নিজস্ব প্রতিবেদক মুক্ত কণ্ঠস্বর
বিরতির আগে স্কোরলাইনে পিছিয়ে পড়ার পর ইন্টার মায়ামি খেলায় ফেরার মরিয়া প্রচেষ্টা চালায় লিওনেল মেসি মাঠে নামার পর। ম্যাচের ছাপ্পান্ন মিনিটে বদলি খেলোয়াড় হিসেবে সবুজ ঘাস মাড়ান চলতি মেজর লিগ সকারে পঁচিশটি গোল করা তারকা এই ফরোয়ার্ড।
তাঁর নিখুঁত পাস থেকে প্রতিপক্ষের রক্ষণভাগ ভেদ করে গোল করার মতো দারুণ এক সুযোগও সৃষ্টি হয়েছিল। কিন্তু তেলাসকো সেগোভিয়ার নেওয়া জোরালো শট গোলপোস্টের ক্রসবারে প্রতিহত হয়ে ফিরে আসায় শেষ পর্যন্ত সমতায় পৌঁছানো সম্ভব হয়নি মায়ামির পক্ষে।
অর্জেন্টাইন জাদুকরের পায়ে বল পৌঁছানোর সঙ্গে সঙ্গেই মায়ামির আক্রমণভাগে এক নতুন প্রাণের সঞ্চার ঘটেছিল। তা সত্ত্বেও সোনালী সুযোগগুলো হাতছাড়া করার চড়া মূল্য চোকাতে হয় ম্যাচের শেষ মুহূর্তের দিকে এসে।
ক্যামেরন হার্পারের নিখুঁত পাস থেকে বল পেয়ে লক্ষ্যভেদ করে নিউ ইয়র্ক সিটির জয় পুরোপুরি নিশ্চিত করেন এমিল ফর্সবার্গ। এর ফলে দুই শূন্য গোলের ব্যবধানে হতাশার হার নিয়ে মাঠ ছাড়তে বাধ্য হয় ডেভিড বেকহ্যামের ক্লাবটি।
খেলার শেষ বাঁশি বাজার পর নিজেদের পারফরম্যান্সের ঘাটতি ও ভুলের কথা অকপটে স্বীকার করে নেন মায়ামির প্রধান কোচ গঞ্জালেস।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন যে, ম্যাচের প্রথমার্ধে মাঝমাঠের দখল হারিয়ে তাঁরা অতিরিক্ত বল হাতছাড়া করেছেন এবং নিজেদের রক্ষণভাগের দিকে মুখ করে বেশ কিছু অপ্রয়োজনীয় পাস খেলেছেন। সেই সঙ্গে নিচ থেকে আক্রমণ শাণিত করতে গিয়ে তাঁদের নানা ধরনের জটিলতার মুখে পড়তে হয়েছে বলে তিনি জানান এবং এর পুরো দায় নিজের কাঁধে তুলে নেন।
ম্যাচের দ্বিতীয় ভাগে দলের খেলায় সামান্য উন্নতি লক্ষ্য করা গেলেও সামগ্রিক পারফরম্যান্সে কোচ গঞ্জালেস মোটেও সন্তুষ্ট হতে পারেননি।
তিনি আরও যোগ করেন যে, বিরতির সময়ে তিনি ড্রেসিংরুমে খেলোয়াড়দের শক্তভাবে বলেছিলেন যে তাঁদের যেকোনো মূল্যে ঘুরে দাঁড়াতে হবে। দ্বিতীয়ার্ধে অবস্থার কিছুটা উন্নতি ঘটলেও তিনি বা তাঁর দলের কোনো খেলোয়াড়ই এই ফলাফলে সন্তুষ্ট নন বলে জানান।
কোচের মতে, এই পরাজয়টি তাঁদের দলের জন্য অত্যন্ত বড় একটি শিক্ষা হিসেবে কাজ করবে। এটি দলের সবাইকে স্পষ্টভাবে মনে করিয়ে দেয় যে কোনো অবস্থাতেই আত্মতুষ্টিতে ভোগার সামান্যতম সুযোগ নেই এবং কোনোভাবেই শিথিল হওয়া চলবে না।
এই অপ্রত্যাশিত হারের ফলে ইন্টার মায়ামির টানা তিন ম্যাচ জয়ের বর্ণিল ধারার পাশাপাশি ছেদ পড়েছে লিওনেল মেসির টানা তেরো ম্যাচে গোল করা কিংবা সতীর্থদের দিয়ে গোল করানোর চমৎকার কৃতিত্বের।
ক্লাব এবং জাতীয় দলের জার্সি গায়ে জড়িয়ে নিজের সর্বশেষ তেরোটি অফিসিয়াল ম্যাচের প্রতিটিতেই অন্তত একটি করে গোল করা অথবা অ্যাসিস্ট করার অনন্য রেকর্ড গড়েছিলেন এই বিশ্বজয়ী ফুটবলার।
পরাজয়ের এই তিক্ত স্বাদ পাওয়ার পরেও আমেরিকান লিগের পয়েন্ট তালিকায় স্বস্তির দ্বিতীয় স্থানটি ধরে রেখেছে ইন্টার মায়ামি। তবে দিনের শুরুতে আগেই সাপোর্টার্স শিল্ড নিশ্চিত করতে সক্ষম হওয়া ন্যাশভিলের পয়েন্ট তালিকার চেয়ে তারা এখনও পনেরো পয়েন্টের ব্যবধানে পিছিয়ে রয়েছে।
এই হারের হতাশা কাটিয়ে উঠতে খুব দ্রুতই মাঠে নামতে হচ্ছে তাদের। আগামী বুধবার নিজেদের ঘরের মাঠেই এফসি সিনসিনাটির বিপক্ষে পরবর্তী গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে মুখোমুখি হবে মায়ামি।
সূত্র: আজকের পত্রিকা
জাতীয় দৈনিক মুক্ত কণ্ঠস্বর