নিজস্ব প্রতিবেদক মুক্ত কণ্ঠস্বর
পরিচালক সৈয়দ শাকিল খুব শিগগিরই তার ক্যারিয়ারের প্রথম চলচ্চিত্র নির্মাণ করতে যাচ্ছেন। এই সিনেমায় প্রধান চরিত্রে অভিনয় করার জন্য চুক্তিবদ্ধ হয়েছেন জনপ্রিয় চিত্রনায়ক শরিফুল রাজ। ছবিটির শুটিং এবং মুক্তি সংক্রান্ত নানা পরিকল্পনা ইতোমধ্যে চূড়ান্ত করেছেন নির্মাতা।
সিনেমার মূল গল্প ও পটভূমি নিয়ে এই মুহূর্তে বিস্তারিত জানাতে নারাজ পরিচালক সৈয়দ শাকিল। তবে তিনি স্পষ্ট করে জানিয়েছেন যে, বড় পর্দার জন্য তিনি এমন একটি ড্রামা উপহার দিতে চান যা সমাজের সব শ্রেণির মানুষ তথা পরিবারের সবাইকে নিয়ে একসঙ্গে উপভোগ করা সম্ভব হবে।
পরিচালক স্মরণ করেন যে, অতীতে দেশের প্রেক্ষাগৃহে পরিবারের সকল সদস্য মিলে একত্রে চলচ্চিত্র উপভোগ করার দীর্ঘ রেওয়াজ ছিল। সেই ধারাকে স্মরণ করে তিনি মূলত একটি আবেগঘন পারিবারিক ছবি নির্মাণ করতে চান, যা দেখার পর সাধারণ দর্শকদের মনের ভেতর গভীর অনুভূতির সৃষ্টি করবে এবং তাদের আবেগপ্রবণ করে তুলবে।
অনেক দীর্ঘ সময় ধরে চলচ্চিত্র নির্মাণের প্রস্তুতি নিয়ে আসছেন বলে জানিয়েছেন নির্মাতা সৈয়দ শাকিল। তবে এই দীর্ঘ যাত্রায় দেশের প্রেক্ষাগৃহগুলোর সংখ্যা ক্রমশ হ্রাস পাওয়ায় তিনি কিছুটা দ্বিধায় ছিলেন। বর্তমানে পরিস্থিতি পরিবর্তন হয়ে সিনেমাগুলো মূলত সিনেপ্লেক্সমুখী হয়ে উঠেছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
সাম্প্রতিক সময়ে দেশের সিনেপ্লেক্সগুলোতে বাংলা চলচ্চিত্রের দর্শক উপস্থিতি লক্ষণীয়ভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। এই ইতিবাচক পরিবর্তনটি তাকে নতুন চলচ্চিত্র নির্মাণে বড় ধরনের সাহস ও অনুপ্রেরণা জুগিয়েছে বলে তিনি জানান।
দেশের সীমানা ছাড়িয়ে বর্তমানে আন্তর্জাতিক বাজারেও বাংলাদেশি চলচ্চিত্রের একটি স্থায়ী দর্শকগোষ্ঠী বা বাজার তৈরি হচ্ছে। তার নির্মিতব্য এই প্রথম চলচ্চিত্রটিও দেশের বাইরে বিভিন্ন দেশের প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি দেওয়ার ব্যাপারে ইতোমধ্যে আলোচনা চলছে বলে জানান তিনি।
শুধু বিদেশি প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি দেওয়াই নয়, বরং সিনেমাটিকে বিশ্বের বিভিন্ন মর্যাদাপূর্ণ চলচ্চিত্র উৎসবে প্রদর্শনের জন্য পাঠানোর সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনাও রয়েছে। পাশাপাশি ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মগুলোতে ছবিটির প্রদর্শনী নিশ্চিত করার জন্য ইতোমধ্যে কথাবার্তা শুরু হয়েছে বলে নির্মাতা নিশ্চিত করেছেন।
সব মিলিয়ে চলচ্চিত্রটি দেশের গণ্ডি পেরিয়ে বিশ্বের প্রতিটি প্রান্তে দর্শকের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়ার জন্য সমস্ত রকম প্রস্তুতি ও পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। পরিশেষে তিনি জানান যে, তার এই চলচ্চিত্রটিকে তিনি মূলত সাংস্কৃতিক পর্যটন বা কালচারাল ট্যুরিজমের একটি অংশ হিসেবে দর্শকের সামনে উপস্থাপন করতে চান।
সূত্র: আজকের পত্রিকা
জাতীয় দৈনিক মুক্ত কণ্ঠস্বর