নিজস্ব প্রতিবেদক মুক্ত কণ্ঠস্বর
পাবনার চাটমোহর উপজেলায় চলতি মৌসুমে আমন ধানের চাষাবাদ নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রাকে ছাড়িয়ে গেছে। উপজেলা কৃষি দপ্তরের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, বিগত বছরগুলোতে হান্ডিয়াল, নিমাইচড়া এবং ছাইকোলা ইউনিয়নের যে সমস্ত নিচু জমি প্রায় সারা বছর পানির নিচে তলিয়ে থাকত, চলতি বছর সেগুলোর একটি বিরাট অংশ সফলভাবে চাষাবাদের মূল সীমার আওতায় নিয়ে আসা সম্ভব হয়েছে। স্থানীয় কৃষি বিশেষজ্ঞরা এর মূল কারণ হিসেবে ব্যাখ্যা করেছেন যে, এবার নির্ধারিত সময়ের আগেই প্রাকৃতিকভাবে বন্যার পানি নেমে যাওয়ায় কৃষকরা পর্যাপ্ত সময় পেয়েছেন এবং নতুন করে আমন ধান রোপণ করতে সক্ষম হয়েছেন।
বর্তমান সময়ে উপজেলার বিভিন্ন এলাকার ফসলের মাঠগুলোতে সরেজমিন ঘুরে এক মনোরম গ্রামীণ দৃশ্য চোখে পড়ে। বিস্তীর্ণ মাঠজুড়ে মৃদু বাতাসে দোল খাওয়া সবুজ ধানের শিষে ইতিমধ্যেই সোনালি রঙের আভা ফুটতে শুরু করেছে, যা কৃষকের মুখে হাসির খোরাক জুগিয়েছে। চাষিদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, আর মাত্র কিছুদিন বাদেই, অর্থাৎ আসছে নভেম্বরের প্রথম সপ্তাহ থেকেই পুরোদমে ধান কাটার মহোৎসব শুরু হয়ে যাবে।
ফসল কাটার এই সময়টিকে সামনে রেখে গ্রামীণ জনপদে চলছে ঐতিহ্যবাহী নবান্ন উৎসবের আগাম প্রস্তুতি। কৃষকদের ঘরে ঘরে এখন ব্যস্ততার শেষ নেই; কেউ নিপুণহাতে তাদের পুরোনো কাস্তেতে নতুন করে শান দিয়ে ধারালো করে নিচ্ছেন, কেউ রোদ-বৃষ্টি থেকে বাঁচতে বাঁশের কঞ্চির তৈরি মাথাল প্রস্তুত করছেন, আবার অনেকেই আসন্ন ধান রাখার জন্য নিজেদের ধানের গোলাগুলো মেরামত করায় ব্যস্ত সময় পার করছেন। মাঠের সোনালি ফসল আর ঘরে তোলার প্রস্তুতি মিলিয়ে পুরো এলাকার কৃষকদের মধ্যে এক উৎসবমুখর ও আনন্দঘন পরিবেশ বিরাজ করছে।
উপজেলার নিচু এলাকা হিসেবে পরিচিত বিলচলন ইউনিয়নের অধীন কুমারগাড়া গ্রামের মাঠে চাষাবাদ করেছেন স্থানীয় কৃষক নজরুল ইসলাম। চলনবিল অধ্যুষিত খলিশাগাড়ী বিলের ভেতরে তিনি নিজ উদ্যোগে এবার মোট ১৫ বিঘা জমিতে উন্নত জাতের ব্রি ধান-৮৭ এবং ব্রি ধান-১০৩ চাষাবাদ করেছেন। নিজের ক্ষেতের বর্তমান অবস্থা পর্যবেক্ষণ করে তিনি অত্যন্ত আশাবাদী এবং প্রতিটি বিঘা জমি থেকে অন্তত ২০ মণ করে ধান ঘরে তুলতে পারবেন বলে জোরালো আশা প্রকাশ করেছেন। তবে তিনি এও যোগ করেছেন যে, বাম্পার ফলন পাওয়ার এই আনন্দের পাশাপাশি উৎপাদিত ধানের সঠিক ও ন্যায্য বাজারমূল্য নিশ্চিত হলেই কেবল তাঁরা সত্যিকারের অর্থনৈতিক লাভবান হতে পারবেন।
সূত্র: আজকের পত্রিকা
জাতীয় দৈনিক মুক্ত কণ্ঠস্বর