ঢাকা | বঙ্গাব্দ

কংগ্রেসের উভয় কক্ষের নিয়ন্ত্রণ হারিয়েছে ট্রাম্পের দল

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Nov 6, 2026 ইং
কংগ্রেসের উভয় কক্ষের নিয়ন্ত্রণ হারিয়েছে ট্রাম্পের দল ছবির ক্যাপশন:
ad728

নিজস্ব প্রতিবেদক মুক্ত কণ্ঠস্বর

যুক্তরাষ্ট্রে বিগত ৩ নভেম্বর মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত মধ্যবর্তী নির্বাচনে নিজেদের বিজয় আগেই সুনিশ্চিত করেছে প্রধান বিরোধী দল ডেমোক্রেটিক পার্টি। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ক্ষমতাসীন দল রিপাবলিকান পার্টির হাত থেকে কংগ্রেসের উচ্চকক্ষ সিনেট ও নিম্নকক্ষ প্রতিনিধি পরিষদ—উভয় কক্ষের নিয়ন্ত্রণই চলে গেছে। ভোটগ্রহণের পর প্রকাশিত সর্বশেষ ফলাফল অনুযায়ী, বিরোধীরা তাদের এই জয়ের ব্যবধান আরও বেশি বাড়িয়ে চলেছে।

কংগ্রেসের দুই কক্ষের নিয়ন্ত্রণই রিপাবলিকানদের হাতছাড়া হওয়ার প্রেক্ষাপটে ডেমোক্র্যাটরা তাদের অবস্থান আরও বেশি পাকাপোক্ত করছে। এর ফলে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের মেয়াদের বাকি দুই বছর আইন প্রণয়ন এবং সামগ্রিক নীতিনির্ধারণের প্রক্রিয়ায় বড় ধরনের বাধার মুখে পড়তে পারে তাঁর প্রশাসন। একই সঙ্গে, বর্তমান প্রশাসনের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের ওপর কঠোর নজরদারি চালানো এবং প্রয়োজনীয় তদন্ত পরিচালনার সুযোগও অনেকখানি বৃদ্ধি পাবে ডেমোক্র্যাটদের জন্য।

প্রতিনিধি পরিষদের মোট ৪৩৫টি আসনের মধ্যে ডেমোক্রেটিক পার্টি ইতিমধ্যে ২৫৩টিতে এবং রিপাবলিকান পার্টি ১৫৭টিতে জয়লাভ করেছে। তবে এই মুহূর্তেও বাকি ২৫টি আসনের চূড়ান্ত ফলাফল আসা এখনো বাকি রয়েছে। এখনো চূড়ান্ত না হওয়া এসব প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ আসনের মধ্যে ৮টিতে ডেমোক্র্যাটরা এবং ১৭টিতে রিপাবলিকান প্রার্থীরা এগিয়ে রয়েছেন। এই পরিষদে সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনের জন্য অন্তত ২১৮টি আসনের প্রয়োজন হয়, যার ফলে এই কক্ষের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ এখন ডেমোক্র্যাটদের হাতে নিশ্চিত হয়েছে।

নিয়মিত নিয়ম অনুযায়ী প্রতি দুই বছর পরপর প্রতিনিধি পরিষদের সব কটি আসনেই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়ে থাকে। সেই সাংবিধানিক ধারা অনুযায়ীই এবারের মধ্যবর্তী নির্বাচনে ৪৩৫টি আসনেই একযোগে ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে।

অন্যদিকে, ১০০ সদস্যবিশিষ্ট মার্কিন সিনেটেও নিজেদের সংখ্যাগরিষ্ঠতা পুরোপুরি নিশ্চিত করেছে ডেমোক্র্যাটরা। কংগ্রেসের এই উচ্চকক্ষটিতে ডেমোক্রেটিক পার্টির বর্তমান আসনসংখ্যা ৫৪টি। বিপরীতে, ক্ষমতাসীন দল রিপাবলিকানদের দখলে রয়েছে মোটে ৪৪টি আসন। এই উচ্চকক্ষের বাকি মাত্র দুটি আসনের চূড়ান্ত ফলাফল ঘোষণা এখনো বাকি আছে।

তা সত্ত্বেও, দুই আসনেই ডেমোক্র্যাট প্রার্থীরা এগিয়ে রয়েছেন। সিনেটে সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনের জন্য যে ৫৪ বা ৫১টি আসনের দরকার হয়, তা তারা আগেই অর্জন করেছেন। সিনেট সদস্যরা সাধারণত দীর্ঘ ছয় বছরের মেয়াদের জন্য নির্বাচিত হয়ে থাকেন এবং প্রতি দুই বছর পরপর সিনেটের সব আসনে একসঙ্গে নির্বাচন হয় না, বরং প্রায় এক-তৃতীয়াংশ আসনে ভোট হয়।

উল্লেখ্য যে, সিনেটের এই বর্তমান হিসাবের মধ্যে এমন কিছু আসনও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে, যেগুলো এ বছরের মধ্যবর্তী নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতার বাইরে ছিল। ডেমোক্র্যাটদের সুরক্ষিত থাকা ৩৪টি এবং রিপাবলিকানদের দখলে থাকা ৩১টি আসনে এবার কোনো নির্বাচন হয়নি। তবে এবারের নির্বাচনে লড়াইয়ের জন্য নির্ধারিত মোট ৩৫টি আসনের মধ্যে ডেমোক্র্যাটরা ২০টিতে এবং রিপাবলিকানরা ১৩টিতে জয় পেয়েছেন, আর দুটি আসনের ফলাফল তখনো ঘোষণা করা বাকি ছিল।

কংগ্রেসের দুই কক্ষের নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলাটা ট্রাম্প প্রশাসনের জন্য একটি অত্যন্ত বড় রাজনৈতিক ধাক্কা হিসেবে দেখা দিয়েছে। এখন থেকে নতুন কংগ্রেসের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ কমিটির নেতৃত্ব পুরোপুরি ডেমোক্র্যাটদের হাতে চলে যাওয়ায় প্রশাসনের কর্মকাণ্ডের ওপর নজরদারি বহুগুণ বেড়ে যাবে। এর ফলে বিভিন্ন বিষয়ে নতুন করে তদন্ত শুরু করা, ট্রাম্প প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের জবাবদিহির মুখোমুখি দাঁড় করানো এবং প্রয়োজনীয় সরকারি নথিপত্র তলব করার আইনি সুযোগ তারা পাবেন।

পাশাপাশি, নতুন কোনো আইন পাস করার ক্ষেত্রে এবং সরকারের নীতিগুলো যথাযথভাবে বাস্তবায়নের প্রক্রিয়ায় ট্রাম্প প্রশাসনকে এখন ডেমোক্র্যাটদের সঙ্গে নানা বিষয়ে সমঝোতা করে এগোতে হবে। এর ফলে মার্কিন প্রেসিডেন্টের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতিগুলো বাস্তবায়ন করা এবং তাঁর প্রশাসনের বিভিন্ন ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা এগিয়ে নেওয়া যথেষ্ট কঠিন হয়ে দাঁড়াতে পারে।

তবে এ কথা সত্য যে, কংগ্রেসের উভয় কক্ষেই সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করলেও ডেমোক্র্যাটরা চাইলেই প্রেসিডেন্টের সব সিদ্ধান্ত এককভাবে আটকে দিতে পারবেন না। কোনো বিশেষ বিলে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প চাইলে তাঁর ভেটো ক্ষমতা প্রয়োগ করতে পারেন। সেই ভেটো ক্ষমতাকে অকার্যকর বা বাতিল করতে হলে কংগ্রেসের উভয় কক্ষেই দুই-তৃতীয়াংশ সদস্যের জোরালো সমর্থন প্রয়োজন হয়।

সবশেষে বিশেষভাবে উল্লেখ্য যে, দেশের নবনির্বাচিত এই নতুন কংগ্রেসের আনুষ্ঠানিক অধিবেশন শুরু হবে আগামী ২০২৭ সালের ৩ জানুয়ারি। তার আগপর্যন্ত প্রতিনিধি পরিষদ এবং সিনেটের নিয়ন্ত্রণ বর্তমানের মতো রিপাবলিকান পার্টির হাতেই ন্যস্ত থাকবে।

সূত্র: জাতীয় দৈনিক আমার সকাল টিম।


নিউজটি পোস্ট করেছেন : জাতীয় দৈনিক মুক্ত কণ্ঠস্বর

কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
আজ বঙ্গভবনে যাবেন রাষ্ট্রপতি, দেওয়া হবে গার্ড অব অনার

আজ বঙ্গভবনে যাবেন রাষ্ট্রপতি, দেওয়া হবে গার্ড অব অনার