নিজস্ব প্রতিবেদক মুক্ত কণ্ঠস্বর
শীতের আগমনী বার্তার সঙ্গে সঙ্গে সুদূর প্রান্তর থেকে আসা হাজারো পরিযায়ী পাখির ডানা ঝাপটানো আর কলকাকলিতে এখন মুখরিত হয়ে উঠেছে নাটোরের ঐতিহাসিক চলনবিল। শীতপ্রধান অঞ্চল থেকে আসা এসব অতিথি পাখির উপস্থিতিতে এই বিশাল জলাভূমির জীববৈচিত্র্যে এক অনন্য সুন্দরের সৃষ্টি হয়েছে, যা প্রকৃতিপ্রেমীদের দৃষ্টি আকর্ষণ করছে।
চলনবিল জীববৈচিত্র্য রক্ষা কমিটির সাধারণ সম্পাদক মো. সাইফুল ইসলাম এ প্রসঙ্গে নিজের মতামত তুলে ধরেছেন। তিনি জানিয়েছেন যে, এই অতিথি পাখিগুলো নিরাপদে রাখার জন্য দেশের বিভিন্ন পরিবেশবাদী সংগঠন ইতোমধ্যে নিয়মিতভাবে নানা ধরনের সচেতনতামূলক কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।
তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, এই অঞ্চলে পাখি নিধন পুরোপুরি বন্ধ করার লক্ষ্যে স্থানীয় প্রশাসন নিয়মিতভাবে বিভিন্ন অভিযান পরিচালনা করে আসছে। তবে তার মতে, শুধু আইন প্রয়োগ বা নিয়মিত অভিযান চালালেই সমস্যার স্থায়ী সমাধান পাওয়া সম্ভব নয়।
সাইফুল ইসলামের জোরালো দাবি, পাখিগুলোকে বাঁচাতে হলে তাদের নিরাপদ আবাসস্থল নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি। এর জন্য নির্দিষ্ট জলাভূমিগুলো যথাযথভাবে সংরক্ষণ করা, সব ধরনের শিকার চিরতরে বন্ধ করা এবং পাখিগুলোর জন্য নিরাপদ অভয়াশ্রম গড়ে তোলা একান্ত প্রয়োজন।
অন্যদিকে, প্রকৃতির এই অমূল্য সম্পদ রক্ষায় প্রশাসনিক উদ্যোগের কথাও জানিয়েছেন সিংড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল রিফাত। তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেছেন যে, আমাদের প্রাকৃতিক পরিবেশের ভারসাম্য বজায় রাখার ক্ষেত্রে এই অতিথি পাখিগুলোর ভূমিকা অত্যন্ত অপরিসীম।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা দেশবাসীর প্রতি একটি বিশেষ আহ্বান জানিয়ে বলেন, পাখির গায়ে তীর বা ফাঁদ পাতা নয়, বরং তাদের অবাধ ও নিরাপদ বিচরণ নিশ্চিত করাই হোক আমাদের সকলের মূল অঙ্গীকার।
তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করে আরও জানান যে, সকলে মিলে যদি চলনবিলের এই অনন্য প্রাণবৈচিত্র্য রক্ষা করা সম্ভব হয়, তবে পুরো শীতকাল জুড়েই এই বিস্তীর্ণ জলাভূমি পাখির কলকাকলিতে প্রাণবন্ত ও মুখর হয়ে থাকবে।
সূত্র: আজকের পত্রিকা
জাতীয় দৈনিক মুক্ত কণ্ঠস্বর