ঢাকা | বঙ্গাব্দ

ঢাবির ক ইউনিটসের সেরাতম অনিক এখন যেখানে আছেন

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Oct 25, 2026 ইং
ঢাবির ক ইউনিটসের সেরাতম অনিক এখন যেখানে আছেন ছবির ক্যাপশন:
ad728

নিজস্ব প্রতিবেদক মুক্ত কণ্ঠস্বর

বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি পরীক্ষায় শীর্ষস্থান অর্জন করার পর শিক্ষার্থীদের জীবন একধরনের তারকাখ্যাতি লাভ করে। কোন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে পড়াশোনা শেষ করেছেন, কোন পদ্ধতিতে প্রস্তুতি নিয়েছেন কিংবা কীভাবে বেড়ে উঠেছেন—এমন নানা কৌতূহলী প্রশ্নের মুখোমুখি হতে হয় তাঁদের। তবে শিক্ষাজীবন সমাপ্ত হওয়ার পর তাঁরা ঠিক কোন পেশা বা গন্তব্যে পৌঁছাচ্ছেন, সেই খবর খুব কম মানুষই রাখেন। এই প্রেক্ষাপটে এমন কয়েকজন কৃতি শিক্ষার্থীর বর্তমান অবস্থান সম্পর্কে খোঁজখবর নেওয়া হয়েছে।

২০১৭ শিক্ষাবর্ষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞান অনুষদভুক্ত ক ইউনিটের ভর্তিযুদ্ধে সেরার স্থানটি অর্জন করেছিলেন অনিক বিশ্বাস। এই সাফল্যের পর তিনি ঢাবির জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড বায়োটেকনোলজি বিভাগে স্নাতক শ্রেণীতে ভর্তি হন। মেধাতালিকায় প্রথম হওয়ার সুবাদে সে সময় চারদিকে তাঁর পরিচিতি ও খ্যাতি উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পায়। তবে উচ্চশিক্ষার সিঁধেল পথ বেয়ে এগিয়ে যাওয়ার সময় তিনি উপলব্ধি করতে পেরেছেন যে বিশ্ববিদ্যালয়ের শুরুর ওই সাফল্যই জীবনের চূড়ান্ত কোনো বিষয় নয়।

বর্তমানে স্নাতকোত্তর পর্বের পড়াশোনা শেষ করে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব উইসকনসিন-ম্যাডিসনে সেলুলার অ্যান্ড মলিকিউলার বায়োলজি বিষয়ে ডক্টরেট বা পিএইচডি করছেন অনিক। অ্যাকাডেমিক পড়াশোনার পাশাপাশি তিনি সেখানে গবেষণা সহকারী হিসেবেও নিয়মিত দায়িত্ব পালন করছেন। এর আগে তিনি দেশের স্বনামধন্য ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ে কিছুদিন খণ্ডকালীন শিক্ষকতার সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন।

ফল প্রকাশের সেই দিনটির কথা স্মরণ করে অনিক জানান যে ওই সংবাদটি তাঁর কাছে কোনো মুক্তি বা বড় ধরনের পরিত্রাণের মতো স্বস্তিদায়ক ছিল। ওই ফলাফল প্রকাশের মধ্য দিয়ে যেন তাঁর দীর্ঘকালীন অমানবিক পরিশ্রমের একটি অবসান ঘটেছিল। বিশেষ স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে তিনি উল্লেখ করেন যে ফলাফল প্রকাশের আগের ও পরের পরিবেশের মধ্যে আকাশ-পাতাল তফাত তিনি লক্ষ্য করেছিলেন।

পরীক্ষার দিন দুপুরে কেবল নিজের বাবার সঙ্গে গ্রিন রোডের একটি সাধারণ দোকানে বসে হালকা নাস্তা খেয়েছিলেন তিনি। অথচ একই দিন সন্ধ্যার দিকে তাঁকে শুভেচ্ছা জানাতে বাড়িতে মানুষের ঢল নামে। সেই স্মরণীয় দিনটির কথা এখনো তাঁর চোখের সামনে ভেসে ওঠে।

ফলাফল প্রকাশের পরপরই তাঁর পরিচিতি খুব দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। পুরোনো সহপাঠী, এলাকার প্রতিবেশী এমনকি দীর্ঘদিন ধরে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন থাকা অনেক মানুষও তাঁর খোঁজখবর নিতে শুরু করেন। শুরুর দিকে এই বিষয়টি বেশ ভালো লাগলেও পরবর্তীতে অপরিচিত লোকজনের আনাগোনা ও যোগাযোগ অস্বাভাবিকভাবে বাড়তে থাকায় তিনি নিজেকে একটু গুটিয়ে নেন।

সেই সময়ের স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে তিনি একটি মজার অভিজ্ঞতার কথা উল্লেখ করেন। ফার্মগেট এলাকায় পৌঁছানোর পর তাঁকে ঘিরে রীতিমতো ঢাকঢোল পেটানোর জাঁকজমকপূর্ণ এক আয়োজন করা হয়েছিল। বাদক দল পুরোপুরি প্রস্তুত না হওয়া পর্যন্ত তাঁকে গাড়ি থেকে নামতে দেওয়া হয়নি।

তবে অন্যান্য সবকিছুর চেয়ে নিজ পরিবারের সদস্যদের আনন্দই তাঁর মনে সবচেয়ে বেশি দাগ কেটেছিল। বিশেষ করে তাঁর মায়ের তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া তাঁকে গভীরভাবে প্রভাবিত করেছিল। অনিকের ভাষায় বর্ণনা অনুযায়ী, সবার প্রতিক্রিয়ার মধ্যেই একধরনের দারুণ বিস্ময় লুকিয়ে ছিল।

সে দিন বাসায় ফিরে নিজের মাকে তিনি অত্যন্ত আনন্দিত অবস্থায় দেখতে পেয়েছিলেন। নিজ সন্তানের এমন ফলাফল দেখে তাঁর মায়ের খুশি হওয়ার ঘটনাটি বেশ বিরল হলেও, ভর্তি পরীক্ষার সেই দিনটিতে তিনি সত্যিকার অর্থেই খুব আনন্দিত হয়েছিলেন।

ভর্তি পরীক্ষায় শীর্ষস্থান অর্জনের বিষয়টি পরবর্তী উচ্চশিক্ষা কিংবা কর্মজীবনে খুব বড় কোনো প্রভাব ফেলে বলে মনে করেন না অনিক। তাঁর নিজস্ব মূল্যায়ন অনুযায়ী, বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের স্নাতক ও স্নাতকোত্তর পরীক্ষার ফলাফল এবং পরবর্তীতে নিজ হাতে করা কাজই সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব বহন করে।

তবে ওই বিশেষ অর্জনটি তাঁকে পরবর্তীতেও পড়ালেখা চালিয়ে যাওয়ার মতো যথেষ্ট সাহস জুগিয়েছিল। যদিও জীবনের পরবর্তী ধাপে পা রেখে তাঁকে কিছু কঠিন ধাক্কাও সহ্য করতে হয়েছে, যার মধ্যে পিএইচডি শুরু করার প্রারম্ভিক সময়টি অন্যতম।

এই সমস্ত বাস্তব অভিজ্ঞতা থেকে তিনি একটি বড় শিক্ষা অর্জন করেছেন যে সম্পূর্ণ নতুন কোনো পরিবেশের সঙ্গে নিজেকে মানিয়ে নিতে হলে অনেক সময় আবার একেবারে শূন্য থেকে শুরু করতে হয়। অনিকের মতে, যা তিনি উপলব্ধি করেছেন তা হলো মানুষের কাছে পৃথিবীর অধিকাংশ সিস্টেমই অজানা থাকে।

নতুন কোনো স্থানে গিয়ে নিজেকে খাপ খাইয়ে নিতে হলে যে পুনরায় শূন্য থেকে সবকিছু শুরু করতে হয়, এই বাস্তব সত্যকে মেনেই সামনে এগিয়ে যেতে হয়। পাশাপাশি এই দীর্ঘ ও কঠিন পথপরিক্রমায় অবশ্যই ভাগ্যের সহযোগিতার প্রয়োজন পড়ে।

ভর্তি পরীক্ষায় প্রথম হওয়ার সমগ্র অভিজ্ঞতাটিকে তিনি জীবনের সাধারণ একটি পর্যায় বা ধাপ হিসেবেই মূল্যায়ন করতে পছন্দ করেন। তাঁর দৃষ্টিতে মাধ্যমিক পর্যায়ের প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার সমাপ্তি ঘটিয়ে উচ্চশিক্ষায় প্রবেশের ক্ষেত্রে ভর্তি পরীক্ষা একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হতে পারে, কিন্তু এর মাধ্যমেই মূলত নতুন পরিচয়ে নিজেকে সমাজে প্রতিষ্ঠার দীর্ঘ যাত্রা শুরু হয়।

এই নতুন যাত্রাপথে নিয়মিত ও ধারাবাহিকভাবে পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়া, কঠোর পরিশ্রম করা এবং যেকোনো প্রতিকূল পরিস্থিতি সাহসিকতার সঙ্গে মোকাবিলা করাটাই বেশি জরুরি। তাই সাধারণ পরীক্ষার্থীদের কেবল প্রথম স্থান অধিকার করার লক্ষ্য সামনে রেখে পড়াশোনা করতে কঠোরভাবে নিষেধ করেছেন তিনি।

অনিকের পরামর্শ হলো, শিক্ষার্থীরা যেন অবশ্যই নিজেদের সাধ্যমতো সর্বোচ্চ প্রস্তুতি গ্রহণ করেন। তবে কখনোই প্রথম স্থান অর্জনের মানসিক চাপ বা টার্গেট মাথায় রাখা উচিত নয়। কারণ এই ধরনের লক্ষ্য স্থির করলে তা শেষ পর্যন্ত অতিরিক্ত প্রত্যাশার কারণে গভীর হতাশার কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে।

এর পরিবর্তে ভর্তি পরীক্ষাকে জীবনের সাধারণ একটি ধাপ হিসেবে বিবেচনা করার পরামর্শ দিয়ে তিনি বলেন যে শরীরের সুস্বাস্থ্য ঠিক রেখেই অত্যন্ত সাহসিকতার সঙ্গে এই ধাপটি সফলভাবে পার করতে হবে।

শুধু নির্দিষ্ট ক্লাসের পাঠ্যবইয়ের গণ্ডির মধ্যে নিজেদের সীমাবদ্ধ না রেখে বিভিন্ন ধরনের শিক্ষার্থী সংগঠন ও বহুমুখী সামাজিক আয়োজনের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার তাগিদ দিয়েছেন তিনি। এর মাধ্যমে নতুন অভিজ্ঞতা অর্জন করা এবং পড়াশোনার পাশাপাশি জীবনের অন্যান্য বিষয়ের মধ্যে সঠিক ভারসাম্য খুঁজে পাওয়া সম্ভব বলে তিনি মনে করেন।

বর্তমানে সুদূর যুক্তরাষ্ট্রে গবেষণাকাজে অত্যন্ত ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃতি এই গবেষক। আগামী দিনে বায়োমেডিক্যাল সংক্রান্ত গবেষণার ক্ষেত্রে, বিশেষ করে মানবদেহের বিভিন্ন জটিল রোগের প্রকৃত কারণ অনুসন্ধান এবং তার কার্যকর প্রতিকার নির্ণয়ের বিষয়ে তাঁর গভীর আগ্রহ রয়েছে।

সূত্র: জাতীয় দৈনিক আমার সকাল টিম।


নিউজটি পোস্ট করেছেন : জাতীয় দৈনিক মুক্ত কণ্ঠস্বর

কমেন্ট বক্স
ঠাকুরগাঁওয়ে পৃথক ঘটনায় কীটনাশক পান ও ডোবায় ডুবে তিনজনের প্র

ঠাকুরগাঁওয়ে পৃথক ঘটনায় কীটনাশক পান ও ডোবায় ডুবে তিনজনের প্র