটার দিকে তিনি শহরের তালাইমারী এলাকা অতিক্রম করে ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা দেন এবং ইতিমধ্যে রাজধানীতে পৌঁছান।
এর আগে গত ১২ আগস্টের ঘটনায় ফ্যামিলি কার্ডের তথ্য সংগ্রহকারী ও সুপারভাইজার পদের নিয়োগ পরীক্ষার ফলাফল ঘোষণাকে কেন্দ্র করে নাটোরের লালপুর এবং বাগাতিপাড়া উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কার্যালয় চত্বরে বেশ কিছু লোকজনের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ ও ভাঙচুরের অভিযোগ ওঠে।
উক্ত ঘটনার প্রেক্ষিতে গত ১৮ আগস্ট সংশ্লিষ্ট দুই উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কার্যালয়ের প্রশাসনিক দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তারা বাদী হয়ে স্ব স্ব থানায় পৃথক দুটি এজাহার দাখিল করেন। দায়েরকৃত এসব এজাহারে স্থানীয় বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) নেতাকর্মীদের অভিযুক্ত করা হয়।
এর ঠিক পরের দিন অর্থাৎ ১৯ আগস্ট লালপুর উপজেলার তৎকালীন নির্বাহী অফিসার মো. বরকত উল্লাহকে রাজশাহী বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ে বদলি করা হয়েছিল। একই দিনে নাটোরের তৎকালীন জেলা প্রশাসক আসমা শাহীন এবং রাজশাহীর তৎসময়ে কর্মরত বিভাগীয় কমিশনার ড. এ এন এম বজলুর রশীদকে প্রত্যাহারপূর্বক জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে বদলি করা হয়েছিল। সেই বিশেষ দিনটিতেই নতুন বিভাগীয় কমিশনার হিসেবে ইউসুফ আলীকে দায়িত্বোয়ন করা হয়েছিল এবং মাত্র দুই মাসের ব্যবধানে তাঁকেও অবশেষে প্রত্যাহার করা হলো।
জাতীয় দৈনিক মুক্ত কণ্ঠস্বর