নিজস্ব প্রতিবেদক মুক্ত কণ্ঠস্বর
প্রধানমন্ত্রী কৃষি ও কৃষকের কল্যাণের কথা ভেবে ‘কৃষক কার্ড’ চালু করেছেন। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী আগামী চার বছরের ভেতরে সারা দেশের ২ কোটি ৪০ লাখ কৃষককে এই বিশেষ কৃষক কার্ড দেওয়া হবে।
কৃষি সচিব মো. সেলিম খান এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, এই কার্ড চালুর মূল উদ্দেশ্য হলো কৃষকদের একটি নির্দিষ্ট সমন্বিত তথ্যভান্ডারের আওতায় নিয়ে আসা।
এর মাধ্যমে প্রকৃত কৃষকদের খুব সহজে শনাক্ত করা সম্ভব হবে। পাশাপাশি তাদের চাহিদা অনুযায়ী বিভিন্ন কৃষি উপকরণ এবং আর্থিক সহায়তা পৌঁছে দেওয়া আরও সহজ হবে এবং কৃষিসেবা কার্যক্রম অনেক বেশি সুশৃঙ্খল হবে।
কৃষক কার্ড হাতে পেলে কৃষকেরা মোট ১০ ধরনের সেবা বা সুবিধা ভোগ করতে পারবেন।
এই কার্ডধারীরা অত্যন্ত স্বল্প সুদে কৃষি ঋণ পাওয়ার সুযোগ পাবেন। এছাড়া সেচ সুবিধা, সার, উন্নত বীজ, বিশেষ প্রণোদনা, কৃষি বিমা, আবহাওয়া সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় তথ্য এবং বালাইনাশক ব্যবহারের পরামর্শসহ মোট ১০টি সেবা লাভ করবেন।
কৃষক কার্ড দেওয়ার মাধ্যমে মূলত দেশের কৃষকদের তাদের প্রাপ্য সম্মান প্রদর্শন করা হচ্ছে। একই সঙ্গে সরকার ও রাষ্ট্র সবসময় তাদের পাশে রয়েছে, এই কার্ডটি তারই একটি বাস্তব প্রতিফলন।
কৃষি মন্ত্রণালয়ের কৃষক কার্ড সেলের অতিরিক্ত সচিব মো. ইয়াসীন এই বিষয়ে বিস্তারিত জানিয়েছেন। তার ভাষ্যমতে, এই কর্মসূচির প্রধান লক্ষ্য হলো কৃষকদের সঠিক তথ্য সংরক্ষণ করা এবং তাদের কাছে সরকারি সহায়তা পৌঁছানোর সম্পূর্ণ প্রক্রিয়াটি আরও বেশি সহজ ও ফলপ্রসূ করে তোলা।
এই উদ্দেশ্যে কৃষকদের তথ্য সংগ্রহ করার কাজ চলছে। পাশাপাশি তথ্য যাচাই-বাছাই করা, ব্যাংক অ্যাকাউন্ট বা হিসাব খোলা এবং পর্যায়ক্রমে কার্ড বিতরণের পুরো কার্যক্রমটি অত্যন্ত সমন্বিতভাবে সামনের দিকে এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।
রাকিবুজ্জামান খান জানিয়েছেন, কৃষকদের চাহিদা যেহেতু ঋতু বা মৌসুমের ওপর নির্ভর করে পরিবর্তনশীল, তাই এক্ষেত্রে কিছু চ্যালেঞ্জ তো থেকেই যায়।
তবে একবার একটি সম্পূর্ণ নির্ভরযোগ্য তথ্যভান্ডার তৈরি করা সম্ভব হলে কৃষকদের নিজ নিজ প্রয়োজন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ দেওয়া সহজ হবে।
এছাড়াও আধুনিক কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দেওয়া, উৎপাদনশীলতা বাড়ানো এবং নতুন নতুন কৃষি উদ্যোক্তা তৈরির উদ্যোগ গ্রহণ করা অনেক সহজতর হবে।
তিনি আরও জানান, ইতিমধ্যে মাঠপর্যায়ে থেকে প্রায় ২২ হাজার কৃষকের সুনির্দিষ্ট তথ্য সংগ্রহ করা সম্পন্ন হয়েছে।
কৃষক কার্ড কর্মসূচির সঙ্গে তথ্য ও যাবতীয় কার্যক্রমের সঠিক সমন্বয়ের মাধ্যমে কৃষকদের বিভিন্ন কৃষিসেবার আওতায় আনা যাবে। এর ফলে মাঠপর্যায়ে সরকারের নেওয়া বিভিন্ন উদ্যোগের কার্যকারিতাও বহুগুণ বাড়িয়ে তোলা সম্ভব হবে।
সূত্র: আজকের পত্রিকা
জাতীয় দৈনিক মুক্ত কণ্ঠস্বর