নিজস্ব প্রতিবেদক মুক্ত কণ্ঠস্বর
বিসিএস পরীক্ষার প্রস্তুতি অর্জনের ক্ষেত্রে ১০টি বিষয়ের নির্ধারিত সিলেবাস অন্তত দুই থেকে তিনবার রিডিং পড়ার কাজ সম্পন্ন করতে হবে। সিলেবাসের প্রতিটি বিষয় বারবার পড়ার মাধ্যমে প্রার্থীর প্রস্তুতি আরও বেশি শানিত ও মজবুত হয়ে ওঠে।
নিয়মিত পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়ার জন্য একটি নির্দিষ্ট রুটিন তৈরি করা অত্যন্ত জরুরি। দৈনিক ভিত্তিক রুটিন তৈরি না করে মাসব্যাপী রুটিন তৈরি করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
মাসব্যাপী রুটিনের একটি চমৎকার উদাহরণ হলো—আপনার মূল লক্ষ্য থাকবে আগামী তিন মাসের মধ্যে বিসিএস প্রিলিমিনারির ১০টি বিষয়ের সিলেবাস অন্তত একবার রিডিং পড়ে শেষ করা। এই লক্ষ্য বাস্তবায়নের জন্য প্রথম এক মাসের মধ্যে প্রতিটি বইয়ের নির্দিষ্ট ৩৩ শতাংশ পড়া শেষ করার সুনির্দিষ্ট টার্গেট নির্ধারণ করতে হবে।
পড়াশোনা সম্পূর্ণভাবে সিলেবাসভিত্তিক হতে হবে। উদাহরণস্বরূপ, পাটিগণিতে মাত্র ৩ নম্বরের জন্য একজন পরীক্ষার্থীকে সাধারণত ছয়টি ভিন্ন অধ্যায় অনুশীলন করতে হয়।
যে শিক্ষার্থী গণিত বিষয়ে তুলনামূলকভাবে দুর্বল, তিনি চাইলেই একসঙ্গে ছয়টি অধ্যায় অনুশীলন করতে সক্ষম হবেন না। এমন পরিস্থিতিতে ওই শিক্ষার্থী ৩৫তম থেকে ৪৬তম বিসিএসের বিগত প্রশ্নপত্রগুলো ভালোভাবে বিশ্লেষণ করবেন।
প্রশ্ন বিশ্লেষণ করে তিনি জেনে নেবেন যে পাটিগণিতের ছয়টি অধ্যায়ের মধ্যে ঠিক কোন তিনটি অধ্যায় থেকে প্রায় প্রতিবছর নিয়মিত প্রশ্ন হয়ে থাকে।
গণিত প্রথমবার চর্চা করার সময় তিনি কেবল ওই গুরুত্বপূর্ণ তিনটি অধ্যায় অনুশীলন করেই পাটিগণিত অংশের প্রস্তুতি শেষ করবেন। পরবর্তীতে যখন তিনি দ্বিতীয়বার গণিত চর্চা করতে যাবেন, তখন তিনি পূর্বের সঙ্গে আরও একটি নতুন অধ্যায় বাড়িয়ে মোট চারটি অধ্যায় অনুশীলন করবেন।
পড়ার টেবিলে বসার পর যে নির্দিষ্ট টপিক বা বিষয় নিয়ে পড়াশোনা শুরু করবেন, সেটি সম্পূর্ণ শেষ না করে কক্ষণো অন্য কোনো টপিকে যাওয়া যাবে না।
উদাহরণস্বরূপ, আপনি যখন শতকরা অঙ্কের চর্চা শুরু করবেন, তখন সেটি পুরোপুরি শেষ না করে অন্য কোনো নতুন বিষয় বা টপিক পড়তে হাত দেবেন না।
সিলেবাসের নির্ধারিত সকল বই একবার করে সম্পূর্ণ পড়ার কাজ শেষ করার পর বিগত বছরের প্রশ্ন ও তার সমাধানগুলো খুব মনোযোগ দিয়ে পড়া শুরু করতে হবে।
বিগত বিসিএস পরীক্ষা এবং অন্যান্য বিভিন্ন নন-ক্যাডার পরীক্ষার প্রশ্নগুলো একদম মুখস্থ করে ফেলতে হবে। বাকি পড়াগুলো নিয়ম মেনে একবার করে রিডিং পড়ে নিতে হবে।
যে টপিকগুলো সিলেবাসের অন্তর্ভুক্ত নয় এবং বিগত বছরগুলোতে যে টপিক থেকে কোনো ধরনের প্রশ্ন আসেনি, সেগুলোর পেছনে সময় না দিয়ে সেগুলো সরাসরি বাদ দিতে হবে।
সব পড়াশোনা সফলভাবে শেষ করার পর যদি হাতে পর্যাপ্ত সময় অবশিষ্ট থাকে, তবে পুরো সিলেবাসটি আরও একবার রিডিং পড়ে ঝালিয়ে নিতে পারেন।
সূত্র: আজকের পত্রিকা
জাতীয় দৈনিক মুক্ত কণ্ঠস্বর