নিজস্ব প্রতিবেদক মুক্ত কণ্ঠস্বর
প্রেমিকার বিচ্ছেদের চেষ্টা রুখতে গিয়ে সিঁড়িতে আঘাত পেয়ে খোঁড়াতে খোঁড়াতে রাস্তায় প্রেমিকার পথ রোধ করে দাঁড়ায় অয়ন। জানালার আড়াল থেকে এই দৃশ্য দেখে ফারিয়া চরিত্রের সাদনিমা বিনতে নোমানের প্রথম মৃদু হাসিই দর্শকের মনে স্থায়ী জায়গা করে নেয়। এই জুটির প্রেমের সূত্রপাত ঘটিয়ে এক বছর আগে ‘গোল্ডফিশ’ নাটকের মাধ্যমে প্রথমবার একসঙ্গে স্ক্রিন শেয়ার করেন খায়রুল বাসার ও সাদনিমা বিনতে নোমান।
পরবর্তীতে ‘বই পোকা’, ‘ভটভটি’ এবং ‘মনডুবি’র মতো ভিন্নধারার নাটকে অভিনয় করলেও মূলত সেরনিয়াবাত শাওন পরিচালিত ‘কাছের কেউ’ নাটকটির মাধ্যমেই দর্শকমহলে জুটি হিসেবে ব্যাপক পরিচিতি পান তারা। এই কাজটিই খায়রুল ও সাদনিমার ক্যারিয়ারের প্রথম কোটি ভিউ পার করা নাটক হিসেবে রেকর্ড গড়ে।
চলতি মাসেই একই নির্মাতার আরেকটি নতুন কাজ ‘তোমার ঠিকানায়’ নাটকের মাধ্যমে আবারও দর্শকমহলের কেন্দ্রবিন্দুতে চলে এসেছেন এই জুটি। অবাক করার বিষয় হলো, মুক্তির মাত্র পাঁচ দিনের মাথাতেই নাটকটির ভিউ সংখ্যা কোটির ঘর পেরিয়ে নতুন মাইলফলক স্পর্শ করেছে।
সাদনিমার সঙ্গে গড়া এই জুটির ধারাবাহিক সাফল্যের নেপথ্য কারণ কী, এমন প্রশ্ন করা হলে মৃদু হেসে অভিনেতা খায়রুল বাসার নিজের মতামত তুলে ধরেন। তিনি বলেন, পরপর দুটি প্রজেক্ট দর্শক এতটা ইতিবাচকভাবে গ্রহণ করবে তা তাদের ধারণার বাইরে ছিল এবং এর মূল চাবিকাঠি লুকিয়ে আছে শক্তিশালী গল্পের ভেতরেই।
নাটকের চিত্রনাট্য ও সংলাপ অত্যন্ত চমৎকার ছিল উল্লেখ করে এই অভিনেতা জানান, তারা কেবল স্ক্রিপ্ট অনুযায়ী নিজেদের সেরাটা ফুটিয়ে তোলার চেষ্টা করেছেন। যখন কোনো নাটকের দুই অভিনয়শিল্পী নিজেদের চরিত্র ও মুহূর্তের গভীরতা অনুধাবন করতে পারেন এবং ঠিকঠাকভাবে তা ক্যামেরার সামনে ফুটিয়ে তোলেন, তখনই একটি পরিপূর্ণ কাজ সফল হয়।
একজন পেশাদার অভিনয়শিল্পীর পাশাপাশি সাধারণ দর্শকের চোখ দিয়েও নিজের কাজগুলো সবসময় মূল্যায়ন করেন খায়রুল বাসার। চিত্রনাট্য হাতে পাওয়ার পর অনেক সময় তিনি দর্শকের দৃষ্টিভঙ্গি থেকে পুরো বিষয়টি বিচার করার চেষ্টা করেন বলে জানান।
অভিজ্ঞতার কথা বলতে গিয়ে এই তরুণ তারকা যোগ করেন যে, দর্শক হিসেবেও তিনি এই কাজগুলোর পুরো যাত্রার সঙ্গে নিজেকে সম্পৃক্ত রাখতে পেরেছিলেন। মূল গল্পের প্রবাহের সঙ্গে তাদের নিজেদের বোঝাপড়াটা বেশ শক্তভাবে তৈরি হয়েছিল বলেই এই সাফল্য এসেছে।
বর্তমান ব্যস্ততা প্রসঙ্গে বাসার জানান যে, অধিকাংশ নাট্যনির্মাতাই এখন ফোন করে এই নতুন জুটিকে নিয়ে কাজ করার জন্য আগ্রহ প্রকাশ করছেন। ইতিমধ্যে তারা বেশ কয়েকটি নতুন নাটকের জন্য সিডিউলও নিশ্চিত করেছেন, যা থেকে স্পষ্ট বোঝা যায় তাদের ঘিরে পরিচালক ও প্রযোজকদের প্রত্যাশা বহুগুণ বেড়ে গেছে।
পরিচালক ও নির্মাতাদের কাছ থেকে কাজের জন্য একের পর এক প্রস্তাব পেলেও তাড়াহুড়ো না করে বেশ দেখেশুনে এবং বাছবিচার করে সামনের দিকে এগিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে সাদনিমা বিনতে নোমানের।
এ প্রসঙ্গে সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এই অভিনেত্রী বলেন, জুটি হিসেবে তাদের আগামী দিনে আরও নতুন কাজ উপহার দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। তবে গতানুগতিক ধারার বাইরে কেবল মানসম্মত ও ভালো গল্প পেলে তবেই তারা পর্দায় ফিরবেন।
তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, বাইরে বের হলে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে যে ভালোবাসা ও সাড়া পাওয়া যায়, তাতেই তাদের নাটক নিয়ে দর্শকদের আকাশছোঁয়া প্রত্যাশার বিষয়টি পরিষ্কার হয়ে ওঠে। দর্শকদের এই আন্তরিক গ্রহণযোগ্যতা ও ভালোবাসা তাকে প্রতিনিয়ত নতুন কাজ করার জন্য গভীরভাবে অনুপ্রাণিত করছে।
নতুন এই জুটিকে নিয়ে নিজের অভিজ্ঞতা ব্যক্ত করতে গিয়ে পরিচালক সেরনিয়াবাত শাওন জানান যে, ক্যারিয়ারের শুরু থেকে তিনি সবসময় প্রতিষ্ঠিত তারকা শিল্পীদের সাথেই কাজ করে অভ্যস্ত ছিলেন। তবে প্রায় ছয় মাস আগে তিনি কিছুটা ঝুঁকি নিয়েই অভিনেতা বাসারের বিপরীতে নবাগতা সাদনিমাকে যুক্ত করার সিদ্ধান্ত নেন।
নতুন এই জুটি পর্দায় কেমন করবে তা নিয়ে নিজের মনের ভেতরে কিছুটা শঙ্কা ও অনিশ্চয়তা কাজ করছিল বলে জানান এই নির্মাতা। তবে বাসারের সঙ্গে সাদনিমার প্রথম শট নেওয়ার মুহূর্তেই তিনি বুঝতে পেরেছিলেন যে মেয়েটির ভেতরে অসাধারণ একজন অভিনেত্রী লুকিয়ে রয়েছে।
পরিচালকের মতে, সাদনিমা অত্যন্ত দ্রুত যেকোনো চরিত্রের মূল ভাব বুঝে ফেলতে পারেন এবং চরিত্রটি ফুটিয়ে তুলতে প্রচুর হোমওয়ার্ক করেন। কাজের প্রতি তার নিখাদ নিষ্ঠা এবং দুজনের সাবলীল অভিনয়ই মূলত দর্শকমন জয় করে নিয়েছে।
বর্তমানে দর্শক মহলে এই নতুন জুটি নিয়ে যেভাবে আগ্রহ বাড়তে শুরু করেছে, তাতে আগামী দিনে এই দুই তারকার শিডিউল পাওয়া বেশ কষ্টসাধ্য হয়ে দাঁড়াবে বলেই মনে করছেন সংশ্লিষ্ট পরিচালক।
আলোচিত ‘কাছের কেউ’ এবং ‘তোমার ঠিকানায়’ নামের এই জনপ্রিয় নাটক দুটি বর্তমানে দর্শকরা উপভোগ করতে পারছেন হিয়া এন্টারটেইনমেন্ট নামের ইউটিউব চ্যানেলে।
জাতীয় দৈনিক মুক্ত কণ্ঠস্বর