ঢাকা | বঙ্গাব্দ

আন্তর্জাতিক জিন ব্যাংকে যুক্ত হলো সুন্দরবনের ডিএনএ

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Oct 22, 2026 ইং
আন্তর্জাতিক জিন ব্যাংকে যুক্ত হলো সুন্দরবনের ডিএনএ ছবির ক্যাপশন:
ad728

নিজস্ব প্রতিবেদক মুক্ত কণ্ঠস্বর

সাম্প্রতিক একটি গবেষণা প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে যে, মরফো-মলিকুলার নামক একটি আধুনিক ও সমন্বিত বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি প্রয়োগ করে জীবজগতের প্রজাতি অতি নিখুঁতভাবে শনাক্ত করা হয়েছে। মূলত মরফোলজিক্যাল অর্থাৎ বাহ্যিক গঠনগত এবং মলিকুলার অর্থাৎ ডিএনএ বা জিনগত—এই দুই ভিন্ন পদ্ধতিকে একত্র করে যেকোনো জীবের খুব নিখুঁত ট্যাক্সোনমিক শ্রেণিবিন্যাস করা সম্ভব হয়ে থাকে।

এই বিশেষ পদ্ধতিটি সফলভাবে ব্যবহার করে গবেষক দল সর্বমোট ৮৩টি মাছ এবং ২৮টি ক্রাস্টাশিয়ান নমুনা শনাক্ত করতে সক্ষম হয়েছেন। এর মাধ্যমে সর্বমোট ৩০ প্রজাতির মাছ এবং ১১ প্রজাতির ক্রাস্টাশিয়ানস তথা খোলসযুক্ত জলজ প্রাণীসহ মোট ৪১টি প্রজাতির বারকোড সিকোয়েন্স তৈরি করা হয়েছে।

বিশ্বের আন্তর্জাতিক জিন ব্যাংকের নির্ধারিত রেফারেন্সের সাথে এই সমস্ত নতুন সিকোয়েন্সের নিউক্লিওটাইড অর্থাৎ ডিএনএ এবং আরএনএ নামক নিউক্লিক অ্যাসিডের মৌলিক গাঠনিক একক বা মনোমারের মিল খুঁজে পাওয়া গেছে প্রায় ৯৮.১৯ শতাংশ থেকে একেবারে ১০০ শতাংশ পর্যন্ত।

এই অনন্য অর্জনের মাধ্যমে বাংলাদেশের সুন্দরবন অঞ্চলের জলজ প্রাণীর জিনোম ডেটাবেজ আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে অত্যন্ত আনুষ্ঠানিকভাবে অন্তর্ভুক্ত হতে চলেছে। সংশ্লিষ্ট গবেষকরা মনে করছেন যে, এই পদক্ষেপ ভবিষ্যতে নির্দিষ্ট প্রজাতির সুরক্ষা প্রদান, অবৈধ শিকার রোধ করা এবং সামগ্রিক বাস্তুতন্ত্র সংরক্ষণে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।

তবে গবেষণার ফলাফলে দেখা গেছে যে, অনিয়ন্ত্রিত ও অতিরিক্ত মৎস্য আহরণ, নির্বিচারে পোনা মাছ ধরা এবং জলে ক্ষতিকর বিষ প্রয়োগের ফলে ভেটকি, পোয়া ও পাঙাশের মতো বাণিজ্যিকভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বড় মাছের সংখ্যা বর্তমানে আশঙ্কাজনক হারে হ্রাস পাচ্ছে।

সুন্দরবনের এই অমূল্য জলজ ভাণ্ডার সঠিকভাবে টিকিয়ে রাখার জন্য উক্ত গবেষণা প্রতিবেদনে বেশ কিছু অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সুনির্দিষ্ট সুপারিশ তুলে ধরা হয়েছে।

উক্ত সুপারিশগুলোর মধ্যে প্রধানত রয়েছে নির্দিষ্ট কিছু প্রজাতি আহরণের ক্ষেত্রে কঠোর সীমা নির্ধারণ করা এবং বিদ্যমান নিষেধাজ্ঞাগুলো পুনর্বিবেচনা করা।

এ ছাড়া জলসীমায় বিষ প্রয়োগ ও সব ধরনের ক্ষতিকর জালের ব্যবহার পুরোপুরি নিষিদ্ধ করার পাশাপাশি মাছের প্রজনন নিশ্চিত করার ওপরও বিশেষ জোর দেওয়া হয়েছে।

প্রজনন প্রক্রিয়া নিশ্চিত করার উদ্দেশ্যে নতুন ও বাস্তুসংস্থানগতভাবে সম্পূর্ণ উপযুক্ত কিছু খাল যেমন খোদিয়াখালী, আঠারোবেকি, আরমাল ও কাগাবোগা খালকে ‘সংরক্ষিত খাল’ হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করার সুপারিশ করা হয়েছে।

পাশাপাশি সুন্দরবনের বন নির্ভরশীল সাধারণ জনগোষ্ঠীর জন্য যত দ্রুত সম্ভব বিকল্প জীবিকার স্থায়ী ব্যবস্থা করার কথাও বলা হয়েছে।

এই বিষয়ে সুন্দরবন সুরক্ষা প্রকল্পের পরিচালক এবং খুলনা অঞ্চলের বন সংরক্ষক ইমরান আহমেদ বাসসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে জানিয়েছেন যে, আন্তর্জাতিক অঙ্গনে অর্জিত এই নতুন সাফল্য সুন্দরবনের বৈশ্বিক গুরুত্বকে আরও বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে।

তিনি আরও জানান যে, এই গবেষণার সুনির্দিষ্ট সুপারিশ অনুযায়ী সুন্দরবনের অমূল্য জলজ সম্পদ রক্ষায় বর্তমানে স্বল্প ও দীর্ঘমেয়াদি বিভিন্ন কার্যকর পরিকল্পনা গ্রহণ করা হচ্ছে।

উল্লেখ্য যে, সুন্দরবনের বিভিন্ন মাছের প্রজাতি নিখুঁতভাবে শনাক্তকরণ এবং এর জিনগত বৈচিত্র্য যথাযথভাবে সংরক্ষণের জন্য গবেষক ও সংশ্লিষ্টরা দীর্ঘদিন ধরেই নিরলসভাবে কাজ করে চলেছেন।


নিউজটি পোস্ট করেছেন : জাতীয় দৈনিক মুক্ত কণ্ঠস্বর

কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
রিয়াল বেতিসের ঘরের মাঠ লা কারতুহা স্টেডিয়ামে ৫-২ ব্যবধানে জয়

রিয়াল বেতিসের ঘরের মাঠ লা কারতুহা স্টেডিয়ামে ৫-২ ব্যবধানে জয়