ঢাকা | বঙ্গাব্দ

ঋণ অনুমোদন বা প্রত্যাখ্যান করছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Oct 30, 2026 ইং
ঋণ অনুমোদন বা প্রত্যাখ্যান করছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ছবির ক্যাপশন:
ad728

নিজস্ব প্রতিবেদক মুক্ত কণ্ঠস্বর

বিকালে ব্যাংক থেকে একটি খুদে বার্তা পান ছোট ব্যবসায়ী জহির। সেখানে লেখা ছিল তার ঋণ আবেদন নামঞ্জুর করা হয়েছে। কারণ জানতে ব্যাংকে গেলে কর্মকর্তা জানান যে সিস্টেম বা স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থা এমন সিদ্ধান্ত দিয়েছে। মূলত এটি এআই ক্রেডিট স্কোরিং বা ঋণযোগ্যতা যাচাইয়ের প্রযুক্তি, যা কোনো ব্যক্তির আয়, লেনদেন ও পরিশোধের ইতিহাস বিশ্লেষণ করে ঋণ পরিশোধের সম্ভাবনা কতখানি তা অনুমান করে।

এই প্রযুক্তির যেমন ইতিবাচক দিক রয়েছে, তেমনি কিছু চ্যালেঞ্জও রয়েছে। বিশেষ করে যাঁদের কোনো ব্যাংকিং ইতিহাস নেই, তাঁদের জন্য এটি বেশ সুবিধাজনক। বিশ্বব্যাংকের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, পৃথিবীতে প্রায় ১৪০ কোটি প্রাপ্তবয়স্ক মানুষ এখনো প্রথাগত ব্যাংকিং ব্যবস্থার বাইরে জীবনযাপন করছেন। মোবাইল লেনদেনের মতো বিকল্প তথ্যসমূহকে কাজে লাগালে এই বিশাল জনগোষ্ঠীও খুব সহজে ঋণের নাগাল পেতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।

তবে এই স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থার বড় ঝুঁকি হলো, মেশিন যদি অতীতে ঘটে যাওয়া কোনো বৈষম্যমূলক ডেটা থেকে শিক্ষা নেয়, তবে সেটি ভবিষ্যতেও একই ধরনের বৈষম্য পুনরায় তৈরি করতে পারে। এছাড়া ঋণ না পাওয়ার সুনির্দিষ্ট কারণ যদি ব্যাখ্যা করা না হয়, তবে গ্রাহকের পক্ষে তার বিরুদ্ধে কোনো ধরনের প্রতিবাদ করার সুযোগ থাকে না। এই বিষয়টিকে গুরুত্ব দিয়ে ইউরোপীয় ইউনিয়নের এআই আইনে ঋণ স্কোরিংয়ের মতো বিষয়গুলোকে উচ্চ ঝুঁকির কাজ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে এবং সেখানে স্বচ্ছতা ও মানুষের তদারকি নিশ্চিত করার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।

এই পরিস্থিতিতে ঋণ গ্রহীতাদের জন্য কিছু করণীয় ও অধিকারের কথা বলা হয়েছে। প্রথমত, ঋণ প্রত্যাখ্যানের সুনির্দিষ্ট কারণ লিখিতভাবে জানতে চাওয়ার অধিকার গ্রাহকের রয়েছে এবং প্রশ্ন করা তাঁর অন্যতম একটি অধিকার। দ্বিতীয়ত, নিজের আর্থিক বা ব্যক্তিগত তথ্যে কোনো ধরনের ভুল থাকলে তা দ্রুত সংশোধন করিয়ে নেওয়া উচিত। তৃতীয়ত, কোনো স্বয়ংক্রিয় সিদ্ধান্তের বিপরীতে কোনো মানব কর্মকর্তার বা হিউম্যান এজেন্টের মাধ্যমে বিষয়টি পুনর্বিবেচনা করার দাবি জানানো যেতে পারে।

একটি আদর্শ ও ভালো ব্যবস্থায় যন্ত্র কেবল সিদ্ধান্তের খসড়া বা ড্রাফট তৈরি করতে পারে, কিন্তু এর চূড়ান্ত দায়িত্ব মানুষকেই নিতে হবে এবং জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে হবে। সার্বিকভাবে আজকের এই প্রশ্নটি কখনোই মানুষ বনাম যন্ত্রের দ্বন্দ্ব নয়। বরং মূল প্রশ্নটি হলো, এই ধরনের গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তের কারণ ব্যাখ্যা করার দায় বা দায়িত্ব আসলে কার ওপর বর্তায়।

সূত্র: জাতীয় দৈনিক আমার সকাল টিম।


নিউজটি পোস্ট করেছেন : জাতীয় দৈনিক মুক্ত কণ্ঠস্বর

কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
মাদকবিরোধী সচেতনতামূলক ম্যারাথনে অংশ নিলেন ছয় শ দৌড়বিদ

মাদকবিরোধী সচেতনতামূলক ম্যারাথনে অংশ নিলেন ছয় শ দৌড়বিদ