বর্ষা মৌসুমে সাপের উপদ্রব বেড়ে যাওয়ায় নোয়াখালীর দ্বীপ উপজেলায় জনসাধারণকে সম্পূর্ণ বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে উপজেলা প্রশাসন। এরই অংশ হিসেবে হাতিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এন্টি স্নেক ভেনম (সাপের বিষের প্রতিষেধক) সরবরাহ করা হয়েছে। এর ফলে এখন থেকে সাপের কামড়ে আক্রান্ত রোগীরা সরকারি হাসপাতালেই সম্পূর্ণ বিনামূল্যে চিকিৎসা নিতে পারবেন।
বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) বিকেলে আনুষ্ঠানিকভাবে এ প্রতিষেধক উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে হস্তান্তর করা হয়। একই সঙ্গে রোগী পরিবহন ট্রলি, খাবার পরিবেশন ট্রলি, বর্জ্য পরিবহন ট্রলিসহ বিভিন্ন প্রয়োজনীয় সরঞ্জামও সরবরাহ করা হয়।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রাসেল ইকবাল, উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মানসী রানী সরকার এবং হাতিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ কবির হোসেন।
উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, বর্ষাকালে হাতিয়ার বিভিন্ন ইউনিয়নে সাপের উপদ্রব বেড়ে যায়। প্রতিবছরই সাপের কামড়ে আহত হওয়ার ঘটনা ঘটে। সময়মতো চিকিৎসা না পাওয়ায় অনেক ক্ষেত্রে রোগীদের উন্নত চিকিৎসার জন্য নোয়াখালী বা চট্টগ্রামে পাঠাতে হতো। এ পরিস্থিতি বিবেচনায় স্থানীয়ভাবে জরুরি চিকিৎসা নিশ্চিত করতে উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে অ্যান্টি স্নেক ভেনম সরবরাহ করা হয়েছে।
এর আগে চলতি বছরের জুলাই মাসে হাতিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রথমবারের মতো অ্যান্টি স্নেক ভেনম প্রয়োগ করে বিষধর সাপের কামড়ে আক্রান্ত এক শিশুর সফল চিকিৎসা করা হয়। শিশুটি সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরলে স্থানীয়দের মধ্যে সরকারি হাসপাতালে সাপের কামড়ের চিকিৎসা নিয়ে আস্থা আরও বৃদ্ধি পায়। সেই ধারাবাহিকতায় এবার পর্যাপ্ত অ্যান্টি স্নেক ভেনম মজুদের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
উপজেলা প্রশাসনের এ উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন হাতিয়া সম্মিলিত সামাজিক স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের প্রতিনিধিরা। তাদের মতে, বর্ষা মৌসুমে দ্বীপ উপজেলা হাতিয়ায় সাপের উপদ্রব বৃদ্ধি পাওয়ায় সরকারি হাসপাতালে অ্যান্টি স্নেক ভেনমের প্রাপ্যতা জনস্বাস্থ্যের জন্য একটি সময়োপযোগী পদক্ষেপ। এর ফলে প্রত্যন্ত এলাকার সাপের কামড়ে আক্রান্ত রোগীরা দ্রুত ও কার্যকর চিকিৎসাসেবা পাওয়ার সুযোগ পাবেন বলে আশা প্রকাশ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারাও।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মানসী রানী সরকার বলেন, সাপের কামড়ে আক্রান্ত রোগীকে যত দ্রুত সম্ভব হাসপাতালে নিয়ে এলে চিকিৎসকরা প্রয়োজন অনুযায়ী অ্যান্টি স্নেক ভেনম প্রয়োগ করবেন। এ সেবা সম্পূর্ণ বিনামূল্যে দেওয়া হবে। এ বিষয়ে চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের প্রয়োজনীয় প্রস্তুতিও রয়েছে।
তিনি জানান, সাপের কামড়ের পর আক্রান্ত ব্যক্তিকে শান্ত রাখা, ক্ষতস্থানে অপ্রয়োজনীয় কাটা, বাঁধা বা ঝাড়ফুঁক না করে দ্রুত নিকটস্থ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়াই জীবন রক্ষার সবচেয়ে কার্যকর উপায়। সময়মতো অ্যান্টি স্নেক ভেনম প্রয়োগ করলে বিষধর সাপের কামড়ে আক্রান্ত অধিকাংশ রোগীকেই সুস্থ করে তোলা সম্ভব।
ইউএনও রাসেল ইকবাল বলেন, ‘বর্ষাকালে হাতিয়ায় সাপের উপদ্রব বেড়ে যায়। মানুষের জীবন রক্ষায় উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে অ্যান্টি স্নেক ভেনম সরবরাহ করা হয়েছে। সাপের কামড়ে আক্রান্ত হলে কোনো ধরনের ঝাড়ফুঁক বা বিলম্ব না করে দ্রুত উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসার জন্য সবার প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি। এখানে রোগীরা সম্পূর্ণ বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা পাবেন।’
জাতীয় দৈনিক মুক্ত কণ্ঠস্বর