ঢাকা | বঙ্গাব্দ

কোনো কোচিং ছাড়াই যেভাবে বিচারক হলেন নূর

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Oct 25, 2026 ইং
কোনো কোচিং ছাড়াই যেভাবে বিচারক হলেন নূর ছবির ক্যাপশন:
ad728

নিজস্ব প্রতিবেদক মুক্ত কণ্ঠস্বর

আইন পেশা ও বিচারক হওয়ার স্বপ্ন পূরণে মূল সংবিধানের পাশাপাশি আব্দুল হালিম এবং ‘সহজ ভাবনায় সংবিধান’ গ্রন্থটি নিয়মিত অধ্যয়ন করতেন নূর। এর বাইরেও আইন সংক্রান্ত গভীর জ্ঞান অর্জনের জন্য জসীম আলী চৌধুরী ও মাহমুদুল ইসলামের বিখ্যাত বইগুলো প্রয়োজন সাপেক্ষে নিবিড়ভাবে মূল্যায়ন করতেন তিনি।

পারিবারিক বা মুসলিম আইন চর্চার ক্ষেত্রে ফয়েজ উদ্দিন ও ডি এফ মুল্লার গ্রন্থ, হিন্দু আইনের জন্য আজিজুল হক এবং উত্তরাধিকার আইনের জটিল বিষয়গুলো বুঝতে ইকরাম স্যারের বইয়ের ওপর নির্ভর করতেন। জটিল কোনো অনুচ্ছেদ বুঝতে সমস্যা হলে তাৎক্ষণিকভাবে আইনপাঠের বিভিন্ন উপকরণের সহায়তা নিতেন এই শিক্ষার্থী।

প্রিলিমিনারি পরীক্ষার পূর্ব প্রস্তুতি হিসেবে তিনি লাইভ এমসিকিউ (Live MCQ) প্ল্যাটফর্মে নিয়মিত অংশ নিতেন। পাশাপাশি সিভিল জজ রাগীব মোস্তফা নাইম এবং সাদিকুর রহমান রোমানের সার্বিক পরিচালনায় আয়োজিত বিভিন্ন পরীক্ষামূলক কার্যক্রমেও তার নিয়মিত অংশগ্রহণ ছিল।

এই সমস্ত প্রাক-পরীক্ষামূলক মূল্যায়নে অর্জিত সন্তোষজনক নম্বর ও ভালো ফলাফল তার আত্মবিশ্বাস বহুগুণ বাড়িয়ে দিতে সাহায্য করেছিল। কোনো ধরনের প্রাতিষ্ঠানিক কোচিং সেন্টারে ক্লাস করার অভিজ্ঞতা তার ছিল না, বরং তিনি শুধু নির্দিষ্ট পরীক্ষাগুলোতে অংশ নিয়েই নিজের প্রস্তুতি যাচাই করতেন।

সাধারণ জ্ঞান অংশের প্রস্তুতিতে তিনি মূলত বাংলা ভাষা ও সাহিত্য, ইংরেজি সাহিত্য এবং বিজ্ঞান বিষয়ের ওপর বাড়তি গুরুত্ব প্রদান করেছিলেন। আয়েশা সিদ্দিকা ইমার বই এবং রিটেন মাস্টার অধ্যয়ন করে পরীক্ষার প্রশ্নপত্র প্রণয়নের ধরণ সম্পর্কে তিনি স্পষ্ট ধারণা লাভ করেন।

প্রশ্নগুলো সাধারণত কোন কোন ক্ষেত্র বা টপিক থেকে আসে, সে বিষয়ে পরিষ্কার ধারণা পাওয়ার পর তিনি সেই নির্দিষ্ট পদ্ধতিতেই নিজের পড়াশোনার গতিপথ নির্ধারণ ও পরিচালনা করেন। আলাদা কোনো নোট খাতা প্রস্তুত করার অভ্যাস তার কখনোই ছিল না, যা তাকে মূল বইয়ের ওপর নির্ভরশীল করে তোলে।

এর পরিবর্তে তিনি মূল বেয়ার অ্যাক্টের প্রতিটি ধারার পাশে অত্যন্ত সংক্ষেপে প্রয়োজনীয় পয়েন্ট বা কি-ওয়ার্ড লিখে রাখতেন। কোনো প্রাসঙ্গিক বা যুগান্তকারী মামলার নজির পেলেও তিনি তা সংশ্লিষ্ট আইনের ধারার পাশেই টুকে রাখতেন।

প্রিলিমিনারি পরীক্ষার সময় মূলত ওই নির্দিষ্ট স্তরের বইগুলোই তিনি পড়েছিলেন, তবে কেবল আইনপাঠ নামক সহায়ক বইটি বাদ রেখেছিলেন। প্রিলির সময় আইনগুলো অগভীর বা হালকাভাবে অধ্যয়ন করলেও লিখিত পরীক্ষার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ধারাগুলো তিনি অত্যন্ত ভালোভাবে আয়ত্ত করেছিলেন।

দৈনন্দিন পড়াশোনার রুটিন অনুযায়ী তিনি দিনের পুরো সময়টা আইন বিষয়ের বিভিন্ন ধারা ও তার প্রয়োগ নিয়ে পড়াশোনা করতেন। আর তুলনামূলকভাবে রাতের শান্ত সময়ে তিনি সাধারণ জ্ঞান ও অন্যান্য আনুষঙ্গিক বিষয়গুলো পড়ার জন্য নির্ধারণ করেছিলেন।

সূত্র: আজকের পত্রিকা


নিউজটি পোস্ট করেছেন : জাতীয় দৈনিক মুক্ত কণ্ঠস্বর

কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
ওয়ানডে ক্রিকেটে বাংলাদেশের চরম ব্যাটিং বিপর্যয় ও শঙ্কা

ওয়ানডে ক্রিকেটে বাংলাদেশের চরম ব্যাটিং বিপর্যয় ও শঙ্কা