ঢাকা | বঙ্গাব্দ

উত্তরায় আন্তর্জাতিক কারি উৎসবের বাকি মাত্র তিন দিন

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Oct 22, 2026 ইং
উত্তরায় আন্তর্জাতিক কারি উৎসবের বাকি মাত্র তিন দিন ছবির ক্যাপশন:
ad728

নিজস্ব প্রতিবেদক মুক্ত কণ্ঠস্বর

বাংলাদেশ, ভারত, পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কা এবং দক্ষিণ-পূর্ব এশীয় অঞ্চলের মুখরোচক ও নান্দনিক সব কারির অনন্য স্বাদ একক ছাদের নিচে উপভোগ করার চমৎকার সুযোগ করে দিয়েছে উত্তরার স্বনামধন্য হায়াত প্লেস। হোটেলটির জনপ্রিয় জিং রেস্তোরাঁয় গত ১৫ অক্টোবর থেকে বর্ণাঢ্য আয়োজনে শুরু হওয়া এই আন্তর্জাতিক কারি উৎসবটি আগামী ২৪ অক্টোবর পর্দা নামতে চলেছে, ফলে ভোজনরসিকদের হাতে নতুন এই স্বাদ গ্রহণের জন্য বাকি রয়েছে মাত্র আর তিনটি দিন।

খাদ্যরসিকদের কাছে কারি কেবল নির্দিষ্ট কোনো ঝাল কিংবা মসলাযুক্ত রান্নাই নয়, বরং এর সঙ্গে নিবিড়ভাবে জড়িয়ে রয়েছে বিভিন্ন ভূখণ্ডের সুদীর্ঘ ইতিহাস, ঐতিহ্যবাহী সংস্কৃতি এবং নিজস্ব খাদ্যাভ্যাসের নানা গল্প। সেই সংস্কৃতির বহুমুখী রূপ ও স্বাদকে এক বিন্দুতে নিয়ে এসেছে হোটেলটির এই বিশেষ আয়োজন, যেখানে বিভিন্ন দেশের রন্ধনশৈলীর ভিন্নতা চমৎকারভাবে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে।

ভারতীয় উপমহাদেশ থেকে শুরু করে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া পর্যন্ত বিস্তৃত অঞ্চলের কারি তৈরিতে ব্যবহার করা হচ্ছে ভিন্ন ভিন্ন উপকরণ ও রান্নার কৌশল, যার ফলে প্রতিটির স্বাদ সম্পূর্ণ আলাদা। কোথাও পেঁয়াজ ও টমেটোর মিশ্রণে তৈরি ঘন মসলার আধিক্য রয়েছে, কোথাও আবার নারকেলের দুধের কোমল ছোঁয়া পাওয়া যায়, কিংবা কোথাও ভাজা মসলার সুবাসের সঙ্গে মরিচ ও টক স্বাদের দারুণ মেলবন্ধন লক্ষ করা যায়।

খাবারের এই তালিকায় ভারতের জনপ্রিয় বালতি চিকেন, চিকেন ভিন্দালু এবং পনির বাটার মাসালার পাশাপাশি স্থান পেয়েছে পাকিস্তানের সুস্বাদু বিফ পেশোয়ারি, বাংলাদেশের ঐতিহ্যবাহী বাঁশ দিয়ে হাঁস, শ্রীলঙ্কার বিখ্যাত ব্ল্যাক চিকেন কারি এবং বার্মিজ ফিশ কারি। এ ছাড়া মালয়েশিয়ার চিকেন রেনড্যাং ও পেনাং চিকেন কারির মতো দক্ষিণ-পূর্ব এশীয় সুস্বাদু পদ এবং সিঙ্গাপুরের চিলি ক্র্যাব কারি এই আয়োজনে সামুদ্রিক খাবারের এক অপূর্ব স্বাদ যুক্ত করেছে।

ঐতিহাসিকভাবে কারির এই বৈচিত্র্যের পেছনে রয়েছে আঞ্চলিক রান্নার সমৃদ্ধ ঐতিহ্য এবং ঔপনিবেশিক আমলের বাণিজ্যিক যোগাযোগের নানা অধ্যায়। ইউরোপীয় বণিক ও ঔপনিবেশিক যোগাযোগের পথ ধরেই ‘কারি’ শব্দটি বিশ্বজুড়ে আন্তর্জাতিক পরিচিতি লাভ করে, যদিও একই নামের আড়ালে বিভিন্ন অঞ্চলের রান্নার নিজস্ব স্বকীয়তা ও স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্য আজও অপরিবর্তিত রয়েছে।

এই আয়োজনে স্যুপপ্রেমীদের জন্য রাখা হয়েছিল বিশেষ পাকিস্তানি স্টাইলের চিকেন স্যুপ, যা রোস্টের সুস্বাদু স্বাদের সঙ্গে জায়ফল, জয়ত্রী ও কালো এলাচের চমৎকার সুগন্ধে এক অনন্য বৈশিষ্ট্য লাভ করেছে। এর পাশাপাশি সবজিপ্রেমীদের জন্য পরিবেশন করা হয়েছিল মুখরোচক ভেজিটেবল কারি স্যুপ।

প্রধান খাবারের আগে স্টার্টিারের টেবিলে সাজানো ছিল কাশ্মীরি চিকেন কাবাব, ভেজিটেবল কারি কিশ, কারি মেয়োযুক্ত চিকেন সিক্সটি ফাইভ, চিকেন মাদ্রাজ রোলস এবং মুঘলাই চিকেন শিক কাবাব। পরিচিত সব খাবারের সঙ্গে মসলার নতুন ও সৃজনশীল ব্যবহার এবং নান্দনিক পরিবেশনা পুরো আয়োজনে এক অন্য মাত্রা যোগ করেছে।

কারির আসল তৃপ্তি পেতে তার সঙ্গে উপযুক্ত খাবারের পরিবেশন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে, যা এই উৎসবেও গুরুত্ব সহকারে মানা হয়েছে। সুগন্ধি বাসমতি চালের ভাতের পাশাপাশি উৎসবে ঐতিহ্যবাহী বসনিয়া রোটি ও দেশীয় কালাই রোটি রাখা হয়েছিল, যা বিভিন্ন পদের সঙ্গে বেশ মানিয়ে গেছে।

বিশেষ করে বিফ পেশোয়ারি, পেনাং চিকেন কারি কিংবা পনির বাটার মাসালার সঙ্গে সুগন্ধি বাসমতি ভাত দারুণ জমে ওঠে। অন্যদিকে, বাংলাদেশের বাঁশ দিয়ে হাঁসের মাংসের সঙ্গে বসনিয়া রুটির সুচিন্তিত সমন্বয় ছিল অত্যন্ত আকর্ষণীয়, কারণ রুটির হালকা মিষ্টি ভাব হাঁসের মাংসের মসলাদার কারির ঝালের সঙ্গে একটি চমৎকার ভারসাম্য তৈরি করে।

এ ছাড়াও আয়োজনে ছিল মিক্সড কারি ভেজিটেবল, ভেজিটেবল কারি লাকসা, তেঁতুলযুক্ত বার্মিজ ফিশ কারি, শ্রীলঙ্কান ব্ল্যাক চিকেন কারি এবং মালয়েশিয়ান চিকেন রেনড্যাং। এসব পদের প্রতিটিতে কোথাও নারকেলের স্নিগ্ধতা, কোথাও মৃদু টক ভাব, আবার কোথাও গভীর ভাজা মসলার ঘ্রাণ ভোজনরসিকদের মুগ্ধ করছে।

একসঙ্গে অনেকগুলো পদ গোগ্রাসে না খেয়ে কয়েকটি পছন্দের খাবার বেছে নিয়ে ভাত বা রুটির সঙ্গে ধীরে ধীরে উপভোগ করলে প্রতিটি পদের স্বাদের গভীর সূক্ষ্মতা আরও ভালোভাবে টের পাওয়া সম্ভব।

এই বর্ণিল আয়োজনের শেষ ধাপে ডেজার্ট বা মিষ্টান্ন পর্বে রাখা হয়েছিল দেশি ও আন্তর্জাতিক ধাঁচের নানা সুস্বাদু পদ। মতিচুরের লাড্ডু, ঐতিহ্যবাহী গোলাপজামুন, ফিরনি, ঘন ক্ষীর ও রসগোল্লার পাশাপাশি কেক, পেস্ট্রি, মুস ও ব্লুবেরি ইয়োগার্টের সমাহার থাকায় অতিথিরা নিজেদের পছন্দমতো মিষ্টিমুখ করার দারুণ সুযোগ পেয়েছেন।

রাজধানীর উত্তরা এলাকার হায়াত প্লেস হোটেলের জিং রেস্তোরাঁয় প্রতিদিন সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টা থেকে রাত সাড়ে দশটা পর্যন্ত এই উৎসব চলছে, যার শেষ দিন নির্ধারিত হয়েছে আগামী ২৪ অক্টোবর ২০২৬। জনপ্রতি এই আয়োজনের নেট মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ছয় হাজার চারশ নিরানব্বই টাকা এবং নির্দিষ্ট কিছু শর্ত সাপেক্ষে একটি কিনলে দুটি বা তিনটি বিনা মূল্যে পাওয়ার বিশেষ অফারও রয়েছে। এ ছাড়া বিকেল সাড়ে পাঁচটা থেকে সন্ধ্যা সাড়ে সাতটা পর্যন্ত অতিথিদের জন্য সম্পূর্ণ বিনা মূল্যে সুইমিং পুল ব্যবহার করার বিশেষ সুবিধাও রাখা হয়েছে।

সামগ্রিকভাবে কারিপ্রেমী ও খাদ্যপাগল মানুষের জন্য এই উৎসবটি বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ঐতিহ্যবাহী রান্নার স্বাদ একসঙ্গে আবিষ্কার করার এক সুবর্ণ সুযোগ। এখানে বিশাল পদের সংখ্যার চেয়ে নির্দিষ্ট কিছু নির্বাচিত কারির বৈচিত্র্য এবং ভাত-রুটির সঙ্গে সেগুলোর মেলবন্ধন উপভোগের অভিজ্ঞতাকে সর্বাধিক গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে, যা আগামী ২৪ অক্টোবরের মধ্যেই শেষ হতে যাচ্ছে।


নিউজটি পোস্ট করেছেন : জাতীয় দৈনিক মুক্ত কণ্ঠস্বর

কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
টাঙ্গাইলের মগড়ায় নারীদের পরিচালনায় চলছে ব্যতিক্রমী দুর্গাপূজ

টাঙ্গাইলের মগড়ায় নারীদের পরিচালনায় চলছে ব্যতিক্রমী দুর্গাপূজ