নিজস্ব প্রতিবেদক মুক্ত কণ্ঠস্বর
ফিফা প্রধান জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর বিরুদ্ধে গোপন ও অতিরিক্ত বেতন গ্রহণ এবং যুক্তরাষ্ট্রের মায়ামিতে স্বল্পমূল্যে ভূসম্পত্তি অর্জনের যে অভিযোগ ব্রিটিশ দৈনিক দ্য টাইমস উত্থাপন করেছিল, সেই সংবাদে ভুল ছিল স্বীকার করে তারা ফিফা ও ইনফান্তিনোর কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে দুঃখ প্রকাশ করেছে এবং ক্ষমা প্রার্থনা করেছে। একই সঙ্গে মায়ামিতে কম মূল্যে ইনফান্তিনোর সম্পত্তি কেনার যে দাবি করা হয়েছিল, সেটিও তারা পুরোপুরি প্রত্যাহার করে নিয়েছে।
গত ১৩ অক্টোবর প্রকাশিত ওই প্রতিবেদনে দ্য টাইমস দাবি করেছিল যে, ২০২৬ সালের বিশ্বকাপ আয়োজক সত্তা এফডব্লিউসি-২০২৬ থেকে ২০২৪ সালে ১৭ লাখ ২০ হাজার মার্কিন ডলার বা প্রায় ২১ কোটি টাকা পারিশ্রমিক হিসেবে গ্রহণ করেছেন ইনফান্তিনো, যা ফিফার বার্ষিক আর্থিক প্রতিবেদনে গোপন রাখা হয়েছে। তবে নিজেদের সাম্প্রতিক সংশোধনীতে সংবাদমাধ্যমটি জানিয়েছে যে তাদের এই তথ্য সম্পূর্ণ সঠিক ছিল না এবং ইনফান্তিনো কোনোভাবেই কোনো ‘দ্বিতীয় বেতন’ নেননি।
সুইজারল্যান্ডের প্রচলিত আর্থিক হিসাব ও প্রবিধানের নিয়ম অনুযায়ী, জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর দাপ্তরিক কাজ পরিচালনার জন্য বিভিন্ন খরচ এবং সেই খরচ বাবদ ফেরত পাওয়া অর্থকে কোনোভাবেই তাঁর পারিশ্রমিক বা বেতন হিসেবে গণ্য করা চলে না। এই কারণে ওই অর্থ ফিফার বার্ষিক আর্থিক প্রতিবেদনে বেতন বা পারিশ্রমিক হিসেবে আলাদাভাবে প্রদর্শন করার কোনো আইনি বা দাপ্তরিক বাধ্যবাধকতাও ছিল না।
মায়ামিতে সম্পত্তি কেনার যে অভিযোগ এর আগে আনা হয়েছিল, সেটি থেকেও শেষ পর্যন্ত সরে এসেছে দ্য টাইমস। তাদের প্রাথমিক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছিল যে ফিফা সভাপতি অত্যন্ত সন্দেহজনকভাবে কম মূল্যে একটি সম্পত্তি কিনেছেন, কিন্তু নিজেদের ভুল বুঝতে পেরে সংশোধনীতে সংবাদমাধ্যমটি স্বীকার করেছে যে সেই তথ্যটিও সম্পূর্ণ ভুল ছিল।
এছাড়াও, শাদি এলএলসি নামক একটি নির্দিষ্ট প্রতিষ্ঠানের আইনগত কিংবা প্রকৃত সুবিধাভোগী মালিক হিসেবে ইনফান্তিনো কিংবা তাঁর পরিবারের কোনো সদস্যের নাম নেই এবং ওই প্রতিষ্ঠানের ওপর তাঁদের কোনো ধরনের নিয়ন্ত্রণ বা এখতিয়ারও বিদ্যমান নেই বলে পরিষ্কার করা হয়েছে।
নিজেরা ভুল স্বীকার করে ক্ষমা চাওয়ার পর দ্য টাইমসের এই সংশোধনীকে স্বাগত জানালেও, পুরো বিষয়টিতে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করে কঠোর প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছে বিশ্ব ফুটবলের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফা। সংস্থার পক্ষ থেকে দেওয়া এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে বলা হয়েছে যে, ফিফা ও এর সভাপতিকে হেয়প্রতিপন্ন ও দুর্বল করে তোলার জন্য স্বার্থান্বেষী কিছু মহলের পক্ষ থেকে একটি সমন্বিত ও দীর্ঘমেয়াদি অপচেষ্টা সবসময়ই অব্যাহত রয়েছে।
ফিফা তাদের বক্তব্যে আরও উল্লেখ করেছে যে, যেকোনো সংবাদমাধ্যমেরই অত্যন্ত দায়িত্বশীল ও পেশাদার আচরণ করা উচিত এবং কোনো ধরনের তথ্য জনসমক্ষে প্রকাশ কিংবা তা অন্য কোথাও প্রচার করার আগে সংশ্লিষ্ট সব সূত্র অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে যাচাই-বাছাই করা অপরিহার্য, যাতে ভবিষ্যতে কোনোভাবেই মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও মানহানিকর তথ্য সমাজে ছড়িয়ে পড়তে না পারে।
জাতীয় দৈনিক মুক্ত কণ্ঠস্বর