নিজস্ব প্রতিবেদক মুক্ত কণ্ঠস্বর
গুরুতর নিপীড়নের শিকার হয়ে জ্ঞানহীন অবস্থায় এক ছাত্রদল বা ছাত্রলীগ কর্মীকে ক্লিনিক চত্বরে ফেলে যাওয়ার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। সুনামগঞ্জ শহরের একটি সরকারি কলেজ থেকে বিজ্ঞান শাখায় সম্প্রতি উচ্চ মাধ্যমিক শেষ করা ওই শিক্ষার্থীর নাম শাহনেওয়াজ।
তাঁর বাবা শাহরুখ রাজা চৌধুরী সাংবাদিকদের জানান, সংবাদ পেয়ে তাঁরা অত্যন্ত দ্রুততার সঙ্গে প্রথমে সদর হাসপাতালে যান। সেখানে যথাযথ চিকিৎসার সুযোগ না থাকায় তাঁকে স্থানান্তর করা হয় সুবিদবাজার এলাকার একটি বেসরকারি ক্লিনিকে।
শুক্রবার দুপুরের দিকেও ভুক্তভোগী তরুণ সংজ্ঞাহীন অবস্থায় চিকিৎসাধীন ছিলেন বলে পরিবারের পক্ষ থেকে নিশ্চিত করা হয়েছে। পূর্বে একটি মামলায় তাকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী আটক করায় তিনি কারাগারের ভেতরে বসেই পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিলেন।
আদালত থেকে জামিন পাওয়ার পরও বাসা থেকে তুলে নেওয়ার মাত্র দুই ঘণ্টার ব্যবধানে তাঁকে এই আঘাতপ্রাপ্ত অবস্থায় রেখে যাওয়ার দাবি করেন তাঁর বাবা।
ইন্টারনেটে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, আটকের মুহূর্তে ওই তরুণ পুলিশ কর্মকর্তাদের উদ্দেশে স্বেচ্ছায় আত্মসমর্পণের কথা বলছেন।
তখন একজন পুলিশ কর্মকর্তা তাঁকে অবুঝের মতো কথা না বলার পরামর্শ দিয়ে বলেন যে তিনি কৃতকার্য হলে তাঁকে মিষ্টান্ন খাওয়ানো হবে।
ভবিষ্যৎ জীবন ধ্বংস হয়ে যাওয়ার কথা শিক্ষার্থী জানালে সংশ্লিষ্ট পুলিশ সদস্য দাবি করেন যে তাঁর ভবিষ্যৎ আগেই শেষ হয়ে গেছে।
অন্যদিকে, থানায় নিয়ে কোনো ধরনের শারীরিক বলপ্রয়োগ বা নির্যাতনের ঘটনা ঘটেনি বলে দৃঢ়ভাবে দাবি করেছেন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রতন শেখ।
তিনি উল্লেখ করেন যে ওই তরুণের নামে একাধিক মামলা রয়েছে এবং তাঁর অসুস্থতার প্রকৃত কারণ কেবল চিকিৎসকরাই নিশ্চিত বলতে পারবেন। এই বিষয়ে তিনি আর কোনো মন্তব্য করা থেকে বিরত থাকেন।
শুক্রবার সাপ্তাহিক ছুটির দিন হওয়ায় হাসপাতালে উপস্থিত ছিলেন না সুনামগঞ্জ জেলা সদর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. আলী আশরাফ সোহাগ।
তিনি সংবাদমাধ্যমকে জানান যে ছুটির দিন হওয়ায় তিনি বিষয়টি সম্পর্কে সম্পূর্ণ ওয়াকিবহাল নন এবং বিস্তারিত তথ্য তাঁর জানা নেই।
সূত্র: আজকের পত্রিকা
জাতীয় দৈনিক মুক্ত কণ্ঠস্বর