ঢাকা | বঙ্গাব্দ

সরকারি স্কুলে ভর্তি নীতিমালায় এক শাখায় সর্বোচ্চ ৫৫ শিক্ষার্থী

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Oct 19, 2026 ইং
সরকারি স্কুলে ভর্তি নীতিমালায় এক শাখায় সর্বোচ্চ ৫৫ শিক্ষার্থী ছবির ক্যাপশন:
ad728

নিজস্ব প্রতিবেদক মুক্ত কণ্ঠস্বর

পাবলিক সেকেন্ডারি স্কুলগুলোতে প্রথম শ্রেণি থেকে শুরু করে খালি সাপেক্ষে নবম শ্রেণি পর্যন্ত স্টুডেন্ট এনরোলমেন্ট করা যাবে। কোনো ইনস্টিটিউশনের নির্দিষ্ট কোনো সেকশনে পঞ্চান্ন জনের বেশি লার্নার এনরোল করানো যাবে না। আবার প্রথম শ্রেণিতে ভর্তির সময় শিশুর বয়স ছয় বছরের বেশি হওয়া বাধ্যতামূলক।

এই সমস্ত বিধান ঠিক রেখে সরকারি মাধ্যমিকে লার্নার এডমিশনের নতুন গাইডলাইন প্রকাশ করেছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। আগামী ২০২৭ শিক্ষাবর্ষে দেশের সব সেকেন্ডারি স্কুলে ভর্তির সময় এই নির্দেশনা মানতে হবে। গত মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর ২০২৬) শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অনলাইন পোর্টালে এই নীতিমালাটি অবমুক্ত করা হয়।

জাতীয় শিক্ষানীতি অনুযায়ী প্রথম শ্রেণিতে ভর্তির জন্য শিশুর বয়স ছয় প্লাস নিশ্চিত করতে হবে। তবে কাঙ্ক্ষিত শিক্ষাবর্ষের জানুয়ারি মাসের প্রথম দিনে শিশুর বয়স সর্বনিম্ন পাঁচ বছর এবং সর্বোচ্চ সাত বছর পর্যন্ত নির্ধারিত হবে। অন্যান্য সব ক্লাসের ক্ষেত্রেও এই নিয়মে বয়স গণনা করতে হবে। বয়স প্রমাণের জন্য আবেদনের সঙ্গে অনলাইন জন্মনিবন্ধনের সত্যাयিত কপি দিতে হবে। প্রতিবন্ধী ও বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের বয়স নির্ধারণে অতিরিক্ত পাঁচ বছরের সুবিধা বহাল থাকবে।

ষষ্ঠ শ্রেণিতে ভর্তির ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠানের ষষ্ঠ শ্রেণির মোট আসনের দশ শতাংশ কোটা আলাদা সরকারি প্রাইমারি স্কুলের পঞ্চম শ্রেণি পাস করা পুতুলের জন্য বরাদ্দ থাকবে।

নীতিমালা অনুযায়ী, অনলাইনে আবেদন ও লটারির দিনক্ষণ নির্ধারণ করবে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগ। ২০২৭ শিক্ষাবর্ষ হিসাব করা হবে জানুয়ারি থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত। প্রতিষ্ঠানের কোনো ক্লাসের কোনো সেকশনে পঞ্চান্ন জনের বেশি শিক্ষার্থী ভর্তি করা যাবে না।

প্রথম শ্রেণিতে ভর্তির কাজ ডিজিটাল লটারি কাঠামোর মাধ্যমে সম্পন্ন হবে। প্রথম শ্রেণির জন্য বাধ্যতামূলকভাবে ড্র-এর মাধ্যমে লার্নার চয়ন করতে হবে। প্রথম শ্রেণিতে ফরম পূরণের সময় একজন প্রার্থী সর্বোচ্চ পাঁচটি প্রতিষ্ঠানে চয়েজ দিতে পারবে। তবে ডাবল শিফটের স্কুলে উভয় শিফট চয়েজ দিলে দুটি ইনস্টিটিউশন পছন্দ সম্পন্ন হয়েছে বলে ধরা হবে। একই প্রতিষ্ঠানে একাধিক আবেদন করলে সব ফরম বাতিল হয়ে যাবে।

মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর সেন্ট্রালি ডিজিটাল লটারির মাধ্যমে প্রথম শ্রেণিতে ভর্তির সমস্ত কার্যক্রম শেষ করবে। এডমিশন কমিটির মেম্বারদের উপস্থিতিতে এই ড্র সম্পন্ন করতে হবে। লটারি কার্যক্রমে শতভাগ স্বচ্ছতা বজায় রাখতে হবে। ড্র-এর মাধ্যমে নির্বাচিতদের তালিকা তৈরির পাশাপাশি খালি সিটের সমানসংখ্যক ওয়েটিং লিস্টও প্রস্তুত রাখতে হবে। কমিটির নির্ধারিত দিনে সিলেক্টেড স্টুডেন্ট ভর্তি না হলে ওয়েটিং লিস্ট থেকে সিরিয়াল অনুযায়ী এডমিশনের ব্যবস্থা নিতে হবে।

নির্দেশনায় বলা হয়েছে, ডিজিটাল ড্র আয়োজনের পূর্বে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের নির্ধারিত কারিগরি প্রতিষ্ঠানের তৈরি সফটওয়্যারের সঠিকতা সরকার অনুমোদিত অন্য একটি কারিগরি প্রতিষ্ঠান দিয়ে যাচাই করাতে হবে এবং সেই সংক্রান্ত সার্টিফিকেট সংরক্ষণ করতে হবে।

দ্বিতীয় থেকে নবম শ্রেণির খালি সিটে রিটেল পরীক্ষার মাধ্যমে মেরিট লিস্ট অনুযায়ী স্টুডেন্ট বাছাইপ্রক্রিয়া শেষ করতে হবে। টেস্টের মাধ্যমে নির্বাচিতদের তালিকা তৈরির পাশাপাশি সমানসংখ্যক ওয়েটিং লিস্টও প্রস্তুত রাখতে হবে। ভর্তি কমিটি নির্ধারিত ডেটে সিলেক্টেড স্টুডেন্ট ভর্তি না হলে ওয়েটিং লিস্ট থেকে পর্যায়ক্রমে এডমিশনের ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।

দ্বিতীয় থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত ফুল মার্কস থাকবে পঞ্চাশ; যার ভেতর বাংলা পনেরো, ইংরেজি পনেরো এবং ম্যাথে কুড়ি নম্বর বরাদ্দ থাকবে। টেস্টের সময়কাল হবে এক ঘণ্টা।

ষষ্ঠ থেকে নবম শ্রেণি পর্যন্ত ফুল মার্কস থাকবে একশো; যার ভেতর বাংলা ত্রিশ, ইংরেজি ত্রিশ এবং ম্যাথে চল্লিশ নম্বর বরাদ্দ থাকবে। টেস্টের সময়কাল হবে দুই ঘণ্টা।

এডমিশন কমিটির সিদ্ধান্ত মোতাবেক প্রধান শিক্ষক নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানে খালি সিটের সংখ্যা উল্লেখপূর্বক বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করবেন। এছাড়া কমিটি পত্রিকা কিংবা ওয়েবসাইটে নোটিশ প্রকাশের মাধ্যমে ব্যাপক প্রচারের ব্যবস্থা নেবে।

দ্বিতীয় থেকে নবম শ্রেণি পর্যন্ত ভর্তির ক্ষেত্রে স্কুলের ভৌগোলিক অবস্থান ও লার্নারদের সুবিধা-অসুবিধা বিবেচনা করে কমিটি বিভিন্ন ক্লাস্টারে ভাগ করতে পারবে। একজন লার্নার প্রতি ক্লাস্টারের যেকোনো একটি প্রতিষ্ঠানে ফরম জমা দিতে পারবে।

অনলাইনে প্রথম শ্রেণির ফরমের জন্য সর্বোচ্চ একশো দশ টাকা এবং দ্বিতীয় থেকে নবম শ্রেণির ফরমের জন্য সর্বোচ্চ দুইশো পঞ্চাশ টাকা নেওয়া যাবে। সেশন চার্জসহ এডমিশন ফি মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী ঠিক করতে হবে।

নির্দিষ্ট সময়ে ফরম ফিলাপ শেষ হওয়ার পর কারিগরি প্রতিষ্ঠানের সাহায্যে ড্র ও ফলাফল প্রকাশের সমস্ত ডেটা ঢাকা মহানগরী এডমিশন কমিটির নিকট হস্তান্তর করতে হবে।

মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের তত্ত্বাবধানে ঢাকা মহানগরী কমিটির মেম্বারদের উপস্থিতিতে প্রথম শ্রেণির জন্য ড্র-এর কাজ সম্পন্ন হবে।

সংশ্লিষ্ট স্কুল ঢাকা মহানগরী কমিটির নিকট থেকে পাওয়া নির্বাচিতদের লিস্ট স্কুলের ওয়েবসাইটে পাবলিশ করবে এবং নোটিশ বোর্ডে ঝুলিয়ে দেবে। কোনো অবস্থাতেই মূল তালিকার বাইরে কোনো প্রার্থীকে এডমিশন দেওয়া যাবে না।

এডমিশন কমিটি যথাসময়ে দ্বিতীয় থেকে নবম শ্রেণির প্রশ্নপত্র তৈরির ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। প্রশ্নপত্র অবশ্যই মানসম্মত ও সিলেবাস উপযোগী হতে হবে এবং এনসিটিবির টেক্সটবুক থেকে তৈরি করতে হবে। প্রশ্নপত্র প্রণয়ন ও মডারেশনের ক্ষেত্রে গোপনীয়তা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে।

নির্বাচিত ও অপেক্ষমাণ তালিকা অধিদপ্তর ও স্কুলের ওয়েবসাইটে একসঙ্গে প্রকাশ করা হবে। উক্ত লিস্ট প্রধান শিক্ষকেরা প্রতিষ্ঠানে ঝুলিয়ে দেবেন এবং নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রধান শিক্ষক এডমিশন কার্যক্রম সম্পন্ন করবেন। কমিটির অনুমোদন ছাড়া প্রধান শিক্ষক বছরের অন্য সময়ে একক সিদ্ধান্তে কোনো স্টুডেন্ট এডমিশন করাতে পারবেন না। এর ব্যত্যয় ঘটলে তা শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে। কোড নম্বর থেকে রেজাল্ট তৈরি পর্যন্ত সব কাগজপত্র কমিটি এক বছর পর্যন্ত সংরক্ষণ করবে।

ষষ্ঠ শ্রেণিতে ভর্তির ক্ষেত্রে মোট আসনের দশ শতাংশ আসন স্বতন্ত্র সরকারি প্রাইমারি স্কুলের পঞ্চম শ্রেণি উত্তীর্ণদের জন্য সংরক্ষিত থাকবে।


নিউজটি পোস্ট করেছেন : জাতীয় দৈনিক মুক্ত কণ্ঠস্বর

কমেন্ট বক্স
যুক্তরাষ্ট্র ইরানের তেল ও খার্গ দ্বীপ নিয়ে নিতে পারে: ট্রাম্

যুক্তরাষ্ট্র ইরানের তেল ও খার্গ দ্বীপ নিয়ে নিতে পারে: ট্রাম্