ঢাকা | বঙ্গাব্দ

ভিনিসিয়ুসের ফর্মহীনতা নিয়ে রিয়াল মাদ্রিদে বাড়ছে নতুন গুঞ্জন

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Oct 20, 2026 ইং
ভিনিসিয়ুসের ফর্মহীনতা নিয়ে রিয়াল মাদ্রিদে বাড়ছে নতুন গুঞ্জন ছবির ক্যাপশন:
ad728

নিজস্ব প্রতিবেদক মুক্ত কণ্ঠস্বর

বিশ্বজুড়ে নানা ধরনের রহস্যজনক ও অবাস্তব ধারণার প্রচলন বহু পুরনো। জন এফ কেনেডি হত্যাকাণ্ড থেকে শুরু করে ভিনগ্রহের প্রাণীর উপস্থিতি কিংবা ইলুমিনাতির মতো অসংখ্য বিষয় নিয়ে এ ধরনের তাত্ত্বিক আলোচনার শেষ নেই। গত জুলাই মাসজুড়ে ফুটবল বিশ্বকাপ শেষ হওয়ার পর দক্ষিণ আমেরিকার সর্ববৃহৎ দেশটিতেও এমন এক অদ্ভুত গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়েছিল যে, মাঠে খেলা চালিয়ে যাওয়া ফুটবলারটি আসলেই সেই আসল ভিনিসিয়ুস কি না, নাকি তার ছদ্মবেশে অন্য কেউ খেলছেন।

শুরুতে এই ধরনের হাস্যকর প্রচার সেভাবে পাত্তা পায়নি। তবে চলমান ফুটবল মৌসুমে এই ফরোয়ার্ডের মাঠের পারফরম্যান্স দেখে অনেকের মনেই সেই পুরোনো সন্দেহ আবারও মাথাচাড়া দিয়ে উঠছে। পরিসংখ্যান বলছে, সান্তিয়াগো বার্নাব্যুর ক্লাবটিতে বিগত আটটি বছর ধরে ভক্তরা যে তারকার খেলা দেখে অভ্যস্ত ছিলেন, বর্তমান সময়ের পারফর্মারের সঙ্গে তাঁর কোনো মিলই খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না।

আসন্ন ২০২৬-২৭ সেশনে এখন পর্যন্ত স্প্যানিশ জায়ান্টদের জার্সিতে মাত্র দশটি ম্যাচে মাঠে নেমে তিনি জালের দেখা পেয়েছেন কেবল একবার। এর ভেতর স্পেনের শীর্ষ লিগেই হয়েছে আটটি ম্যাচ, যেখানে তাঁর নামের পাশে রয়েছে মোটে একটি গোল আর তিনটি অ্যাসিস্ট। ইউরোপিয়ান সেরা ক্লাব প্রতিযোগিতার মঞ্চে দুটি ম্যাচ খেলে তিনি কোনো গোল কিংবা গোল বানিয়ে দেওয়ার কৃতিত্ব অর্জন করতে পারেননি। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমগুলোর হিসাব অনুযায়ী, ২০১৮ সালে ঐতিহ্যবাহী এই ক্লাবে পা রাখার পর থেকে যেকোনো ফুটবল মৌসুমের শুরুর দিক বিবেচনায় এটিই তাঁর সবচেয়ে বাজে রেকর্ড।

সাধারণত আক্রমণভাগে খেলা খেলোয়াড়দের পারফরম্যান্স পরিমাপের প্রধান দৃশ্যমান মাধ্যম হলো গোল করা এবং সতীর্থদের দিয়ে গোল করানো। এই সাফল্যের মাত্রা নির্ভর করে মূলত সংশ্লিষ্ট খেলোয়াড়ের খেলার নিজস্ব গতির ওপর। যেমন—উইংয়ের পজিশনে খেলা এই ব্রাজিলিয়ানের খেলার সবচেয়ে বড় শক্তি হলো প্রতিপক্ষকে ড্রিবল করে কাটিয়ে যাওয়া। সেই কাজটি সফলভাবে করতে পারলেই কেবল বোঝা সম্ভব যে তিনি নিজের চেনা ছন্দে আছেন কি না, যা এবার একেবারেই দেখা যাচ্ছে না।

পরিসংখ্যান বিশ্লেषণে দেখা গেছে, এই হিসাবটি কেবল স্প্যানিশ লা লিগা ও ইউরোপিয়ান প্রতিযোগিতার ম্যাচগুলো বিবেচনা করেই তৈরি করা হয়েছে। ২০২২-২৩ ফুটবল মৌসুমে এই দুই টুর্নামেন্ট মিলিয়ে প্রতি নব্বই মিনিটে তিনি গড়ে ৮.৪২টি ড্রিবলিং করতেন, যার মধ্যে সফল ড্রিবলিংয়ের গড় ছিল ৩.৬৭টি। এরপরের প্রতিটি মৌসুমের হিসাবে দেখা যায়, প্রতি নব্বই মিনিটে তাঁর ড্রিবলিংয়ের হার কেবল ক্রমান্বয়ে নিচের দিকেই নেমেছে।

পরের বছর অর্থাৎ ২০২৩-২৪ মৌসুমে এই হার কমে দাঁড়িয়েছিল প্রতি নব্বই মিনিটে ৭.৩৭টিতে, যেখানে সফল প্রচেষ্টার সংখ্যা ছিল ৩.১৫টি। এর পরের মৌসুমে ড্রিবলিংয়ের গড় নেমে আসে ৬.৭০টিতে এবং সফলতার সংখ্যা হয় ২.৮২। ঠিক আগের মৌসুমে এই গড় আরও কমে ৫.৫১টিতে ঠেকে এবং সফল ড্রিবলিং হয় ২.৫৩টি। আর বর্তমান মৌসুমে এই পরিসংখ্যান নেমে এসেছে মাত্র ৪.৩৪টি ড্রিবলে, যার মধ্যে সফলতার হার কেবল ১.৮৬টি।

প্রতিপক্ষের জালে বল জড়ানোর ক্ষেত্রে শট নেওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি প্রক্রিয়া। চলতি মৌসুমে সব ধরনের প্রতিযোগিতামূলক ম্যাচ মিলিয়ে পঁচিশটি শট নিয়ে তিনি মাত্র একটি গোল করতে পেরেছেন। অথচ তাঁর সামনে তৈরি হওয়া সুযোগগুলোর গোল পাওয়ার প্রত্যাশিত মান বা এক্সজি ছিল তাক লাগানোর মতো ৩.১৪, যেখান থেকে মোটে একটি গোল পাওয়া সত্যিই অভাবনীয়। এই তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, তাঁর শট থেকে গোল আদায় করার শতকরা হার অত্যন্ত হতাশাজনক, যা মাত্র ৪.৪ শতাংশ।

এর সোজা অর্থ দাঁড়াচ্ছে, তিনি প্রতি একশোটি শট নিলে চারটির বেশি গোলও আদায় করতে পারবেন না। ইউরোপের শীর্ষ পাঁচটি লিগের যেসব খেলোয়াড় বিশটির বেশি শট নিয়েছেন, তাঁদের সবার সঙ্গে তুলনা করলে এই অনুপাতটি দ্বিতীয় সর্বনিম্ন।

এমন অফ ফর্মের কারণে তারকা ফুটবলার নিজেই নিজের ওপর প্রচণ্ড বিরক্ত হয়ে পড়েছেন। গত বৃহস্পতিবার রাতে মহাদেশীয় টুর্নামেন্টে ইতালিয়ান ক্লাব রোমার বিপক্ষে চার-তিন গোলের ব্যবধানে জেতা ম্যাচের ঊনষাট মিনিটের মাথায় তাঁকে মাঠ থেকে তুলে নেন কোচ জোসে মরিনিও। চলতি মৌসুমে রিয়ালের হয়ে এটিই তাঁর সর্বশেষ ম্যাচ। কোচ তাঁকে বদলি করতে বাধ্য হন কারণ তিনি গোল পাননি, এমনকি কোনো অ্যাসিস্ট বা গোলপোস্টে শট নেওয়ার মতো পরিস্থিতিও তৈরি করতে পারেননি, উল্টো প্রতিটি ড্রিবলিংয়ের সময় প্রতিপক্ষের কাছে আটকে গেছেন। ম্যাচ শেষে তিনি নিজেই স্বীকার করেন যে সেরা ছন্দে না থাকায় তিনি নিজপারের ওপর নিজেই বিরক্ত।

খেলোয়াড়ের এই বিরক্তি যদি এবার কোচের ওপর গিয়ে পড়ে তবে সেটি বড় সংকটের কারণ হতে পারে। যদিও এখন পর্যন্ত তেমন কিছু প্রকাশ্যে আসেনি এবং পর্তুগাল ট্যাকটিশিয়ানের আস্থার জায়গাটিতে তিনি এখনো আছেন। তবে এর বাইরে অন্য কিছু ঘটার সম্ভাবনাও একেবারে উড়িয়ে দেওয়া যায় না।

প্রতিপক্ষ রোমার বিপક્ષের ম্যাচে তাঁর বদলি হিসেবে নামা এনদ্রিক মাঠে নেমেই কোচকে একটি গোল ও একটি অ্যাসিস্ট উপহার দেন। তরুণ এই ব্রাজিলিয়ানের ওপর যে কোচের পূর্ণ ভরসা রয়েছে, তা ম্যাচের আগেই পরিষ্কার করে দিয়েছিলেন মরিনিও। এর ওপর গতকাল স্প্যানিশ লিগে সেভিয়ার বিপক্ষে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স করে ইয়াং দিওমান্দেও মূল একাদশের পজিশনের জন্য চাপ তৈরি করছেন। আইভরি কোস্টের এই উইঙ্গার রিয়ালের হয়ে খেলা সর্বশেষ চার ম্যাচেই হয় গোল করেছেন না হয় গোল করিয়েছেন। সবচেয়ে বড় কথা, তিনি মাঠের দুই উইংয়েই সমান দক্ষতায় খেলতে পারেন।

লিগে চার ম্যাচের নিষেধাজ্ঞার কারণে মূল একাদশের নিয়মিত এই ব্রাজিলিয়ান তারকাকে ছাড়াই সেভিয়ার বিপক্ষে মাঠে নেমে দারুণ খেলেছেন দিওমান্দে। সামনেই রয়েছে এল ক্লাসিকোর মতো হাইভোল্টেজ ম্যাচ, আর এই গুরুত্বপূর্ণ লড়াইয়েও নিষেধাজ্ঞার জাঁতাকলে পড়ে দলের সেরা তারকাকে পাবেন না কোচ। এমন সময়ে প্রতিভাবান এই উইঙ্গার যদি ক্লাসিকো ম্যাচেও নিজের প্রতিভার স্বাক্ষর রাখেন, তবে স্বাভাবিকভাবেই প্রধান ফরোয়ার্ডের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি হবে। শুরুর একাদশে নিজেদের জায়গা ধরে রাখতে বর্তমান দলে যদি তাকে নতুন কারো সঙ্গে লড়াইয়ে নামতে হয়, তবে তা তাঁর ফুটবল ক্যারিয়ারের জন্য কোনোভাবেই ইতিবাচক কিছু বয়ে আনবে না।

তবে বর্তমান বাস্তব চিত্রটি ঠিক এ রকমই রূপ নিয়েছে। গত মৌসুমে ক্লাবের হয়ে প্রতিটি ম্যাচে তাঁর গোল অবদানের হার ছিল গড়ে শূন্য দশমিক ছয়, যেখানে তাঁর মোট গোলের সংখ্যা ছিল বাইশটি এবং সতীর্থদের দিয়ে গোল করানোর সংখ্যা ছিল দশটি। বর্তমান মৌসুমে সেই অবদান কমে নেমে এসেছে শূন্য দশমিক চারে। শুধু কি তাই, ড্রিবলিংয়ের দিক থেকেও তিনি এখন অনেক পেছনে পড়ে গেছেন। মাত্র তেইশটি ড্রিবলিং করেই ক্লাবের হয়ে নিজের প্রথম মৌসুমে এই আইভরিয়ান খেলোয়াড়ের সফলতার হার যেখানে ৬৫.৭ শতাংশ, সেখানে চৌদ্দটি ড্রিবলিং করা বর্তমান তারকার সফলতার হার মাত্র ৪৬.৫ শতাংশ।

সমস্ত পরিসংখ্যান সাক্ষ্য দিচ্ছে যে মাঠের বর্তমান খেলোয়াড় আর আগের সেই পরিচিত তারকা নন। তাঁর রক্তমাংসের শরীরটা ঠিকই আছে, কিন্তু ভেতরে যেন অন্য কেউ এসে বাসা বেঁধেছেন! এখন দেখার বিষয়, কে আবার তাঁর সেই পুরোনো চেনা রূপটি ফিরিয়ে আনতে পারেন।


নিউজটি পোস্ট করেছেন : জাতীয় দৈনিক মুক্ত কণ্ঠস্বর

কমেন্ট বক্স
বিতর্কের মুখে ক্রিস্টি নোয়েমকে বরখাস্ত করলেন ট্রাম্প

বিতর্কের মুখে ক্রিস্টি নোয়েমকে বরখাস্ত করলেন ট্রাম্প