নিজস্ব প্রতিবেদক মুক্ত কণ্ঠস্বর
জাতীয় ক্রিকেট লিগের (এনসিএল) ২৮তম আসরের তৃতীয় পর্বে খেলতে নেমে দারুণ এক কীর্তি গড়েন রাজশাহী বিভাগের তরুণ ব্যাটার নাঈম আহম্মেদ। বরিশাল বিভাগের বিপক্ষে প্রথম ইনিংসে ঐতিহাসিক দ্বিশতক হাঁকানোর পর মাঠেই অসুস্থতা অনুভব করেন এই ২১ বছর বয়সী বাঁহাতি ক্রিকেটার। তবে চিকিৎসকদের পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর দলটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে তাঁর স্বাস্থ্য নিয়ে ভয়ের কোনো কারণ নেই। মঙ্গলবার রাজশাহী বিভাগীয় স্টেডিয়ামে ম্যাচটির তৃতীয় দিনে এই অপ্রত্যাশিত ঘটনা ঘটে।
ম্যাচ চলাকালীন প্রতিপক্ষ বরিশালের বিপক্ষে রাজশাহী দল প্রথম ইনিংসে সব মিলিয়ে ৪৫৭ রান সংগ্রহ করার পর অধিনায়ক প্রিতম কুমার ইনিংস ঘোষণা করেন। এই ইনিংসে নাঈমের অবদান ছিল অপরাজিত ২০২ রান, যা তিনি সংগ্রহ করেন ২৬৭ বল মোকাবিলা করে। দীর্ঘ ৪৬২ মিনিট উইকেটে স্থায়ী হয়ে তিনি এই ম্যারাথন ইনিংসটি খেলেন। এর মাধ্যমে রাজশাহী বিভাগীয় স্টেডিয়ামের ইতিহাসে জাতীয় লিগে কোনো খেলোয়াড়ের এটিই সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত রানের ইনিংস হিসেবে রেকর্ডভুক্ত হলো।
ব্যাটিংয়ে দুর্দান্ত সাফল্য পাওয়ার পরপরই ফিল্ডিংয়ে নামতে হয়েছিল নাঈমকে, কিন্তু তিনি মাত্র দুই-এক ওভারের বেশি মাঠে অবস্থান করতে পারেননি। অসুস্থতা বোধ করায় তাঁকে দ্রুত মাঠ থেকে উঠিয়ে ড্রেসিংরুমে নিয়ে যাওয়া হয় এবং ভেন্যুতেই চিকিৎসকদের তত্ত্বাবধানে তাঁর শারীরিক পরীক্ষা সম্পন্ন হয়। চিকিৎসকরা তাঁকে প্রয়োজনীয় বিশ্রামের পরামর্শ দেন এবং পরবর্তীতে দলের সঙ্গেই তিনি স্টেডিয়াম ছেড়ে টিম হোটেলে ফিরে যান।
সন্ধ্যায় সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে আলাপকালে রাজশাহী দলের টিম ম্যানেজার তৌহিদ তারেক নাঈমের অসুস্থতার পেছনের কারণ ব্যাখ্যা করেন। তিনি জানান যে টানা তিন দিন ধরে উইকেটে ব্যাটিং করার ধকলের কারণে ফিল্ডিংয়ে নেমে নাঈমের কিছুটা সমস্যা হচ্ছিল। তাঁর সামান্য জ্বর জ্বর ভাব এবং বমি ভাব দেখা দিয়েছিল। চিকিৎসকরা শরীরের তাপমাত্রা পরীক্ষা করার পর নিশ্চিত করেছেন যে পরিস্থিতি একেবারেই আশঙ্কাজনক নয় এবং পর্যাপ্ত বিশ্রাম নিলেই তিনি সম্পূর্ণ সুস্থ হয়ে উঠবেন।
এই ম্যাচটিতে নাঈমের ব্যাটিংয়ের সূচনা হয়েছিল রোববার, যেদিন খেলা শেষে তিনি ১৮ রানে অপরাজিত ছিলেন। এরপর সোমবার দ্বিতীয় দিনের খেলা শেষে তাঁর নামের পাশে যোগ হয় আরও রান এবং তিনি ১৭৬ রানে দিন শেষ করেন। মঙ্গলবারে তৃতীয় দিনে নিজের নার্ভাস নাইনটিজ ও সেঞ্চুরির গণ্ডি পেরিয়ে ক্যারিয়ারের প্রথম শতকটিকে সরাসরি দ্বিশতকে রূপান্তরিত করেন। প্রথম দিনে ২২ মিনিট, দ্বিতীয় দিনে ৩৮৮ মিনিট এবং শেষ দিনে ৫২ মিনিট সহ মোট তিন দিনে ৪৬২ মিনিট ক্রিজে কাটিয়েছেন এই ব্যাটার।
ক্রিকেট অঙ্গনে নাঈমের উঠে আসার পেছনের গল্পে রয়েছে বয়সভিত্তিক ক্রিকেটের দীর্ঘ অভিজ্ঞতা। তিনি চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার হয়ে অনূর্ধ্ব-১৪, অনূর্ধ্ব-১৬ ও অনূর্ধ্ব-১৮ দলের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। এরপর তিনি আরও পেশাদারিত্ব অর্জনের জন্য বাংলাদেশ ক্রীড়া শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে (বিকেএসপি) ভর্তি হন। গত বছর জাতীয় ক্রিকেট লিগে তাঁর অভিষেক হয়েছিল, আর নিজের ক্যারিয়ারের দ্বিতীয় আসরেই ডাবল সেঞ্চুরি করে এই তরুণ খেলোয়াড় নিজের অসাধারণ প্রতিভার ও সামর্থ্যের জোরালো প্রমাণ দিলেন।
জাতীয় দৈনিক মুক্ত কণ্ঠস্বর