নিজস্ব প্রতিবেদক মুক্ত কণ্ঠস্বর
দীর্ঘ পাঁচ বছর বিচ্ছিন্ন থাকার পর মিয়ানমারের কারাবন্দি নেত্রী অং সান সু চির সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলেছেন তাঁর ছোট ছেলে কিম অ্যারিস। সম্প্রতি লন্ডনে অং সান সু চিকে নিয়ে তৈরি হওয়া একটি প্রামাণ্যচিত্রের বিশেষ প্রদর্শনী অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে তিনি এই তথ্য গণমাধ্যমের সামনে তুলে ধরেন।
তবে এই সংক্ষিপ্ত ফোনালাপের বাইরেও মিয়ানমারের বর্তমান সামরিক সরকারের আচরণ নিয়ে তীব্র ক্ষোভ ও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন কিম। তিনি স্পষ্টভাবে দাবি জানিয়েছেন যে, তাঁর মায়ের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রক্ষার পথ উন্মুক্ত করে দিতে হবে জান্তা সরকারকে।
কিম অ্যারিস আরও জোর দিয়ে বলেন, অং সান সু চিকে যেন কোনোভাবেই আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক স্বীকৃতি অর্জন, অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা শিথিলকরণ কিংবা কোনো ধরনের রাজনৈতিক সুবিধা আদায়ের হাতিয়ার বা দরকষাকষির মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করা না হয়।
মায়ের পাশাপাশি মিয়ানমারের কারাগারে আটক থাকা অন্য সকল রাজনৈতিক বন্দির অবিলম্বে এবং কোনো ধরনের শর্ত ছাড়াই নিঃশর্ত মুক্তির জোরালো দাবি জানিয়েছেন কিম অ্যারিস।
চলտী সপ্তাহে লন্ডনের ওই প্রদর্শনী অনুষ্ঠানে কিম অভিযোগ করেন যে, মিয়ানমারের সামরিক নেতৃত্ব আজও সু চির বিপুল জনসমর্থন এবং তাঁর অটুট রাজনৈতিক প্রভাব নিয়ে দারুণভাবে শঙ্কিত ও উদ্বিগ্ন রয়েছে।
উল্লেখ্য, ২০২১ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে এক সামরিক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে অং সান সু চির নেতৃত্বাধীন বৈধ ও নির্বাচিত গণতান্ত্রিক সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করেছিল মিয়ানমারের সেনাবাহিনী।
ক্ষমতা দখলের পরপরই সু চিকে বন্দি করা হয়। পরবর্তীতে দুর্নীতি, জনমনে উসকানি প্রদান এবং নির্বাচনী জালিয়াতির মতো বিভিন্ন সাজানো অভিযোগে তাঁর দীর্ঘ কারাদণ্ড নিশ্চিত করা হয়।
সু চির বিশ্বজুড়ে থাকা সমর্থক এবং বিভিন্ন আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠন শুরু থেকেই এসব বিচারিক প্রক্রিয়াকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে তীব্র ভাষায় সমালোচনা করে আসছে।
জাতীয় দৈনিক মুক্ত কণ্ঠস্বর