ঢাকা | বঙ্গাব্দ

ক্যারিয়ার সুগম করতে অনলাইন সার্টিফিকেটের গুরুত্ব তুলে ধরলেন জিপি সিএইচআরও

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Oct 25, 2026 ইং
ক্যারিয়ার সুগম করতে অনলাইন সার্টিফিকেটের গুরুত্ব তুলে ধরলেন জিপি সিএইচআরও ছবির ক্যাপশন:
ad728

নিজস্ব প্রতিবেদক মুক্ত কণ্ঠস্বর

শিক্ষাজীবন শেষ করে ডিগ্রি অর্জন করার পাশাপাশি প্রার্থীরা আর কী কী দক্ষতা অর্জন করেছেন, বর্তমানের নিয়োগদাতারা সেই প্রশ্নটিকে অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করে থাকেন। এহেন পরিস্থিতিতে বিভিন্ন ধরনের অনলাইন কোর্স সম্পন্ন করে সনদ অর্জন করা প্রার্থীর ক্যারিয়ারের পথকে কতটা সুগম ও সমৃদ্ধ করতে পারে, সে বিষয়ে বিস্তারিত আলোকপাত করেছেন গ্রামীণফোনের চিফ হিউম্যান রিসোর্সেস অফিসার তথা সিএইচআরও সৈয়দা তাহিয়া হোসেন।

আজকের প্রতিযোগিতাপূর্ণ করপোরেট দুনিয়ায় কেবল প্রচলিত প্রাতিষ্ঠানিক ডিগ্রির ওপর নির্ভর না করে সুনির্দিষ্ট কিছু ব্যবহারিক ও প্রযুক্তিগত দক্ষতা অর্জন করা অত্যন্ত জরুরি হয়ে পড়েছে। বর্তমান যুগে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, ডেটা অ্যানালিটিকস, ডিজিটাল মার্কেটিং কিংবা নানা ধরনের আধুনিক প্রযুক্তির দ্রুত বিকাশ ও উদ্ভাবনের ফলে প্রথাগত বা পুরনো একাডেমিক সিলেবাস অনেক সময় যুগের সাথে তাল মেলাতে কিছুটা পিছিয়ে পড়ে।

এই ধরনের পরিস্থিতিতে গুগল, কোর্সেরার মতো আন্তর্জাতিক প্ল্যাটফর্ম কিংবা বিভিন্ন স্বনামধন্য প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব একাডেমি থেকে অর্জিত অনলাইন সার্টিফিকেটগুলো একজন শিক্ষার্থীর বাস্তবমুখী বা প্র্যাকটিক্যাল স্কিল বৃদ্ধিতে সরাসরি ও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে। কোনো নির্দিষ্ট প্রযুক্তিগত বা ডিজিটাল কাজের ওপর বিশেষায়িত সার্টিফিকেট থাকলে নিয়োগকর্তারা বুঝতে পারেন যে ওই প্রার্থী সময়ের পরিবর্তন ও আধুনিক চাহিদার বিষয়ে পুরোপুরি সচেতন রয়েছেন।

চাকরির ইন্টারভিউ বোর্ডে বসার পর নিয়োগকারী প্রতিষ্ঠানগুলো প্রার্থীর অনলাইন সার্টিফিকেশন যাচাই করার সময় কেবল সনদটি কোন প্রতিষ্ঠান থেকে প্রদান করা হয়েছে, সেটিই কেবল দেখে না। এর পাশাপাশি তারা বিশেষভাবে মূল্যায়ন করে দেখেন যে সংশ্লিষ্ট প্রার্থী কাজের জায়গায় আদতেও কতটুকু কার্যকর ও ফলপ্রসূ প্রযুক্তিগত জ্ঞান অর্জন করতে সক্ষম হয়েছেন।

প্রার্থীর অর্জিত জ্ঞানের সত্যতা যাচাইয়ের বিষয়ে একটি স্পষ্ট উদাহরণ হিসেবে বলা যায় যে, আন্তর্জাতিক কোনো প্ল্যাটফর্ম থেকে অনলাইন ডিগ্রি নেওয়া হোক কিংবা স্থানীয় কোনো প্রতিষ্ঠান থেকে কোনো কোর্স করা হোক না কেন, সেটি বড় কথা নয়। মূল বিষয়টি হলো প্রার্থী যদি বাস্তবেই সেই নির্দিষ্ট টুলটির ব্যবহার হাতে-কলমে করতে পারেন এবং নিজের বুদ্ধিমত্তা দিয়ে বাস্তব সমস্যার সঠিক সমাধান করতে পারেন, তবেই কেবল ওই সার্টিফিকেটের প্রকৃত আর্থিক ও পেশাগত মূল্য তৈরি হয়।

উদাহরণস্বরূপ বলা যায়, আপনি যদি ভিডিও এডিটিংয়ের ওপর বড় কোনো কোর্স সম্পন্ন করে থাকেন, তবে শুধু সনদ থাকলেই চলবে না, আপনি আদতে এডিটিংয়ের কাজটা কতটা নিখুঁতভাবে জানেন তা প্রমাণ করতে হবে। এ ক্ষেত্রে আপনি যদি নিজের কাজের একটি আকর্ষণীয় পোর্টফোলিও ইন্টারভিউ বোর্ডে উপস্থাপন করতে পারেন, তবে তা নিয়োগকর্তার কাছে আরও অনেক বেশি ফলপ্রসূ ও কার্যকর বলে বিবেচিত হবে।

কোনো রকম প্রাতিষ্ঠানিক তাগিদ ছাড়াই সম্পূর্ণ নিজের উদ্যোগে ইন্টারনেট বা অনলাইন মাধ্যম থেকে নতুন কোনো বিষয় নিজে নিজে শিখে নেওয়া এবং তার ওপর সনদ অর্জন করা প্রার্থীর ভেতর লুকিয়ে থাকা স্বাচ্ছন্দ্যে শেখার এক গভীর তাগিদ ও জানার কৌতূহলকে জোরালোভাবে নির্দেশ করে।

মানবসম্পদ বিভাগ তথা এইচআর এবং বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের নিয়োগকর্তারা প্রার্থীর এই বিশেষ গুণটিকে অত্যন্ত ইতিবাচকভাবে মূল্যায়ন করে থাকেন। কারণ এর মাধ্যমে খুব সহজেই এটি স্পষ্ট হয়ে ওঠে যে প্রার্থী কেবল পড়াশোনা শেষ করেই ঘরে বসে অলস সময় কাটাচ্ছেন না, বরং তিনি নিজ যোগ্যতায় নিজের দক্ষতা ও সক্ষমতা বাড়াতে অত্যন্ত স্বতঃস্ফূর্তভাবে প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।

অনলাইন সার্টিফিকেশনের কার্যকারিতা কেবল দেশের ভৌগোলিক সীমানার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে না, বরং এটি প্রার্থীর কাজের পরিধিকে বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে দিতে সাহায্য করে। বিশেষ করে বিশ্বজুড়ে রিমোট জব বা ফ্রিল্যান্সিং ক্যারিয়ার গড়ার ক্ষেত্রে এ ধরনের ডিজিটাল সনদগুলো অত্যন্ত কার্যকর ও ফলপ্রসূ ভূমিকা পালন করে থাকে।

বর্তমান সময়ে নিজের ঘরে বসেই আন্তর্জাতিক বাজারের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের জন্য সেবা প্রদান করা এবং সেই কাজের বিপরীতে বৈদেশিক মুদ্রা বা অর্থ উপার্জন করা কোনো বিরল ঘটনা বা ব্যতিক্রমী উদাহরণ নয়।

আজকের দিনে বহু মানুষই তাদের বিভিন্ন অনলাইনভিত্তিক কাজ কিংবা পড়াশোনার নানা কোর্সে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তি ব্যবহার করছেন, যা একটি সাধারণ প্রবণতায় পরিণত হয়েছে। তবে কেবল একটি সার্টিফিকেট অর্জন করা কিংবা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক কোনো রেডিমেড উত্তরের ওপর সম্পূর্ণ অন্ধের মতো নির্ভর করে থাকা কোনো কাজের কথা নয়।

প্রযুক্তির ওপর অন্ধ নির্ভরতা না রেখে বরং সংশ্লিষ্ট বিষয়টির ভেতরের মেকানিজম, অভ্যন্তরীণ কার্যপ্রণালী বা মূল বিষয়বস্তু পরিষ্কারভাবে অনুধাবন করা উচিত। চাকুরির ইন্টারভিউ বোর্ডে বসার পর একজন অভিজ্ঞ ও দক্ষ নিয়োগকর্তা ঠিকই নিজ দক্ষতায় যাচাই করে নিতে পারেন যে প্রার্থীর নিজের উপস্থাপন করা আইডিয়া বা ধারণাটি আদতে কতখানি মৌলিক।

সূত্র: জাতীয় দৈনিক আমার সকাল টিম।


নিউজটি পোস্ট করেছেন : জাতীয় দৈনিক মুক্ত কণ্ঠস্বর

কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
৫ আগস্ট ঘিরে নাশকতার সক্ষমতা নেই আওয়ামী লীগের: স্বরাষ্ট্রমন্

৫ আগস্ট ঘিরে নাশকতার সক্ষমতা নেই আওয়ামী লীগের: স্বরাষ্ট্রমন্